Coromandel Express accident: লাশের ভিড়ে জীবিত ছেলেকে খুঁজে পেলেন! হেলারামের কাহিনী চোখে জল আনবেই
Coromandel Express accident: পরপর তিনটি ট্রেনের ধাক্কায় মুহূর্তেই শ্মশানের চেহারা নেয় আস্ত একটা ট্রেন। একের ( Odisha Train Accident) পর এক মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় ওড়িশার বিভিন্ন মর্গে। বাংলার বহু পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনহারার ক্ষত এখনও দগদগে।
তবে নিজের সন্তানের মৃত্যুর খবর কোনওমতেই মানতে পারেননি হাওড়ার ব্যবসায়ী হেলারাম। ছেলে বেঁচে নেই, ফোনে একথা শুনেও বিশ্বাস করেননি তিনি। আত্মীয়কে নিয়ে শুক্রবার রাতেই ছুটে যান বালেশ্বরে। তাঁর অদম্য জেদ আর মনের জোরেই কার্যত প্রাণ বাঁচে ছেলের।

কথায় আছে, রাখে হরি, মারে কে! এ যেন তারই বাস্তব প্রতিফলন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বালেশ্বরে ট্রেন দুর্ঘটনার পর উদ্বেগ নিয়ে ফোনের পর ফোন করতে থাকেন হেলারাম। খবর আসে তাঁর ২৪ বছরের ছেলের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সে কথা কিছুতেই বিশ্বাস করেননি তিনি।
নিজের শ্যালককে সঙ্গে নিয়ে ও একটি অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে সেই রাতেই তিনি রওনা হন বালেশ্বরের দিকে। কিন্তু কোথায় তাঁর সন্তান? খুঁজতে খুঁজতেই অনেকটা সময় চলে যায়। এই হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতাল যখন তাঁরা হন্যে হয়ে খুঁজছেন, তখন তাঁদের কেউ একজন পরামর্শ দেন নিকটবর্তী হাইস্কুলে যাওয়ার জন্য। বলা হয়, সেখানেই মৃতদেহগুলি রাখা আছে।
সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, একজনের দেহে নড়াচড়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। এরপরই দেখা যায়, মেঝেতে শোয়ানো রয়েছে হেলারামের ছেলে বিশ্বজিৎ মালিক। দেখা যায়, তাঁর শরীরে ক্ষত চিহ্ন ভর্তি। জ্ঞানও নেই বিশ্বজিতের। সঙ্গে সঙ্গে কটকের হাসপাতালে নিয়ে যান হেলারাম।

তারপর পরিস্থিতি বুঝে তাঁকে সেখান থেকে বের করে আনেন। সোজা চলে আসেন কলকাতার দিকে। গাড়িতে করে তাঁকে নিয়ে যান কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন বিশ্বজিৎ। অ্যাম্বুল্যান্সের চালক জানান, পুরো রাস্তাতেই জ্ঞান ফেরেনি বিশ্বজিতের।
হেলারামের মনের জোরেই যে ফিরে এসেছেন তাঁর সন্তান, এ কথা স্বীকার করছেন প্রত্যেকেই। তবে এখনও ওড়িশার বিভিন্ন হাসপাতালে এমন অনের দেহ পড়ে রয়েছে, যা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications