বড় শহরগুলির মধ্যে বেঙ্গালুরুতে করোনা সংক্রমণ অনেকটাই কম, আসল কারণ জানেন কী
বড় শহরগুলির মধ্যে বেঙ্গালুরুতে করোনা সংক্রমণ অনেকটাই কম, আসল কারণ জানেন কী
প্রায় ১ কোটি জনসংখ্যা নিয়েও বেঙ্গালুরুতে করোনা সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কম। বেঙ্গালুরুতে এখনও পর্যন্ত করোনা পজিটিভ ৮২৭ জনের খোঁজ পাওয়া গেছে। এই শহরে মৃতের সংখ্যা মাত্র ৪৩। যেখানে মুম্বইতে করোনায় আক্রান্ত ৬০,২২৮ এবং মৃত ৩,১৬৭, দিল্লিতে আক্রান্ত ৪৪,৬৮৮ এবং মৃত ১,৮৩৭, এছাড়াও চেন্নাইতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪,২৪৫ এবং মৃত ৪২২ জন। অর্থাৎ দেশের বড় শহরগুলিতে করোনা সংক্রমণের নিরিখে বেঙ্গালুরুতে সংক্রমণের হার অনেকটাই কম।

কীভাবে ভাইরাস ঠেকাতে সক্ষম হল বেঙ্গালুরু?
বেঙ্গালুরুর সাফল্যের কারণ হিসেবে মহামারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পজিটিভ কেস গুলি সনাক্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দ্রুত পৃথক করার ব্যবস্থা করে চিকিৎসা শুরু করার পদ্ধতি ভীষণ ভাবে কার্যকরী হয়েছে। এছাড়াও, ইতিবাচক ঘটনাগুলি সনাক্ত করে, তাদের যোগাযোগ দ্রুত চিহ্নিত করার উপরেও জোর দিয়েছে এই শহরের পৌর কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য ও নাগরিক আধিকারিকরা।

অধিক করোনা পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইনে যথাযথ দেখভাল
বেঙ্গালুরু মডেলের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, সংক্রামক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শীঘ্র সনাক্ত করে তাদের চিকিৎসা শুরু করা, যা অন্য শহর এতটা গুরুত্বের সাথে করে উঠতে পারেনি, এমনটাই জানিয়েছেন আইসিএমআর জাতীয় টাস্ক ফোর্স দ্বারা গঠিত মহামারী বিজ্ঞান, নজরদারি ও গবেষণা দলের সদস্য ডঃ গিরিধর বাবু।

বেঙ্গালুরুতে শিথিল হয়েছে লকডাউন, সংক্রমণের হার উর্ধ্বমুখী
যদিও বেঙ্গালুরু এখন রোগ নিয়ন্ত্রণে অনেক বেশি মনোনিবেশ করেছে। লকডাউন শিথিল হওয়ার সাথে সাথে তাদের লক্ষ্য কার্যকরী ভাবে করোনা পরীক্ষা ও ট্র্যাকিং প্রোগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রমণের সংখ্যা কম হলেও গ্রাফ উর্ধ্বমুখী ৮ই মার্চ থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত সময়কালে যেখানে মাত্র ৩৫৮জন আক্রান্ত এবং ১০ জন মারা গিয়েছিল, ইতিমধ্যে ১লা জুন থেকে ১৭ই জুন অবধি মোট ৪৯৬ জন সংক্রামিত হয়েছে, মৃত ৩৩ জন এবং আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আরও ৩৬জন।

অনেক আগে থেকেই বেঙ্গালুরুতে বন্ধ হয়েছিল বাজার হাট
বিবিএমপি'র চিফ হেলথ অফিসার ডাঃ বি কে বিজেন্দ্রর মতে, লকডাউনের প্রথমেই কড়াকড়ির ও কঠিন নজরদারির সাথে বড় বাজার, দোকানপাট বন্ধ করা হয়েছিল যা ভাইরাস রুখতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু, চেন্নাইয়ের বাজার রোগ ছড়ানোর পর বন্ধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়াও, সামাজিক দূরত্ব বজায়, গর্ভবতী মহিলা ও বৃদ্ধদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়াও হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications