তৃণমূলের সঙ্গে জোট-অবস্থান স্পষ্ট করলেন মানিক, কী বোঝালেন ত্রিপুরার সংস্কৃতির বার্তায়
তৃণমূলের সঙ্গে জোট-অবস্থান স্পষ্ট করলেন মানিক, কী বোঝালেন ত্রিপুরার সংস্কৃতির বার্তায়
তৃণমূলকে নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল ত্রিপুরা সিপিএম। ত্রিপুরারা সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে ত্রিপুরা সিপিএমের অন্যতম মুখ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলের সঙ্গে জোট গড়ার কোনও প্রশ্নই নেই। আমরা এতদিন অত্যাচারিত হয়ে এসেছি, বাইরে থেকে একটা দল এসে অত্যাচারিত হচ্ছে, তাই আমরা অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তার মানে এই নয়, আমরা তৃণমূলের সঙ্গে জোট করতে চলেছি।

ত্রিপুরার মানুষ আজ ভুল বুঝতে পেরেছে, পরিবর্তন চাইছে
সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকারের কথায়, ত্রিপুরার মানুষ আজ ভুল বুঝতে পেরেছে। বিজেপিকে বেছে নেওয়া য়ে তাদের ভুল ছিল, তা এই ক-বছরেই পরিষ্কার। ত্রিপুরার মানুষের সঙ্গে বিজেপি বেইমানি করেছে। যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা সরকারে এসেছিল কিছুই পালন করেনি, উপরন্তু মানুষ আর বিজেপির শাসনামলে অত্যাচারিত।

পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে, বিজেপি হিংসার রাস্তায়
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরায় ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা করছে। বাংলার নির্বাচনে বিজেপিকে হারানোর পর ত্রিপুরায় সাম্রাজ্য বিস্তারে নেমে প্রতি মুহূর্তে বিজেপি সরকারের হামলার মুখে পড়ছে। তৃণমূল নেতারা অত্যাচারিত হচ্ছেন, তাদের সভা-সমিতি করতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসন দিয়ে হয়রানি করানো হচ্ছে। পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে বলে বিজেপি এই হিংসার রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ।

মানিক সরকার তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাতেই জল্পনা
তৃণমূল ত্রিপুরার মাটিতে পা দেওয়ার পর যতবার অত্যাচারিত হয়েছে, ততবারই সিপিএম নেতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিজেপির সমালোচনা করেছে। এর ফলে জল্পনা শুরু হয়েছিল, সিপিএম ও তৃণমূল একজোট হয়ে বিজেপির মোকাবিলায় নামতে পারে। মানিক সরকারের এই সমর্থন তারই ইঙ্গিত দিচ্ছেন বলে অনুমান করেছিল রাজনৈতিক মহল।

অন্যান্য দলের সঙ্গে সিপিএম বা বামেদের পার্থক্য বোঝালেন মানিক
কিন্তু মানিক সরকার স্পষ্ট করে দিলেন, তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে লড়াউ কোনও প্রশ্নই নেই। এতদিন আমরা অত্যাচারিত হয়ে এসেছি বিজেপির কাছে। আমাদের নিজস্ব নির্বাচনী ক্ষেত্রে পর্যন্ত যেতে দেওয়া হয়নি। এখন তৃণমূল এই রাজ্যে এসে সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা করায় তাদের উপর হামলা হচ্ছে। আমরা তার প্রতিবাদ করেছি। এটাই ত্রিপুরার সংস্কৃতি। এটা সিপিএম তথা বামফ্রন্টের সহবৎ। অন্যান্য দলের সঙ্গে সিপিএম বা বামেদের এটাই পার্থক্য।

একজন অত্যাচারিত হচ্ছে দেখে প্রতিবাদ করব না
মানিক সরকার বলেন, বিজেপির সরকার তৃণমূল নেতাদের উপর হামলা করায় আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। তার মানে এই নয় যে আমরা তৃণমূলকে সমর্থন করছি। একাট রাজনৈতিক দলের সংগঠন বিস্তারের অধিকার আছে। কিন্তু তা বলে হামলা হবে তাদের উপর, সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। সেই জায়গা থেকেই আমরা প্রতিবাদ করেছি।

মানুষ ভুল বুঝতে পেরেছেন, কাকে বেছে নেবে ত্রিপুরা
মানিক সরকার বলেন, ত্রিপুরার মানুষ ভুল বুঝতে পেরেছেন। তারা এখন পরিবর্তন চাইছেন। তাঁরা কাকে বেছে নেবেন তা তাদের ব্যাপার। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করছি। তৃণমূল আমাদের কাছে ফ্যাক্টর নয়। তৃণমূল তৃণমূলের মতো কাজ করছে। মানুষ যাঁকে বেছে নেবেন, সেই রাজনৈতিক দলই সরকার গড়বেন।

তৃণমূলের সঙ্গে জোট? স্পষ্ট করে দিলেন মানিক সরকার
মানিক সরকারের এহেন বিবৃতিতে তৃণমূল-সিপিএম জোট সম্ভাবনা ধাক্কা খেল। বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলের দিকে সমর্থনের হাত বাড়াতে পারে সিপিএম, এমন জল্পনা শুরু হয়েছিল ত্রিপুরায়। মঙ্গলবার সীতারাম ইয়েচুরিকে পাশে বসিয়ে মানিক সরকার তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন। তারপর সেই সম্ভাবনা আরও দৃঢ় হয়। তবে এদিন মানিক সরকার সব স্পষ্ট করে দেন।

ত্রিপুরাকে পাখির চোখ তৃণমূলের, হামলায় পাশে সিপিএম
বাংলায় জেতার পর ত্রিপুরাকে পাখির চোখ করেছে তৃণমূল। তৃণমূল ত্রিপুরায় সংগঠন বিস্তার করতে চাইছে। আর তৃণমূল ত্রিপুরায় পা দেওয়ার পর থেকেই বিজেপির বাধার মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি পদক্ষেপেই তৃণমূলের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিপিএম নেতা মানিক সরকারের।

বিজেপি চায় একটাই দল থাকবে ত্রিপুরায়, অভিযোগ মানিকের
সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে মানিক সরকার বলেন, বিজেপি চায় একটাই দল থাকবে ত্রিপুরায়। সেই লক্ষ্য নিয়েই সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করেছে বিজেপি। বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার জন্য লাগাতার হামলার রাস্তা নিয়েছে বিপ্লব দেব সরকার। বামেদের উপর হামলা দিয়ে শুরু করেছিল, এখন কংগ্রেস ও তৃণমূলের উপরও হামলা শুরু করেছে। বিরোধীদের সভাসমিতি করতে দিচ্ছে না বিজেপি। ত্রিপুরাকে একদলীয় রাজনীতির ল্যাবরেটরি বানাতে চাইছে বিজেপি।

একজন জনপ্রতিনিধির এন্ট্রি নেই এলাকায়, তাহলেই ভাবুন...
মানিক সরকার বলেন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। বিজেপি ২০১৮ সালে আমাদের হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। কারণ বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিল, তার সঙ্গে সমহমত হয়ে ত্রিপুরার মানুষ তাঁদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল। এখন ত্রিপুরার মানুষ বুঝতে পারছে কী ভুল তারা করেছে। তারপর আমি নিজে ১৫ বার চেষ্টা করেছি আমরা নির্বাচনী এলাকায় যেতে। বিজেপি যেতে দেয়নি। তাহলেই ভাবুন একজন জনপ্রতিনিধির এন্ট্রি নেই এলাকায়, তাহলে মানুষ কেমন রয়েছে বিজেপির শাসনে। আসলে পারফরম্যান্স শূন্য, বিজেপি ঠকিয়েছে ত্রিপুরাকে। তা












Click it and Unblock the Notifications