জুনের তাপপ্রবাহের বদলে ঠাণ্ডা অনুভূতি, দিল্লির পারদ–পতন বিস্মিত করেছে সকলকে
দিল্লির পারদ–পতন বিস্ময় করেছে সকলকে
দিল্লির গরমকাল কেমন হয়, তা নিশ্চয়ই সবারই জানা। স্বাভাবিক সময়ে এপ্রিল–মে মাস থেকেই জাতীয় রাজধানীতে গরমের তাপপ্রবাহে নাজেহাল হন দিল্লিবাসী। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে বাড়ি থেকে বের হওয়াও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবে এ বছর দিল্লির আবহাওয়ায় অন্য সুর দেখা গেল। মৌসম ভবনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মঙ্গলবার দিল্লিতে সর্বনিম্ন ১৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ ডিগ্রি কম এবং জুন মাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানীর এরকম তাপমাত্রা দেখে বিস্মিত দেশবাসী।

মৌসম ভবনের পক্ষ থেকে এও জানানো হয় যে রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখা গিয়েছে ৩৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ ডিগ্রি কম। দিল্লির আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের প্রধান কুলদীপ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন যে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে সোমবার রাতে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়েছিল দিল্লিতে। সে কারণেই পারদের এমন পতন হয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালের ১৭ জুন দিল্লিতে সর্বনিম্ন ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। প্রায় ১৪ বছর পর ফের জুন মাসে এই একই ধরনের তাপমাত্রা দেখা গেল দিল্লিতে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এই শহরে ১৫.৬ এমএম বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে যে বুধবারও আংশিক মেঘলা থাকবে এবং খুব হাল্কা বৃষ্টি ও বর্জ্র–বিদ্যুৎ দেখা দেবে। দিল্লিতে মে মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৩ বছরের মধ্যে সব থেকে শীতল মে দেখে ফেলেছে দিল্লি।
২০১৪ সালের পর এই প্রথমবার বর্ষার আগে এখনও পর্যন্ত দিল্লি তাপপ্রবাহের কবলে পড়ল না। তার ওপর আবার ঘূর্ণিঝড় 'তাউকেটে’-এর প্রভাবে এক দিন রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিও হয়েছে রাজধানীতে। শ্রীবাস্তব এও জানিয়েছেন যে ২০১১ সালের পর এই প্রথমবার পালামেও বর্ষার আগে তাপপ্রবাহ দেখা দিল না। তবে এটা দিল্লিবাসীর কাছে স্বস্তির হলেও আবহাওয়াবিদদের কাছে বেশ উদ্বেগের। কারণ উত্তর ভারতের তাপপ্রবাহই বর্ষাকে সমুদ্র থেকে ভারতের স্থলভূমিতে টেনে আনতে সাহায্য করে। তীব্র গরম না পড়লে, বর্ষার গতি শ্লথ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।












Click it and Unblock the Notifications