গতকাল রাত থেকে মুম্বইয়ে ভারী বৃষ্টি, বন্ধ ট্রেন–অফিস, লাল সতর্কতা জারি বাণিজ্য নগরীতে
গতকাল রাত থেকে মুম্বইয়ে ভারী বৃষ্টি, বন্ধ ট্রেন–অফিস, লাল সতর্কতা জারি বাণিজ্য নগরীতে
গতকাল রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টির জেরে মুম্বইয়ের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। যার জন্য মুম্বইয়ের ২০ মিলিয়ন বাসিন্দাদের জীবনরেখা লোকাল ট্রেন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে শহরে এবং জরুরি পরিষেবা ব্যতীত সব দপ্তর মঙ্গলবার বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

বাণিজ্য নগরী সহ বেশ কিছু প্রতিবেশী জেলায় চূড়ান্ত ভারী বৃষ্টিপাতের লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার এই ভারী বৃষ্টি হবে বলে জানা গিয়েছে। মুম্বই ছাড়াও থানে, পুনে, রায়গড় ও রত্নাগিরি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী আদিত্য ঠাকরে টুইট করে বলেছেন, 'বাড়িতেই থাকুন! আমরা পরিস্থিতির ওপর পর্যবেক্ষড় করছি এবং বিএমসি সর্বক্ষণ কাজ করে চলেছে। দয়া করে সহযোগিতা করুন এবং বাড়িতে থাকুন।’ মুম্বইয়ের বৃষ্টি নিয়ে দশটি আপডেট রইল।
১) মুম্বইয়ের পুরনিগম জানিয়েছে, জরুরি পরিষেবা বাদে শহরের সব দপ্তরই মঙ্গলবার বন্ধ রাখা হবে। বিএমসির পক্ষ থেকে টুইট করে বলা হয়েছে, 'গতরাত থেকে হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত ও আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী মঙ্গলবারও বৃষ্টি চলবে মুম্বই ও তার আশপাশের অঞ্চলে। তাই জরুরি পরিষেবা সহ মুম্বইয়ের সব অফিস বন্ধ রাখা হবে।’
২) স্থানীয় ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে মুম্বই ও শহরতলির কিছু রুটে, কারণ রেললাইনে জল ঢুকে যাওয়ার জন্য। মধ্য রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবাজি সুতার এ বিষয়ে টুইট করে বলেছেন, 'ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ওয়াডালা ও পরেল জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে, যার জন্য শহরতলির পরিষেবাগুলি মূল লাইন এবং হারবার লাইনে স্থগিত করা হয়েছে। যদিও ভাসি ও পনভেলের মধ্যে ও থানে ও কল্যাণের মধ্যে শাটল পরিষেবা চালু রয়েছে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন যে স্টেশনের মধ্যে কোনও শহরতলির ট্রেন রাখা হবে না। বৃহনমুম্বই বৈদ্যুতিক পরিষেবা ও পরিবহনের (বেস্ট) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মুম্বই ও শহরতলির বিভিন্ন অংশের বাসের রুট বদল করা হয়েছে।
৩) ২৬টি জায়গা জলমগ্ন হওয়ার খবর রয়েছে। গোরেগাঁও, কিং সার্কেল, হিন্দমাতা, দাদার, শিবাজি চৌক, শেল কলোনী, কুর্লা এসটি ডিপো, বান্দ্রা টকিস, সিওন রোড সহ বিভিন্ন রাস্তায় জল জমে রয়েছে। গতকাল রাতে ভারী বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার সকালে কান্দিভালি পূর্বের ওয়েস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়েতে ধস নামে। যার জন্য যান চলাচল ব্যহত হয় পশ্চিম শহরতলি থেকে দক্ষিণ মুম্বইয়ের দিকে।
৪) মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় বিএমসি আগাম সতর্কতা জারি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে। এছাড়াও মুম্বইবাসীকে এই সময় সমুদ্রের ধারে যেতে বারণ করা হয় এবং সতর্কতা জারি করা হয় নীচু এলাকায়। ভারী বৃষ্টির কারণে সমুদ্রের ঢেউয়র উচ্চতা ৪.৫১ মিটার পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৫) সোমবার রাত আটটা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত মুম্বইয়ে ২৩০.০৬ এমএম বৃষ্টিপাত হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম শহরতিতে ১৬২.৮৩ ও ১৬২.২৮ এমএম রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে।
৬) আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে উত্তর মহারাষ্ট্রের উপকূল অঞ্চলে মঙ্গবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্ঠির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে।
৭) বর্ষার সময় মুম্বইয়ের রাস্তা নিয়মিতভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়ে, যা জুন থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর পর্যন্ত চলে এবং যা ভারতকে তার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের বেশিরভাগ অংশ সরবরাহ করে।
৮) প্রায় প্রত্যেক বর্ষার সময়ই, বৃষ্টির কারণে মুম্বইয়ে বিশৃঙ্খলার সঙ্গে লড়াই করতে হয় বাসিন্দাদের। শহরতলির ট্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নীচু–এলাকাগুলি প্লাবিত হয়ে পড়ে।
৯) গত বছর, মুম্বইয়ে এক দশকে সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যার ফলে অনেক লোক মারা গিয়েছিল এবং রেল, সড়ক ও বিমান পরিবহন ব্যাহত হয়েছিল।
১০) মুম্বাইয়ের বেশিরভাগ এলাকা ম্যানগ্রোভ দিয়ে ঢাকা ছিল, যা জল নিষ্কাশনে সহায়তা করতে অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে উঁচু উঁচু বাড়ি তৈরির জন্য তা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications