আবারও জামিন প্রত্যাখ্যান, ৬ জুন পর্যন্ত হাজতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল

বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি নীতিন গড়করির বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করায় মানহানির মামলা রুজু হয় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে।
গত ২১ মে তাঁকে পাতিয়ালা হাউস কোর্টে হাজিরা দিতে হয়েছিল। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের তরফে সওয়াল করেছিলেন প্রবীণ আইনজীবী তথা আম আদমি পার্টির আর এক হেভিওয়েট প্রশান্ত ভূষণ। নীতিন গড়করির আইনজীবী ছিলেন পিঙ্কি আনন্দ। দু'পক্ষে সওয়াল-জবাবের পর বিচারক বলেছিলেন, "আইন অনুযায়ী আপনাকে জামিনের টাকা জমা করতে হবে। তা হলে জামিন পাবেন।" কিন্তু অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছিলেন, "দিস ইজ আ পলিটিক্যাল ইস্যু। আমি বন্ডের টাকা জমা দেব না।" তাঁর এই গোঁয়ার মনোভাবে বিরক্ত বিচারক তৎক্ষণাৎ তাঁকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এ দিন ছিল মামলার পরবর্তী শুনানি। কিন্তু সেই একরোখা মনোভাব ছাড়েননি অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বলেন, "আমি কোনও অন্যায় করিনি। তাই জামিন নেব না।" ফলে ৬ জুন পর্যন্ত তাঁকে তিহার জেলে পাঠানো হয়।
আম আদমি পার্টির তরফে সোমনাথ ভারতী বলেন, "নীতিন গড়করির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কোনও অন্যায় করেননি অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাই তাঁর জামিন না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে দল।" আর আদালত থেকে বেরিয়ে পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, "নীতিন গড়করি দুর্নীতি করেছেন। অথচ স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলায় আমাকে জেল খাটতে হচ্ছে।"
আইনজ্ঞদের মতে, এই অভিযোগ হাস্যকর। কারণ, নীতিন গড়করির বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। আয়কর দফতরও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করে কিছু পায়নি। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণ করতে হয়। খেয়ালখুশি মতো মন্তব্য করলেই চলে না। যখন অরবিন্দ কেজরিওয়াল অভিযোগ এনেছেন, তখন তাঁর উচিত বিচারকের সামনে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে তথ্যপ্রমাণ হাজির করা। সেটা না করে তিনি মিডিয়ায় বিবৃতি দিচ্ছেন।
এদিন নীতিন গড়করির আইনজীবী পিঙ্কি প্রামাণিক বলেন, "আইনের যথাবিহিত পদ্ধতি রয়েছে। আদালত তা অনুসরণ করে বন্ড দিতে বলেছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। তিনি বলে চলেছেন, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কী আশ্চর্য! আদালত তো আর রাজনীতি করছে না। এটা কোর্টের দৃষ্টিতে আইনি বিষয়। দেশের আইনকানুন সম্পর্কেই তো ওঁর কোনও ধারণা নেই।"












Click it and Unblock the Notifications