ENO কিনছেন? নকল নয় তো? বাজারে ফেক ENO'র কারবার ফাঁস, আসলটি চিনে নিন এভাবে!
ENO কিনছেন? তাহলে প্রথমে এর প্যাকেজিং, প্রিন্ট, কোম্পানির লোগো এবং এর মূল্য ভালো করে পরীক্ষা করে তারপরেই কিনুন। কারণ আজকাল বাজারে প্রচুর পরিমানে নকল জিনিস বিক্রি হচ্ছে। ENO-তার মধ্যে ব্যতিক্রম না। উত্তর দিল্লির ইব্রাহিমপুর এলাকায় দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ নকল ENO তৈরির একটি বড় কারখানা খুঁজে বের করেছে। এই তদন্তে পুলিশ প্রচুর পরিমাণে নকল অ্যান্টাসিড পাউডার এবং কাঁচামাল পেয়েছে। জানা যাচ্ছে যে, এই কারখানায় নকল ENO প্যাকেটগুলি ব্যাপকভাবে তৈরি করা হতো যা বাজারে আসল বলে বিক্রিও হচ্ছিল।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সন্দীপ জৈন এবং জিতেন্দ্র (ছোটু) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিই ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দা। অভিযুক্ত ওই দুই ব্যক্তিকে এরকম অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য সন্দেহ করছে পুলিশ। পুলিশ যখন কারখানায় তল্লাশি চালায়, তখন তারা প্রায় ৯১,০০০টি নকল ENO-র প্যাকেট, ৮০ কেজি কাঁচামাল, ৫৪,৭৮০টি স্টিকার, কোম্পানির লোগো সংযুক্ত ১৩ কেজি রোল (প্যাকেজিংয়ের জন্য ব্যবহৃত ব্র্যান্ডিং সহ মুদ্রিত শিট), ২,১০০টি খালি প্যাকেট সহ একটি প্যাকিং মেশিন উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওই দুই ব্যক্তি ইউনিটটি পরিচালনা করত এবং তারাই আসল ব্র্যান্ডের অনুরূপ ভুয়ো পণ্য তৈরির জন্য সরঞ্জাম স্থাপন করেছিল।
এই পুরো ভুয়ো পরিকল্পনাটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। কোনও গ্রাহক যাতে সন্দেহ না করতে পারেন সেজন্য জাল প্যাকেজগুলি আসল কোম্পানির নাম, লোগো এবং প্রিন্টের মতো করে তৈরি করা হতো। পুলিশ জানিয়েছে যে, এরকম নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো দেশব্যাপী জাল ওষুধ এবং স্বাস্থ্য পণ্য সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু যদি বাজারে এত জাল পণ্য প্রবেশ করে, তাহলে সাধারণ মানুষেরা কীভাবে আসল এবং নকল ENO এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবে সেই প্রশ্ন প্রায় সবার মনেই ঘুরতে থাকে।
ENO কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুসারে, আসল ENO-তে স্বর্জিকাসার এবং নিম্বুকমলম এর মতো উপাদান রয়েছে যা তাৎক্ষণিকভাবে পেটের অ্যাসিডকে দূর করে এবং গ্যাস বা অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দেয়। আসল ENO-তে রাসায়নিকভাবে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট, সাইট্রিক অ্যাসিড এবং সোডিয়াম কার্বনেটের মিশ্রণ থাকে। কিন্তু নকল ENO তে সস্তা এবং নিম্নমানের রাসায়নিক রয়েছে যা সঠিকভাবে দ্রবীভূত হয় না। এবং এটি আসল ENO-র মতো একই স্বাদের হয় না। এই নকল অ্যান্টাসিডগুলি পেট জ্বালা বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
তাই ENO কেনার সময় প্রথমে এর প্যাকেজিং, প্রিন্ট, কোম্পানির লোগো এবং মূল্য ভালোভাবে দেখে কেনা উচিত। আসল ENO-র প্যাকেজিং উজ্জ্বল এবং স্পষ্ট। কিন্তু আবার নকল ENO -র প্যাকেজিংয়ে অস্পষ্ট প্রিন্ট থাকতে পারে। নকল প্যাকেজিং প্রায়শই আসল প্যাকেজিংয়ের চেয়ে সামান্য ছোট হয়। কেনার আগে, প্রস্তুতকারকের নাম, ব্যাচ নম্বর, ঠিকানা এবং দাম পরীক্ষা করে নিন। যদি এইসমস্ত তথ্য অসম্পূর্ণ, অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত থাকে, তাহলে বুঝতে হবে এটি একটি জাল ENO।












Click it and Unblock the Notifications