'ইন্দিরা গান্ধী দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েই সরিয়েছিলেন বাবাকে'! নিজের বদলে যাওয়া জীবনকে স্মরণ জয়শঙ্করের
দেশের মানুষ সরকার বদল দেখে থাকে। কিন্তু পিছনে অনেক আমলার ওপরেও যে প্রভাব পড়ে, তা সামনে আনলেন বর্তমান বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি এব্যাপারে নিজের বাবার কথা বলেছেন। পাশাপাশি সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের কথাও জানিয়েছেন।
তিনি দেশের বিদেশমন্ত্রী। একেবারে বিদেশ সচিব থেকে বিদেশমন্ত্রী হওয়া ব্যতিক্রমীদের মধ্যে ব্যতিক্রম তিনি। মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে অনেক বিষয়ে খোলামেলা উত্তর দিয়েছেন এস জয়শঙ্কর। নিজের বাবার কথাও স্মরণ করেছেন। বাবা ছিলেন ক্যাবিনেট সচিব। তবে ইন্দিরা গান্ধী দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই অর্থাৎ ১৯৮০ সালে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন ডক্টর কে সুব্রামানিয়ামকে।

আশা পূরণ হয়েছে
সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর বলেছেন, তিনি সবসময় বিদেশ সচিব হয়ে চেয়েছিলেন। তাঁর কাছে বিদেশ সচিব হওয়া ছিল শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের সংজ্ঞা। এককথায় তিনি আমলা পরিবারের সন্তান। বাবা-দাদার মিতো তিনিই সচিব। ২০১৫-র জানুয়ারি থেকে ২০১৮-র জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিদেশ সচিবের পদ সামলেছেন এস জয়শঙ্কর। তবে কে সুব্রামানিয়াম মারা যান ২০১১ সালে। তিনি ছেলের সচিব হওয়া দেখে যেতে পারেননি। তবে তিনি নিজের লক্ষ্য পূরণ করেছেন বলেই জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।

বাবা ছিলেন ক্যাবিনেট সচিব
জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, বাবা ছিলেন ক্যাবিনেট সচিব। ১৯৭৯ সালে জনতা দলের নেতৃত্বাধীন সরকারে সর্বকনিষ্ঠ সচিব ছিলেন কে সুব্রামানিয়াম। কিন্তু ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই বাবাকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কে সুব্রামানিয়ামই প্রথম সচিব যাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয় বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। কেন সরিয়ে দেওয়া হয়, এই প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর বলেছেন হয়ত বাবা নীতির মানুষ ছিলেন, সেই কারণেই হয়ত সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে তিনি তা জানেন না বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।

দায়িত্ব পাননি রাজীব গান্ধীর সময়েও
পরে রাজীব গান্ধীর সময়েই কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি কে সুব্রামানিয়ামকে। বাবার থেকে এক জুনিয়ার অফিসারকে রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ে ক্যাবিনেট সচিব করা হয়েছিল। এই বিষয়টি তাঁকে খুবই কষ্ট দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন এস জয়শঙ্করকে। তবে বাবা নিজের বিষয় নিয়ে তেমন কথা বলতেন না। তাঁর (জয়শঙ্কর) বড় ভাই সচিব হওয়ার পরে খুশিই হয়েছিলেন কে সুব্রামানিয়াম। তবে বাবা কী চান, তাঁর (জয়শঙ্কর) কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

তৈরি ছিলেন না রাজনৈতিক সুযোগের জন্য
তাঁর জীবনে যে রাজনৈতিক সুযোগ এসেছে, তা নিয়ে তৈরি ছিলেন না একেবারেই, জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। ২০১৯ তাঁকে বিদেশ মন্ত্রী করতে চেয়ে ফোন করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী, জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। প্রধানমন্ত্রী বসেছিলেন মন্ত্রিসভায় অংশ নিতে হবে। আর দায়িত্ব পাওয়ার পরে তা কতটা পালন করতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications