খোলস ছেড়ে বেরোলেন ‘নেতা’! বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমি নয়, তৃণমূলকে নয় বিরোধী পরিসর
২০১৮-য় হঠাৎ আসা গেরুয়া ঝড়ে মানিক সরকারের তাজ উড়ে গিয়েছিল। বিগত তিন বছর ধরে ত্রিপুরায় বিজেপির রাজ চলেছে। এবার বাংলায় বিজেপির শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল যখন পা রেখেছে প্রতিবেশী ত্রিপুরায়, তখনই খোলস ছেড়ে বেরোলেন নেতা।
২০১৮-য় হঠাৎ আসা গেরুয়া ঝড়ে মানিক সরকারের তাজ উড়ে গিয়েছিল। বিগত তিন বছর ধরে ত্রিপুরায় বিজেপির রাজ চলেছে। এবার বাংলায় বিজেপির শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল যখন পা রেখেছে প্রতিবেশী ত্রিপুরায়, তখনই খোলস ছেড়ে বেরোলেন নেতা। মানিক সরকার বুঝিয়ে দিলেন নেতা 'কারে কয়'।

ধোপদুরস্ত সাদা পাজামা-পাঞ্জাবিতে আপাদমস্তক ভদ্রলোক মানিক সরকার বুঝিয়ে দিলেন তিনি যেমন শাসক ছিলেন, বিরোধী দলনেতার ভূমিকা পালন করতেও তিনি জানেন। জানেন আন্দোলনকে শিখরে পৌঁছে দিতে। বাংলায় সিপিএম কোণঠাসা হয়ে গেলেও ত্রিপুরায় তিনি বিনা যুদ্ধে বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমিও দেবেন না। জমি দেবেন না তৃণমূলকেও।
মানিক সরকার ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রিত্ব সামলেছেন দীর্ঘদিন। তিনি পলিটব্যুরোর সদস্য। তাঁর ফেস-ভ্যালুও ত্রিপুরার মাটিতে কম নয়। এদিন তিনি দেখালেন নিজেকে পরিবর্তন করেন পলিটব্যুরোর সদস্যের আভিজাত্য দূরে সরিয়ে কীভাবেব বিরোধী দলনেতা হয়ে উঠতে হয়। কীভাবে প্রতিরোধের রাস্তা তৈরি করতে হয়। রাস্তায় নেমে আদর্শ নেতার মতো তিনি নেতৃত্ব দিলেন।
এদিনের নেতৃত্বে সিপিএম নেতা মানিক সরকার বুঝিয়ে দিলেন মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে জানেন। মানুষকে সঙ্গে নিয়েই ২০২৩-এ লড়াই হবে। তার গৌরচন্দ্রিকা করে দিলেন এদিন প্রতিরোধ আন্দোলনের মঞ্চ থেকেই। ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হওয়ার পর ২০১৯ সালের মাঝামাঝি একবার তিনি এমনই এক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তারপর সেই জোশ কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল। এদিন আবার তা ফিরে এল দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর।
ত্রিপুরার মানিক সরকারেকে দেখে ধন্য ধন্য করছেন বাংলার সিপিএম নেতারাও। নেতা হতে হবে এমনই। এদিন মানিকবাবুর মেজাজ, শরীরী ভাষা বুঝিয়ে দিচ্ছিল তিনি শাসক হিসেবে যেমন পরিমার্জিত ছিলেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে তেমনই ক্ষিপ্র, তেমনই শালীন। প্রতিবাদ আন্দোলনের রাশ ধরে রাখলেন আগাগোড়া। পুলিশের বিরুদ্ধে তিনি যেমন ক্ষিপ্রতা দেখিয়েছেন, তেমনইভাবে সামলেছেন তাঁর দলের নেতাদের।
ত্রিপুরায় বিগত দেড়-দুমাস ধরে তৃণমূল বনাম বিজেপির দ্বৈরথ চলছিল। কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন প্রধান বিরোধী দল সিপিএম। আবার তাদের উদয় হল ত্রিপুরার মাটিতে। প্রতিরোধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সিপিএম ফের জানিয়ে দিল তারা রয়েছেন ত্রিপুরায় মাটিতে। রয়েছেন বিরোধী পরিসরে অনেক বড় জায়গা নিয়ে। এদিনের আন্দোলনে সিপিএম প্রমাণ করল তৃণমূলকে তারা বিরোধী পরিসর ছাড়তে রাজি নয়. আর বিজেপিকে বার্তা দিল মানুষকে নিয়ে তাঁরাই ফিরবেন ক্ষমতায়। বিজেপির আটকানোর ক্ষমতা নেই।












Click it and Unblock the Notifications