বেলজিয়াম পুলিশের হাতে গ্রেফতার মেহুল চোকসি, কিন্তু মনে আছে কি কে এই মেহুল চোকসি?
অবশেষে গ্রেফতার হলেন ১৩,০০০ কোটি টাকার পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) জালিয়াতির মূল অভিযুক্ত ও পলাতক হীরা ব্যবসায়ী মেহুল চোকসি। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির লাগাতার প্রচেষ্টার পর, বেলজিয়াম পুলিশ শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। জানা গেছে, তাঁকে ভারতে প্রত্যর্পণের প্রস্তুতি চলছে।
চোকসির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। তিনি বহুদিন ধরেই অসুস্থ। মনে করা হচ্ছে, সেই সব কারণ দেখিয়ে তাঁকে জামিন দেওয়ার আবেদন করা হতে পারে। তবে, ভারতের পক্ষ থেকে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

এবার একবার ফিরে দেখুন সেই ইতিহাস। কীভাবে লোকমুখে পরিচিত হয়েছিলেন মেহুল চোকসি -
৬৫ বছর বয়সী মেহুল চোকসি একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত হীরা ব্যবসায়ী ও গীতাঞ্জলি গ্রুপের প্রাক্তন কর্ণধার। তিনি ২০১৮ সালে পিএনবির মুম্বইয়ের ব্র্যাডি হাউস শাখায় ঘটে যাওয়া ঋণ জালিয়াতির মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত হন।
এই কেলেঙ্কারিতে তাঁর ভাগ্নে নীরব মোদী, তাঁদের পরিবারের সদস্য, কর্মচারী এবং বেশ কিছু ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। ১৩ হাজার কোটি টাকা কম কথা নয়, এই এত বিশাল পরিমাণ টাকার জালিয়াতির সাথে নাম জড়ায় তাঁর।
এই ঘটনার পর চোকসি ২০১৭ সালেই অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, যেখানে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। ২০২১ সালে তিনি বিতর্কিতভাবে ডোমিনিকায় গ্রেফতার হন এবং দাবি করেন যে ভারতীয় এজেন্টরা তাঁকে অপহরণ করেছে।
ভারত ইতিমধ্যেই ২৬/১১ হামলার মূল চক্রী তাহাউর রানাকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মেহুল চোকসির প্রত্যর্পণও কি এবার সফল হবে? ভারতীয় বিচারব্যবস্থার সামনে এখন সেই বড় চ্যালেঞ্জ। যাবতীয় পথ অবলম্বন করে ভারতের এখন মূল লক্ষ্য মেহুল চোকসিকে দেশে ফিরিয়ে আনা।
সিবিআই এবং ইডি-সহ ভারতীয় সংস্থাগুলি গত দুই মাস ধরে বেলজিয়ামের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রেখে চলছিল। সেই চেষ্টারই ফলস্বরূপ চোকসিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আপাতত, অপেক্ষা শুধু তাঁর দেশে ফিরে আসার। চোকসির আইনজীবী সর্বাধিক চেষ্টা করবে তাঁকে বেলজিয়ামে রেখে দেওয়ার, কিন্তু ভারতেরও পূর্ণ চেষ্টা থাকবে দেশের অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনার।












Click it and Unblock the Notifications