ফ্রান্স-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে হাত মেলাবে ভারত! চিনের ঘুম কেড়ে নিয়ে চলবে যৌথ নৌমহড়া
এবার ইন্দো-প্যাসিফিক এলাকায় নিজেদের জমি আরও শক্ত করতে ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে যৌথ নৌমহড়ায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারত। বর্তমানে সেই এলাকায় চিনা নৌসেনার প্রভাব কাটিয়ে উঠে সেখানে সুপারপাওয়ার হওয়ার লক্ষ্যেই ভারতের এই পদক্ষেপ হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

চিনকে শায়েস্তা করতে একযোগ বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলি
ইতিমধ্যেই বিস্তারবাদী মনোভাব পোষণ করা চিনকে শায়েস্তা করতে বিশ্বের বেশ কিছু শক্তিশালী দেশ হাত মেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিনের আগ্রাসী নীতির পাল্টা দিতে বর্তমানে আসিয়ান দেশগুলি সহ একে অপরের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে আমেরিকা, জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া।

ভারত মহাসাগরে শক্তি বাড়াতে দেখা গিয়েছে চিনা নৌবাহিনীকে
এদিকে ইতিমধ্যেই ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অংশ শক্তি বাড়াতে দেখা গিয়েছে চিনা নৌবাহিনীকে। সূত্রের খবর, গত কয়েকদিনে লাল-ফৌজের নৌ-বাহিনীর বিস্তর গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ভারত মহাসাগরের। বেশ কিছু চিনা সাবমেরিনের গতিবিধিও নজরে পড়েছে। পূর্ব চিন সাগর, দক্ষিণ চিন সাগরের একটা বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্রমেই আরও আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে চিনা নৌবাহিনী।

আন্দামান সাগরে যৌথ নৌ মহড়া চালায় ভারত ও রাশিয়া
এই আবহে চলিত মাসের শুরুর দিকেই আন্দামান সাগরে যৌথ নৌ মহড়া চালাল ভারত ও রাশিয়া। দুই দিনের এই মহড়ার আজ দ্বিতীয় দিন। বঙ্গোপসাগরের মালাক্কা প্রণালীর কাছে এই মহড়া চালো হয় বলে জানা গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে মালাক্কা প্রণালীর কাছেই এই মহড়া চিনকে কড়া বার্তা হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।

চতুর্দেশীয় জোট তৈরি হচ্ছে
এদিকে ভারত, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে চিন বিরোধী একটি গোষ্ঠী বা চতুর্দেশীয় জোট তৈরি হচ্ছে। এছাড়া আন্দামান সাগরে আমেরিকা ও জাপানের সঙ্গে নভেম্বর মাসে মালাবার নৌ মহড়া চালাবে ভারতীয় নৌবাহিনী। এরই মাঝে ফ্রান্স এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পৃথক নৌমহড়ার পরিকল্পনার মূল লক্ষ্যই হল, চিনের বিরুদ্ধ জোটকে আরও সঙ্গবদ্ধ করা।

বন্ধুত্ব ঝালিয়ে নেওয়ার অন্যতম সুযোগ তৈরি
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে ফ্রান্স এবং অস্ট্রেলিয়া, উভয় দেশের সঙ্গেই ভারত নিজেদের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন প্রায় গোটা বিশ্ব চিনের বিরুদ্ধে, তখন সেই আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের এই শক্তিশালী দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্ব ঝালিয়ে নেওয়ার অন্যতম সুযোগ তৈরি হবে এই নৌমহড়ায়।

চিনকে চাপে রাখতে ভারতের কৌশল
তাছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মনে করেন যে চিনকে চাপে রাখতে নৌবাহিনীকে শক্ত সামর্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি। লাদাখ নিয়ে চিনের কূমতলবকে শায়েস্তা করতে ভারত পাল্টা চাল দিতে পারে প্যাসিফিক কিংবা ভারতীয় মহাসাগর এলাকায়। এমনিতেও চিন এই সব এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে। বিআরও থেকে শুরু করে বিভিন্ন বন্দর লিজ নেওয়া। সেই সব চালকে ভোঁতা করতে তাই ভারতের নৌশক্তি প্রদর্শন খুব প্রয়োজন।












Click it and Unblock the Notifications