চিনা লোন অ্যাপ মামলায় পেটিএম, ক্যাশফ্রি-র অফিসে ইডির তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত ১৭ কোটি টাকা

চিনা লোন অ্যাপ মামলায় পেটিএম, ক্যাশফ্রি-র অফিসে ইডির তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত ১৭ কোটি টাকা

স্বল্প ঋণের চিনা অ্যাপের ফাঁদে ইতিমধ্যে বহু মানুষ সর্বসান্ত হয়েছেন। শনিবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তরফে শনিবার জানানো হয়েছে, বেআইনি এই চিনা ঋণের অ্যাপের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুর একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। ইডির তরফে জানানো হয়েছে, তল্লাশি অভিযানে ১৭ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

চিনা লোন অ্যাপ মামলায় পেটিএম, ক্যাশফ্রি-র অফিসে ইডির তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত ১৭ কোটি টাকা

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তরফে জানানো হয়েছে, শুক্রবার বেঙ্গালুরুর প্রায় ছয়টি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। বেঙ্গালুরুতে পেটিএম, ক্যাশফ্রির মতো অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর একাধিক অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে। চিনা ব্যক্তি নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলোক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ইডি বাজেয়াপ্ত করেছে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, সংস্থাগুলো ভারতীয় একাধিক নথি জাল করে দেশে ব্যবসা শুরু করেছিল। ইডির তরফে জানানো হয়েছে, সংস্থাগুলো বিভিন্ন মার্চেন্ট আইডি বা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসা করছে। এক্ষেত্রে তারা ভুয়ো নথি ব্যবহার করছে। এমনকী, চিনা ব্যক্তি নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলো ভুয়ো ঠিকানা দিয়েছে।

ইডির তরফে জানানো হয়েছে, স্বল্প ঋণের এই অ্যাপের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুর সাইবার সেলে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। শুধু বেঙ্গালুরুতে ১৮টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। অ্যাপগুলো থেকে মূলত চড়া সুদে স্বল্প ঋণের সুবিধা দেওয়া হতো। তারপর গ্রাহকদের নানা ভাবে ব্ল্যাক মেইল করা হতো।

দিল্লি পুলিশ গত মাসে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ ৫০০ কোটি টাকা দুর্নীতির সন্ধান পায়। স্বল্প সুদে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা চক্রটি কাজ করত। তবে এই প্রতরণা চক্রটি চিনের নাগরিকরা পরিচালনা করতেন বলে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। এরপর অর্থ হাওয়াওলা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে চিনে পাঠানো হতো বলে জানা গিয়েছে।

দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বেশি সুদে স্বল্প ঋণ নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করত অ্যাপগুলো। এই অ্যাপগুলোর নেপথ্যে চিনা নাগরিকরা ছিলেন বলে দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর। ব্যবহারকারীরা প্রথমে স্বল্প ঋণের প্রয়োজনে এই অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে। তারপর অ্যাপটিকে অনুমোদন দেয়। অ্যাপটিকে অনুমোদন দিতে কিছু ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারীকে শেয়ার করতে হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঋণের টাকা চলে আসে।

এরপরেই ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু হয় ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারি। ভুয়ো ফোন নম্বর থেকে একের পর এক ফোন আসতে থাকে। সেখানে ব্যবহারীর মর্ফড নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হবে। হুমকি দেওয়ার পরেই অর্থের জন্য চাপ দিতে শুরু করা হয়। সামাজিক অসম্মান ও ভয়ের কারণে ব্যবহারকারীরা হুমকির কাছে মাথা নিচু করে। হুমকির টাকা দিয়ে দেয়। সেগুলো পরে হাওয়াওলা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে চিনে পাঠানো হতো বলে জানা গিয়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ৫০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার প্রয়োজন ছিল এমন ব্যক্তিকে হুমকির মুখে কয়েক লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রতারণা চক্র ব্যাঙ্কের একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। যেখান থেকে প্রতিদিন এক কোটি টাকার বেশি আদান-প্রদান হতো বলে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, এই অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে চ্যাট, ছবি সহ মোবাইল থেকে একাধিক ব্যক্তিগত তথ্যের অ্যাক্সেস চাওয়া হতো। ব্যবহারকারীরা স্বল্পঋণের ফাঁদে পা দিয়ে সেই অ্যাক্সেস দিতেন বলে জানা গিয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+