ভারতের এই মন্দিরে কি সত্যিই লুকিয়ে রয়েছে কোনও মহাজাগতিক রহস্য! চাঁদের মাটি ঘিরে কোন জল্পনা
ভারতের এই মন্দিরে কি সত্যিই লুকিয়ে রয়েছে কোনও মহাজাগতিক রহস্য! চাঁদের মাটি ঘিরে কোন জল্পনা
এই মাটি ঘিরে বহু রহস্য যুগ যুগান্ত ধরে নানান বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাস্থল তামিলনাড়ু। সেখানের নামাক্কাল নামক এক জায়গায় ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানচর্চা কেন্দ্র ইসরো খুঁজে পায় এমন এক মাটি যার সঙ্গে ঘরানায় কিছুটা মিল রয়েছে চাঁদের মাটির। ঘটনাক্রম, এখানেই শেষ নয়। অন্য আরেকদিকের ঘটনা বলছে, এই নামাক্কালের এক মহালক্ষ্মীদেবী মন্দিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিবাহিত করেছেন গণিতবিদ শ্রীনিবাস আয়ঙ্গর রামানুজন। যাঁর অমর সৃষ্টি অবাক করছে বহু গণিতজ্ঞকে। আর সেই রামানুজন নিজের ৩৯০০ টি গাণিতিক ফর্মুলার কৃতিত্ব দিয়েছেন নিজের ইষ্টদেবী মহালক্ষ্মীকে। কী রয়েছে এই মহালক্ষ্মীদেবীর মন্দিরে দেখে নেওয়া যাক।

নামাগিরি থাইয়ার
পর্যটকদের কাছে বহু যুগ ধরেই গণিতবিদ রামানুজের এই মন্দির আকর্ষণের বিষয় হয়েছে। করোনাকালের আগে যাঁরা এই মন্দিরে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের মতে এই মন্দির দেখার তিনটি জায়গা রয়েছে। নামাগিরি থাইয়ার নামক এই মন্দিরে রয়েছে অঞ্জনেয়, নরসিমহা স্বামী ও মহালক্ষ্মীদেবীর মন্দির। এই মন্দিরের মধ্যে মহালক্ষ্মীদেবীর মন্দিরে দিনের একটা বড় অংশ রামানুজন কাটাতেন বলে তিনি নিজে দাবি করেন বহু পত্রপত্রিকায়। তিনি জানিয়েছিলেন যে, স্বয়ং দেবী তাঁর কাছে এসে গাণিতিক বিভিন্ন জটিল ফর্মুলা জানান দেন। এর থেকেই প্রশ্ন ওঠে এই মহানগণিতবিদের সঙ্গে সম্পর্কিত এই পূণ্যভূমি কি সত্যিই কোনও মহাজাগতিক ক্ষমতার অধিকারী?

ইসরো কি খুঁজে পেয়েছে?
'দ্য টেম্পলসায়ান্স ব্লগস্পট' এর তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর নামাক্কালের মাটি পরীক্ষা করে ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞানচর্চা কেন্দ্র ইসরো পেয়ে যায় তার কাঙ্খিত জিনিসটি! যখন চাঁদের মাটিতে ভারত নিজের মহাকাশযান পাঠানোর জন্য পরিকল্পনা , প্রকল্প শুরু করেছে, তখন ইসরো এমন মাটি খুঁজছিল যেখানে চাঁদের মাটির সঙ্গে সাজুয্য থাকবে। ফলে চন্দ্রযান অবতরণের ক্ষেত্রে কিছু পরীক্ষা দেশের মাটিতেই করা যেতে পারে। চাহিদা অনুযায়ী, ইসরো তামিলনাড়ুর নামাক্কালেই পেয়ে যায় সেই মাটি।আর এই নামাক্কাল গণিতবিদ রামানুজনের আরাধ্য দেবী মহালক্ষ্মীর মন্দির রয়েছে। দুটি ঘটনা কোথাও গিয়ে বহু জল্পনার উদ্রেক করেছে বলে অনেকের বিশ্বাস।

বিজ্ঞানীরা কী বলছেন?
যখন নামাক্কালের মাটির সঙ্গে চাঁদের মাটির মিল পাওয়া গেল, তখন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী আন্না মাদুরাই বলেন, ' পৃথিবী ও চাঁদের ত্বক আলাদা। তাই আমাদের কৃত্রিমভাবে তা তৈরি করতে হয়। যাতে রোভার আর ল্যান্ডারের টেস্ট করা যায়।' উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর কুন্নামালাই গ্রাম থেকে এক ধরনের এনোর্থোসাইট নিয়ে এসে ইসরো মাটি তৈরির চেষ্টা করে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃত্রিম মাটি আনতে গেলে তা ৬০ থেকে ৭০ টন লাগত। যার খরচ বিশাল পরিমাণ হয়ে যেত। জানা যায়, তামিলনাড়ুর সালেমের কাছেই নামাক্কালে এমন মাটি মেলে । 'আনন্দবাজার' প্রকাশিত এক রিপোর্ট এমনই তথ্য দিচ্ছে। সেখানে বলা হচ্ছে, এই ধরনের মাটি ভূপৃষ্ঠে সচরাচর দেখা যায় না। এনোর্থোসাইট এরপর ভেঙে তৈরি হয় চাঁদের মাটির মতো একটি মাটি।

কীভাবে মিল বের করা হয়?
তথ্য বলছে, আমেরিকা তাদের বিভিন্ন মহাকাশ যাত্রা অ্যাপোলো অভিযানে, চাঁদের মাটির এনোর্থেসাইট পৃথিবীতে নিয়ে আসে। আর তা পরীক্ষা করে দেখা যায় যে এই মাটির ঘরানা পৃথিবীর থেকে আলাদা। সাধরাণত যা চাঁদের কলঙ্ক বলে মনে করা হয়, তার সমস্ত জায়গাতেই রয়েছে এই মাটি। জানা যায়, যেখানে পৃথিবীতে ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা উঠে এসেছে সেখানে এমন এনোর্থোসাইট পাওয়া যায়। আর সেই বিরল মাটির একটি অংশ রয়েছে গণিতবিদ রামানুজনের আরাধ্যদেবীর মন্দিরের কাছে।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications