পানীয় জলে বিষক্রিয়া! পুরসভার জল খেয়ে মৃত্যু আট জনের, গুরুতর অসুস্থ ১১০০-র বেশি
পুরসভার সরবরাহ করা পানীয় জলই হয়ে উঠল মৃত্যুর কারণ! মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে ঘটেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গত কয়েক দিনের মধ্যে দূষিত জল পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। একাধিক বাসিন্দার মৃত্যুও হয়েছে। দূষিত পানীয় জলের কারণে ডায়রিয়া এবং বমির প্রকোপে ইন্দোরের ভগীরথপুরা এলাকায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়েছেন আরও ১১০০-র বেশি মানুষ।

কীভাবে জল দূষিত হল?
সামনে এসেছে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট। ইন্দোর পুরসভার প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে, ভগীরথপুরা এলাকায় পুরসভার পানীয় জলের মূল পাইপলাইনে ফাটল ধরা পড়েছিল। আর ওই পাইপলাইনের ঠিক উপরেই একটি শৌচাগার তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগ, শৌচাগারের বর্জ্য পাশের একটি গর্তে জমত। সেই গর্ত সরাসরি পাইপলাইনের উপরে ছিল। পাইপের সংযোগ ঢিলা হয়ে যাওয়ার কারণে নোংরা জল মিশে যায় পানীয় জলে।
এই ঘটনার পর বড়সড় প্রশ্নের মুখে রাজ্যের মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মন্ত্রী। এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়াতে খুব ভাইরাল হচ্ছে। তবে তিনি সমস্ত অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন এবং মৃতদের পরিবারকেও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
আগেই অভিযোগ করেছিলেন এলাকাবাসী
এলাকার কাউন্সিলর কমল বঘেলা জানান যে, ২৫ ডিসেম্বর থেকেই বাসিন্দারা জল নিয়ে অভিযোগ জানাতে শুরু করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল যে, পুরসভার জলে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ রয়েছে। অনেকেই আবার সেই জল পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে যে, বারবার জানানোর পরেও পুর কর্তৃপক্ষ তখন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
মৃত্যু ও অসুস্থতার সংখ্যা
এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই এলাকায় একের পর এক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সূত্র অনুসারে, এখনও পর্যন্ত সেখানে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১১০০-র বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং ২৬ জন এখন আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ভুল স্বীকার প্রশাসনের
মধ্যপ্রদেশের নগর উন্নয়নমন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয় স্বীকার করেছেন যে, প্রশাসনিক গাফিলতি হয়েছে। তিনি জানান যে, দোষীদের পদমর্যাদা না দেখেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করেছেন এবং একে জরুরি পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রায় ৪০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ২৪৫৬। হাসপাতালে ভর্তি অনেকেই চিকিৎসার পর এখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে জানানো হয়েছে যে, অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য সমস্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে।
পুরসভার তৎপরতা
ইতিমধ্যেই পুরসভা দূষিত জলবাহী পাইপলাইন পরিষ্কার করতে শুরু করেছে। ট্যাঙ্কারে করে পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে। আশাকর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন।
হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ
ইন্দোর বেঞ্চের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও এই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে। ২ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্য সরকার এবং পুরসভাকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাড়াতাড়ি পরিষ্কার জল এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications