ধেয়ে আসছে বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড়! সমুদ্রে শক্তি বাড়িয়ে কবে হানা দিতে পারে উপকূলে
মার্চের শুরু থেকেই কাউন্ডটাউন চলছে, কবে আসবে ২০২১-এর প্রথম ঘূর্ণিঝড়। মাঝে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রীয় আবহাওয়া সংস্থা আভাস দিয়েছিল, এ বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের মতোই ভয়াবহ রূপ নিয়ে বঙ্গোপসাগর দিয়ে ধেয়ে আসবে।
মার্চের শুরু থেকেই কাউন্ডটাউন চলছে, কবে আসবে ২০২১-এর প্রথম ঘূর্ণিঝড়। মাঝে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রীয় আবহাওয়া সংস্থা আভাস দিয়েছিল, এ বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের মতোই ভয়াবহ রূপ নিয়ে বঙ্গোপসাগর দিয়ে ধেয়ে আসবে। কিন্তু ভারতীয় আবহাওয়া দফতর সেই পূর্বাভাসকে আমল দেয়নি। এবার তারাই জানাল, বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসতে পারে আরব সাগর দিয়ে।

আরব সাগরের নিম্নচাপের অঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত
আইএমডির পূর্বাভাস, বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে আরব সাগরের নিম্নচাপের অঞ্চলে তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্ত। ১৪ মে সকালে দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের উপর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে ওই ঘূর্ণাবর্ত। ১৫ মে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে ধীরে ধীরে তীব্রতর হতে পারে। তা ক্রমে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে।

দক্ষিণ পাকিস্তান অভিমুখে ঘূর্ণিঝড়, গুজরাটের কিছু অংশ
আবহাওয়া দফতরের আধিকারিরা জানিয়েছেন, এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে ওমান উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। কেউ কেউ আবার মনে করছেন, দক্ষিণ পাকিস্তান অভিমুখে ধেয়ে যেতে পারে ঘূর্ণিঝড়। অর্থাৎ গুজরাটের কিছু অংশ সেক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে মনে করছে ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষজ্ঞরা।

কোন অভিমুখে ঝড়, কোথায়-কবে আছড়ে পড়বে
আইএমডি-র আধিকারিক সুনীতা দেবী বলেন, ঘূর্ণাবর্ত পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে এটি এই বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় হবে। এর নাম হবে তাউকটে বা তাউটে। এই তাউটে শব্দের অর্থ জেকো। মায়ানমার এই ঝড়ের নামকরণ করেছে। সব কিছু পর্যায়ক্রমে এগোলে ২০ মে ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর গুজরাট বা কচ্ছ অঞ্চলে আছড়ে পড়তে পারে।

নিম্নচাপ শক্তি বাড়ালেই সতর্কতা জারি উপকূলে
আবহবিদরা জানিয়েছেন, নিম্নচাপের অঞ্চলটি তৈরি হয়ে গেলেই সতর্কতা জারি করা হবে। মূলত পশ্চিম উপকূলের মৎস্যজীবীদের ১৪ মে-র মধ্যে ফিরে আসার বার্তা দিয়ে রাখছেন কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের আধিকারিকরা। কারণ ১৪ মে থেকে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। এই সময় থেকেই লাক্ষাদ্বীপ, কেরল, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু এবং মহারাষ্ট্র উপকূলে ভারী বৃষ্টি হবে এবং ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করবে।

বঙ্গোপসাগরে নয়, এবার প্রথম ঘূর্ণি আরব সাগরে
সাধারণত এপ্রিল ও মে মাসে প্রাক-বর্ষা মরশুমে উত্তর ভারত মহাসাগরের উপর একটি বা দুটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। এবার এপ্রিলে কোনও ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়নি। তবে গত মাসে দক্ষিণ আন্দামান সাগরের উপর একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল। এরপর আরব সাগর বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় দেখা যাবে বলে পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিকাল মেটিরিওলজি বা আইআইটিএমের জলবায়ু বিজ্ঞানী রক্সি ম্যাথু টুইট করেছেন।

আরব সাগরে বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় কবে
নিম্নচাপ অঞ্চলটি দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগর এবং লাক্ষাদ্বীপ সংলগ্ন পার হয়ে উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাবে। তারপর ধীরে ধীরে তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের। মঙ্গলবার ১৮ মে দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের উপর তা ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় পৌঁছতে পারে। তারপর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে শুরু করবে। মঙ্গলবার আইএমডি এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

সাতদিন আগে থেকে শুরু ঝড়-বৃষ্টি
এর ফলে লাক্ষ্মাদ্বীপের উপর বেশিরভাগ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হবে। ১৩ মে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। ১৪ মে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। কেরালা, কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ুতে ১৪ ও ১৫ মে ভারী বৃষ্টি হবে। দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগর সংলগ্ন লাক্ষাদ্বীপ এবং নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরে ১৪ মে থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওএয়া বইবে।

৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় চলবে সমুদ্র উপকূলে
১৫ মে সকাল থেকে একই অঞ্চলে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে শুরু করবে। পূর্ব-মধ্য আরব সাগর, পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগর এবং লাক্ষাদ্বীপ অঞ্চলে ১৬ মে সকাল থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। কেরালা পর্যন্ত পশ্চিম উপকূলে উত্তরোত্তর বাড়বে ঝড়ের প্রকোপ।

ঝড়ের গতি বাড়বে, বাড়বে ঢেউয়ের উচ্চতা
শুধু ঝড়ের গতিবেগই নয়, পূর্ব মধ্য আরব সাগর উত্তাল হয়ে উঠবে ১৬ মে থেকে। উপকূলে আছড়ে পড়বে ৬ থেকে ৯ মিটারের বিশালাকার ঢেউ। কেরালা উপকূলের পাশাপাশি উত্তাল থাকবে কর্ণাটক এবং মহারাষ্ট্র-গোয়ার সমুদ্র উপকূলও। এর ফলে মৎস্যজীবীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ১৪ মে থেকে দক্ষিণ পূর্ব আরব সাগর, লাক্ষাদ্বীপ কেরল-কর্ণাটক উপকূল এবং পূর্ব মধ্য আরব সাগর এবং মহারাষ্ট্র ও গোয়ার সমুদ্রে নামতে।












Click it and Unblock the Notifications