জাত শুমারিতে বিরোধিতা নেই BJP-র! 'দ্বি'মত থাকা RSS-এর সওয়াল দেশের সার্বিক উন্নতিতে
গত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহারে বর্ণ ভিত্তিক শুমারির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বর্ণ ভিত্তিক জাত শুমারির বিরোধিতা করছেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশও। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত তৈরি হয়েছে আরএসএস-এ। যা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আরএসএসের বিদর্ভ অঞ্চলের প্রধান শ্রীধর গাডগে বলেছেন, জাত শুমারি কিছু লোককে রাজনৈতিকভাবে উপ.কৃত করতে পারে। কিন্তু এটি আসলে জাতীয় ঐক্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

অন্যদিকে এবিপি নিউজে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রচার শাখার প্রধান সুনীল আম্বেকর বলেছেন, এটিকে সমাজের সার্বিক উন্নতির জন্য ব্যবহার করা উচিত। এটি করার সময় সব পক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনও কারণে সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্য ব্যাহত না হয়।
মহারাষ্ট্রের বিজেপি ও শিবসেনা বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে অমিত শাহের জাতভিত্তিক শুমারির বিরোধিতা না করা প্রসঙ্গে শ্রীধর গাডগে বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলি একটি ইত্যুতে তাদের নিজেস্ব অবস্থান থাকতে পারে, তবে আরএসএস জাতভিত্তিক আদমশুমারির তীব্র বিরোধিতা জানাতে চায়।
দেশে জাতপাতের নামে বিভেদ থাকার কথা স্বীকার করে শ্রীধর গাডগে বলেছেন, যদি বর্ণ সমাজে বৈষম্যের মূল হয়, তাহলে জাত ভিত্তিক আদমশুমারির মতো কাজের দ্বারা তা আরও বৃদ্ধি করা উচিত নয় বলেই মনে করে আরএসএস।
জাত শুমারি এমন একটা ইস্যু যার মাধ্যম বিরোধীরা বিজেপিকে চেপে ধরতে চায়। গত পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সময় সবকটি রাজ্যেই কংগ্রেসের ইস্তেহারে জাত ভিত্তিক শুমারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কংগ্রেস। সেই পরিস্থিতিতে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও কংগ্রেস জাত শুমারির ইস্যুটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
জাত শুমারি নিয়ে এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রচার প্রধান সুনীল আম্বেকর একটি বিবৃতি জারি করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে আরএসএস বৈষম্য মুক্ত সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি হিন্দু সমাজের লক্ষে কাজ করছে। এটা সত্য যে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে সমাজের অনেক অংশ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে ছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সমাজের পিছিয়ে পড়াদের উন্নয়ন, উত্থান ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে, বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছে, যা সংঘ সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে। বেশ কিছুদিন ধরেই জাত ভিত্তিক শুমারির আলোচনা শুরু হয়েছে। এব্যাপারে আরএসএসের দৃষ্টিভঙ্গি হল এটিকে সমাজের সার্বিক উন্নতির জন্য ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি সব পক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনও কারণে সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্য ব্যাহত না হয়।












Click it and Unblock the Notifications