'অবৈধদের বাঁচাতে কেউ কেউ আদালতে দাঁড়াচ্ছেন', নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে তীব্র ভর্ৎসনা প্রধানমন্ত্রী মোদীর
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের 'আহ্বান' জানিয়ে রাজ্যের যুব সমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। কারও নাম উল্লেখ না করেও, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চলমান নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়া বিরোধী আবেদনকে কটাক্ষও করেন।
রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন বিশ্বজুড়ে দেশগুলি অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নের চেষ্টা করছে, তখন ভারতে এমন লোক আছে যারা তাদের আদালতে রক্ষা করে। মোদী যোগ করেন, "আপনারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষ নিয়ে আদালতে হাজির হচ্ছেন, যারা আপনাদের নিজেদের মানুষের অধিকার ও চাকরি কেড়ে নিচ্ছে।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বাম দলগুলি বছরের পর বছর ক্ষমতায় থাকলেও কেবল নিজেদের ভান্ডার পূর্ণ করেছে। জনগণের কল্যাণে তারা কোনও কাজ করেনি বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে গত বুধবার (ফেব্রুয়ারি ৪) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের প্রথম ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন। তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ চেয়ে এক পিটিশন দাখিল করেন, যেখানে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গকে 'লক্ষ্যবস্তু' করা হচ্ছে এবং মানুষকে 'জুলুম' করা হচ্ছে।
আদালত মুখ্যমন্ত্রী মমতার আবেদনটি গ্রহণ করে জানায় যে, প্রকৃত নাগরিকদের অবশ্যই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে তার এই আবেদনের জবাব চেয়ে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নোটিশ জারি করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিতে চেয়েছেন। তার দাবি, আধার কার্ডকে পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হোক, বিশেষত 'যৌক্তিক অসঙ্গতি'র ক্ষেত্রে অন্য কোনও নথির উপর জোর না দিয়ে।
তবে বিজেপি মমতার এই আদালতকে 'ফ্লপ নাটক' বলে বিষয়টিকে গুরুত্বহীন করে দেখিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আদালত চত্বরে তিনি একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন। বিজেপি আরও জানায়, তিনি এসআইআর নিয়ে এতটাই 'হাঙ্গামা' করছেন কারণ তিনি জানেন যে, রাজ্যের ক্ষমতায় তার দিনগুলি প্রায় ফুরিয়ে এসেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বিজেপি সদর দফতরে একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "এটা পুরোটাই নাটক ছিল। আদালত তাকে পাঁচ মিনিট কথা বলার অনুমতি দেওয়ার পর তিনি সেখানে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ভাষণ দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাটক ক্যামেরার মাধ্যমে জনমানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। আজ দিল্লির মানুষও তা দেখার সুযোগ পেলেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই শো সম্পূর্ণ ফ্লপ হয়েছে।"












Click it and Unblock the Notifications