মোদীর লাদাখ সীমান্ত নিয়ে উক্তি বিতর্কে ঘৃতাহুতি মনমোহনের! ঘরেই জেরবার কেন্দ্রীয় সরকার
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'ভারতে চিনা বাহিনী প্রবেশ করেনি' মন্তব্য ঘিরে বিরোধী পক্ষের তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে কেন্দ্র। এবার সেই বিতর্কের আগুনে ঘৃতাহুতি দিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা মনমোহন সিং। মোদীর সেদিনের বক্তব্য নিয়ে এদিন কড়া সমালোচনা করেন মনমোহন।

মোদীকে দুষলেন মনমোহন সিং
চিন-ভারত সংঘাত নিয়ে সরাসরি মোদীকে দুষলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তিনি একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, 'আমরা সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ভুল তথ্য কখনই কূটনীতি ও নির্ণায়ক নেতৃত্বের বিকল্প হতে পারে না। মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে কখনই সত্যকে চেপে রাখা যায় না। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলছি, তিনি কী বলছেন, তার তাৎপর্য যেন মাথায় রাখেন।'

জওয়ানদের আত্মত্যাগের কথা যেন মাথায় রাখেন মোদী
তিনি আরও বলেন, 'কর্নেল সন্তোষ বাবু ও আমাদের জওয়ানদের আত্মত্যাগের কথা যেন তিনি মাথায় রাখেন এবং সর্বশক্তি দিয়ে দেশের ভূখণ্ড রক্ষা করেন। তার কম কিছু করা মানে দেশের লোকের বিশ্বাসের প্রতি ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভুলকেই কাজে লাগাচ্ছে বেজিং।'

কংগ্রেসের তরফ থেকে একের পর এক প্রশ্ন বাণ
এর আগে এই মোদীর উক্তি প্রসঙ্গে কংগ্রেসের তরফ থেকে একের পর এক প্রশ্ন বাণে জর্জরিত করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারকে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রশ্ন তোলা হয়, যদি চিনা বাহিনী ভারতে প্রবেশ না করে, তাহলে ভারতীয় জওয়ানদের মৃত্যু হল কী করে? বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের তরফ থেকে জানানো হয়, ১৫ জুন লাদাখে চিনের তরফ থেকে সীমান্ত লঙ্ঘনের যে প্রচেষ্টা করা হয়েছিল, তা ভারতীয় সেনা জওয়ানরা রুখে দিয়েছিল।

লাদাখ ইস্যু নিয়ে প্রথম থেকেই সরব রাহুল গান্ধী
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, পি চিদম্বরম সহ অনেক বিরোধী নেতা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশ মন্ত্রী জয়শংকর এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী গালওয়ান সংঘর্ষ নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত এবং বিভ্রান্তিকর।

বিতর্ক ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা
এদিকে মোদীর বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অফিসের তরফে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বীর জওয়ানরা যখন সীমান্ত রক্ষা করছে, তখন দুর্ভাগ্যবশত তাদের মনোবল কমাতে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications