দেশে করোনা সংক্রমণের মূলে ২০টি হটস্পট! সরকারের নজরে আরও ২২টি জায়গা
ভারতে করোনা সংক্রমণের হার হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে। সৌজন্য দিল্লির মসজিদে হওয়া ধর্মীয় সমাবেশ। সেখান থেকে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণ। এর জেরে কোভিড১৯-এর প্রকোপের প্রবল ধাক্কা খেয়েছে দিল্লি সহ গোটা দেশ। এর জেরে দিল্লির নিজামুদ্দিন এখন পরিণত হয়েছে করোনা ভাইরাসের একটি হটস্পটে।

হটস্পট কী?
ভারতে এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে করোনার ভাইরাসের ঘটনা প্রচুর পরিমাণে ঘটেছে। সরকার এর নাম দিয়েছে হটস্পট। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সারাদেশে ২০টি জায়গা চিহ্নিত করেছে। যেখানে করোনার ভাইরাসের রোগীদের সংখ্যা অস্বাভাবিক এবং অন্যান্য জায়গাগুলির তুলনায় অনেক বেশি। এই হটস্পটস হিসাবে চিহ্নিত ২০টির মধ্যে দুটি দেশের রাজধানীতে রয়েছে।

হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত স্থান কোনগুলি
হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে দিল্লির দিলশাদ বাগান এবং নিজামুদ্দিন, নয়ডা-মিরাট, ভিলওয়ারা, আহমেদাবাদ, কসরগড়-পাঠানমথিট্টা, মুম্বই এবং পুনে। এছাড়া আরও ২২টি সম্ভাব্য হটস্পট-এর উপর নজর রাখছে সরকার। সেখান থেকে যাতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের কাজ করছে সরকার।

নিজামুদ্দিনে তবলিগ-ই-জামাতের মসজিদ
দিল্লির পশ্চিম নিজামুদ্দিনে তবলিগ-ই-জামাতের মসজিদ থেকে কমপক্ষে ৮৫০ জনকে অন্য একটি জায়গায় কোয়ারান্টাইন করে রাখা হয়েছে বলে খবর। এদের মধ্যে ৪০০ জনেরও বেশি জনের শরীরে করোনা সংক্রমণের উপসর্গ দেখা গিয়েছে বলে জানা যায়।

লকডাউন সত্ত্বেও যা হয়েছিল দিল্লিতে
প্রসঙ্গত, গত ১ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে দিল্লির ওই মসজিদে অন্তত ২ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। দিল্লিতে ওই মসজিদে শুধু ভারত নয়, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কিরগিজিস্তান থেকেও বিভিন্ন মানুষজন এসে ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখান থেকেই ব্যাপক হারে মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবর।

হটস্পটে পরিণত হতে পারে এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি
এদিকে এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি, ধারাভিতে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে দুই জনের করোনা ভাইরাস ধরা পড়ায় আতঙ্কে গোটা মুম্বই। ১০ লক্ষের বাসস্থান এই বস্তিতে দ্রুত করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এবং তা হলে মুম্বই তো বটেই, গোটা দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

খুব খারাপ পরিস্থিতি মহারাষ্ট্রে
মহারাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই লাগাম ছাড়া হয়ে গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেই রাজ্যে নতুন করে ৩৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের চিহ্ন মেলে। যার জেরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁডা়য় ৩৩৫-এ। এদিকে একদিনে করোনা আক্রান্ত হয়ে সেরাজ্যে মারা যায় ৬ জন। এখনও পর্যন্ত শুধু মহারাষ্ট্রেই ১৬ জন করোনা আক্রান্ত মারা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications