হাদি হত্যাকাণ্ডে বড় সাফল্য, বনগাঁ সীমান্ত থেকে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও সহযোগী আলমগীর গ্রেপ্তার
বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল মাসুদ করিমকে বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। একই অভিযানে ধরা পড়েছে তার সহযোগী ও সহঅভিযুক্ত আলমগীর শেখও।
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি গোপন আস্তানায় লুকিয়ে ছিলেন দুই অভিযুক্ত। খবর ছিল, বাংলাদেশে তোলাবাজি ও খুনের ঘটনায় জড়িত এই দুই ব্যক্তি সুযোগ পেলেই সীমান্ত পেরিয়ে আবার বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হাদি হত্যাকাণ্ডে যে চার্জশিট দাখিল করেছিল, তাতে ফয়সাল ও আলমগীরকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। শনিবার গভীর রাতে এই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে, ওসমান হাদিকে হত্যার পর অবৈধ পথে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে তারা। পরে তারা বনগাঁ এলাকায় এসে আত্মগোপন করে। পরিকল্পনা ছিল পরিস্থিতি শান্ত হলে ফের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার। কিন্তু তার আগেই এসটিএফের জালে ধরা পড়ে তারা।
এই ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আদালতে পেশ করার পর তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপ হাইকমিশন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পাশাপাশি ধৃতদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য 'কনস্যুলার অ্যাকসেস' এর আবেদন জানিয়ে নয়াদিল্লির কাছেও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ৩২ বছর বয়সি তরুণ নেতা ওসমান হাদিকে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ও বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
সেই সময় বাংলাদেশের তদন্তকারীরা দাবি করেছিলেন, হাদি হত্যার অন্যতম অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। যদিও তখন সেই দাবি অস্বীকার করেছিল বিএসএফ ও মেঘালয় পুলিশও জানিয়েছিল, তার কোনও স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে অবশেষে বনগাঁ সীমান্ত থেকে ফয়সালের গ্রেপ্তারি নতুন করে সেই ঘটনার জট খুলতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল।












Click it and Unblock the Notifications