প্রথম সংক্রমণের ৬–১২ মাস পর হতে পারে দীর্ঘকালীন কোভিড–১৯, সতর্ক বিশেষজ্ঞদের
প্রথম সংক্রমণের ৬–১২ মাস পর হতে পারে দীর্ঘকালীন কোভিড–১৯, সতর্ক বিশেষজ্ঞদের
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভের মহামারি দেশের দুঃশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়িয়ে তুলছে। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে আইএমআরের গঠন করা জাতীয় টাস্ক ফোর্সের অপারেশন রিসার্চ গ্রুপের প্রধান এন কে অরোরা বলেন, 'ভারত ও অন্যান্য দেশ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পুনরায় সংক্রমণ হওয়ার বিষয়টি খুবই বিরল। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ ফের হতে পারে কোভিড–১৯ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার তিনমাস অতিক্রম করার পর।’

৬ মাস থেকে একবছর পর নতুন উপসর্গ
এন কে অরোরা এও বলেন, 'কোভিড-১৯ সাম্প্রতিক রোগ এবং একই সময়ে এই রোগ এতগুলো উপসর্গ দেখায় যা অন্য কোনও ভাইরাল সংক্রমণে দেখা যায় না। আমরা এখন শরীরের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলি বোঝার পর এটা বলতে পারি যে কেউ কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার ৬ মাস থেকে এক বছর পর নতুন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এটাকে দীর্ঘকালীন কোভিড বলা চলে।' তিনি এও যোগ করেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের পর শরীরে তৈরি অ্যান্টিবডি তিন থেকে নয়মাস থাকে, যা পুনরায় সংক্রমণ থেকে দেহকে প্রতিরোধ করে। তিনি জানিয়েছেন যে ভ্যাকসিন মানুষের শরীরকে একাধিক রোগ থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

দীর্ঘকালীন কোভিডের প্রভাব
অ্যাপোলো টেলি হেলথের বরিষ্ঠ ইন্টারনাল মেডিসিন পরামর্শদাতা মুবাশির আলি জানিয়েছেন যে উপলব্ধ তথ্য ও গবেষণাগুলি থেকে জানা যাচ্ছে সকলের নয় তবে কিছুজনের মধ্যে দীর্ঘকালীন কোভিডের প্রভাব দেখা যেতে পারে। তিনি এও জানান যে ক্লান্তি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা ও স্নায়ু সংক্রান্ত উপসর্গ দীর্ঘকালীন প্রভাবের মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, 'এটা দীর্ঘ কোভিড এবং যখন কোনও ব্যক্তির করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ার একাধিক সপ্তাহ বা মাসের পর মাসও সুস্থ না হয়ে ওঠা এবং কোভিড-১৯-এর উপসর্গ অনবরত দেখা দেওয়া দীর্ঘ কোভিডের মধ্যে পড়ছে। তবে এটা এখনও স্পষ্ট নয় যে কতজন মানুষের এই দীর্ঘ কোভিডের অভিজ্ঞতা হবে। কোভিড উপসর্গ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে ১০ জনের মধ্যে একজনের অসুস্থতার উপসর্গের অভিজ্ঞতা তিন সপ্তাহ বা তারও বেশি রয়েছে।'

বি.১.৬১৭ প্রজাতির ভাইরাস বিপজ্জনক
দিল্লির মণিপাল হাসপাতালের জরুরি মেডিসিনের এইওডি সিশান্ত ছাবড়া জানিয়েছেন যে বি.১.৬১৭ প্রজাতির ভাইরাস চূড়ান্ত সংক্রমিত ও তীব্র। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে সম্প্রতি এই স্ট্রেইনে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পরও দীর্ঘকালীন ফুসফুসের সমস্যা দেখা দেয় যা ভালো হতে চার-পাঁচমাস সময় নেয়। চিকিৎসক বলেন, 'এরকম বহু কেস রয়েছে যেখানে শেষ কিছুদিন যাবৎ রোগীর কোভিডের মতো উপসর্গ দেখা দিলেও আরটি-পিসিআর টেস্টে নেগেটিভ রিপোর্ট আসছে। তবে আমরা এইসব রোগীদের কোভিড রোগী হিসাবেই চিকিৎসা করি।'

প্রথম ওয়েভের পর দ্বিতীয়বার সংক্রমণ
তিনি জানিয়েছেন যে অক্টোবর বা নভেম্বরে প্রথম ওয়েভের করোনা থেকে যে সব রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাঁদের ফের কোভিড দেখা দিয়েছে দ্বিতীয় ওয়েভে। তিনি বলেন, 'কোভিড-১৯-এ পুনরায় সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সারা জীবনের বিষয় নয়। এটা সাধারণত তিন-চারমাস থাকে যে কারণে রোগী ফের করোনায় আক্রান্ত হন।'












Click it and Unblock the Notifications