গোধরা-কাণ্ড পরিকল্পিত নয়, চারটি মামলায় ৩৫ জনকে বেকসুর খালাস গুজরাত আদালতের

গোধরা-কাণ্ড পরিকল্পিত নয় বলে মন্তব্য করে চারটি মামলায় ৩৫ জনকে বেকসুর খালাস করে দিল গুজরাত আদালত। গুজরাতের একটি ট্রায়াল কোর্ট এই নির্দেশ জারি করার পর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই চার মামলার অভিযোগকারীদের ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ তকমাও দিয়েছে আদালত।

২০০২ সালে গোধরা-পরবর্তী দাঙ্গা সংক্রান্ত চারটি মামলা থেকে ৩৫ জনকে বেকসুর খালাস করে দেয় গুজরাত আদালত। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন অনেক ডাক্তার, অধ্যাপক, শিক্ষক এবং ব্যবসায়ী। আদালত মন্তব্য করেছে, "ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষ মিডিয়ার হট্টগোলের কারণে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘায়িত বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁদের।"

গোধরা-কাণ্ডে বেকসুর

গুজরাত ট্রায়াল কোর্টের বিচারক আরো জানান, "গোধরা দাঙ্গা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। তা ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দ্বারা বর্ণিত পরিকল্পিত নয়। এভাবে প্রসিকিউশন সফল হতে পারে না। কারণ অভিযোগ করা গল্পটির পিছনে যথেষ্ট পরিমাণে প্রমাণ নেই।

শিক্ষাবিদ কে এম মুন্সির উদ্ধৃতি তুলে ধরে বিচারক বলেন, "যদি প্রতিবারই আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয় এবং তবে সংখ্যাগরিষ্ঠকে দোষারোপ করা হয়, তবে ঐতিহ্যগত সহনশীলতা বলে কিছু থাকবে না।" বিচারক মুন্সিকে বিশিষ্ট গুজরাতি লেখক এবং একসময়ের মহান কংগ্রেস নেতা হিসাবেও বর্ণনা করেন।

গোধরা-কাণ্ডে বেকসুর

পঞ্চমহল জেলার হলোল আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ হর্ষ বালকৃষ্ণ ত্রিবেদী ৩৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একসঙ্গে বিচার করা চারটি মামলায় রায় ঘোষণা করেন। প্রায় বিশ বছর আগে যখন বিচার শুরু হয়েছিল, সেখানে ৫২ জন অভিযুক্ত ছিল। তাদের মধ্যে ১৭ জনের বিচারাধীন থাকাকালীন মৃত্যু হয়।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন ও দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ, বেআইনি সমাবেশ, অস্ত্র আইনসহ রুহুল আমিন পদভা, হারুন আবদুলসাত্তার তাসিয়া ও ইউসুফ ইব্রাহিম শেখসহ তিনজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে বিভিন্ন স্থানে হত্যা করা হয়েছে। জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা তাসিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার হয়নি।

রায়ে বলা হয়েছে, পুলিশ একটি মৃতদেহ উদ্ধার করতে পারেনি, ফলে অন্তত একটি প্রমাণ না মেলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বর্তমান মামলায় প্রসিকিউটর অপ্রয়োজনীয়ভাবে ১৩০ জন সাক্ষীকে ডেকে মামলাটি দীর্ঘায়িত করেছেন।

গোধরা-কাণ্ডে বেকসুর

এক্ষেত্রে প্রায় সব সাক্ষীর সাক্ষ্যই সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।" ৩৬ পৃষ্ঠার রায়টি ভারতে সাম্প্রদায়িক হিংসা যে নতুন ঘটনা নয়, সেই সংক্রান্ত একটি ভাষ্য দিয়ে শুরু হয়। সেখানে বলা হয়, "ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দীর্ঘকাল ধরে অব্যাহত রয়েছে এবং সাধারণত তুচ্ছ বিবাদ এবং অসহিষ্ণুতা, ধর্মীয় শিল্পকর্মের হেরফের, উৎসবে অন্যদের অনুপ্রবেশ, বিরোধপূর্ণ প্রার্থনার সময়, উপাসনালয় নিয়ে বিবাদ, আন্তঃবিবাহ, পবিত্র স্থানের অপবিত্রতা, যৌনতা ইত্যাদির কারণে ঘটে।"

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+