এক ডোজে ১০ গুণ, দুই ডোজে ৬ গুণ বেশি অ্যান্টিবডি! কোভ্যাক্সিনকে পিছনে ফেলছে কোভিশিল্ড
এক ডোজে ১০ গুণ, দুই ডোজে ৬ গুণ বেশি অ্যান্টিবডি! কোভ্যাক্সিনকে পিছনে ফেলছে কোভিশিল্ড
সিরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন, বর্তমানে এই দুই টিকার জোরেই ভারতে চলছে করোনা টিকাকরণ। যদিও এরই মাঝে সাম্প্রতিক রিপোর্টে আরও জোরদার হল কোভিশিল্ড বনাম কোভ্যাক্সিন তরজা। ভারতের হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স সমিতির (এইচসিডাব্লিউ) গবেষণা অনুযায়ী, কোভিশিল্ডের দুই ডোজ কোভ্যাক্সিনের চেয়ে অধিক অ্যান্টিবডি প্ৰস্তুতে সক্ষম। গবেষণার আওতায় ছিলেন টিকাপ্রাপ্ত চিকিৎসকরাও। টিকার দুই ডোজ পাওয়ার পর অসুস্থ হননি কেউই, যদিও টিকাকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে কোভিড পজিটিভ হয়েছেন প্রায় ৬ শতাংশ মানুষ। অতএব একক ডোজে যে ঝুঁকি বেশি, তা স্পষ্ট গবেষণার ফলাফলেই।

১৩ রাজ্যের ৫১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীর উপর গবেষণা
ভারতে ইতিমধ্যেই প্রকট টিকার অভাব, ফলে অধিকাংশ নাগরিক একক ডোজ পেলেও পাচ্ছেন না দ্বিতীয় ডোজ। এই কারণেই কোভিশিল্ডের ডোজ ব্যবধান বাড়িয়ে করা হয়েছে প্রায় ১২ সপ্তাহ। ২০২১-এর জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে প্রায় ১৩ রাজ্যের ৫১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীর রক্তের নমুনা খতিয়ে দেখেন গবেষকরা। বিজ্ঞানীদের মতে, কোভ্যাক্সিনের চেয়ে প্রথম ডোজে ১০ গুণ ও দ্বিতীয় ডোজে ৬ গুণ বেশি অ্যান্টিবডি উৎপাদক কোভিশিল্ড!

৫১৫ জনের মধ্যে কোভ্যাক্সিন নিয়েছেন মাত্র ৯০ জন
"সেরোপজেটিভিটি রেটের ক্ষেত্রে কোভ্যাক্সিনের চেয়ে যথেষ্ট এগিয়ে কোভিশিল্ড", মত গবেষকদের। অন্যদিকে রিপোর্ট অনুসারে, যাঁদের কখনও করোনা হয়নি, কোভিশিল্ডের দুই ডোজ নেওয়ার পরে তাঁদের দেহে অ্যান্টিবডির পরিমাণ ৯৭.৮%, কোভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে সেই হার ৭৯.৩%। সূত্রের খবর, অন্যান্য টিকার ন্যায় কোভ্যাক্সিনের লক্ষ্য স্পাইক প্রোটিন নয়। যদিও আইসিএমআর ও ভারত বায়োটেক টিকার মারাত্মক 'রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা' রয়েছে বলে জানালেও গবেষণা উল্টো কথাই বলছে। যদিও টি-সেল ইমিউনিটি পরিমাপন হয়নি এখনও, জানিয়েছেন গবেষকরা।

ভারতীয় স্ট্রেনের প্রাদুর্ভাব কমিয়েছে কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন
গবেষকদের মতে, কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিনের কারণে ভারতীয় স্ট্রেন বি.১.৬১৭.২-র প্রভাব বেশ কমেছে। অন্যদিকে এইচসিডাব্লিউয়ের গবেষণায় প্রতিরোধী ক্ষমতা ও লিঙ্গ এবং কোমর্বিডিটি ও টিকাকরণের মধ্যে বিস্তারিত সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। গবেষণার রিপোর্ট অনুসারে, আক্রান্ত ৩০ এইচসিডাব্লিউ কর্মীদের মধ্যে ৩ জন প্রথম ডোজের পর এবং ২৭ জন দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর আক্রান্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার দু'সপ্তাহের মধ্যে নাগরিকদের আক্রান্ত হওয়ার খবর অস্বস্তিতে ফেলেছে চিকিৎসকমহলকে।

অ্যান্টিবডির মাত্রা কতটা কমছে, দেখা হবে তাও
গবেষণার এক আধিকারিক ওরফে কলকাতার জিডি হাসপাতালের চিকিৎসক ডঃ এ কে সিংয়ের মতে, "দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের অধিক গতির কারণেই আক্রান্তের সংখ্যা লাগামছাড়া। আগামী মাসগুলিতেও এই গবেষণা চলবে, আমরা দেখতে চাই সময়ের সঙ্গে কীভাবে অ্যান্টিবডির সংখ্যা কমে।" বয়স, লিঙ্গ, বিএমআরের মত বিষয়ের উপর সেরোপজেটিভিটি হার নির্ভর না করলেও টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশনের কারণে যে তারতম্য ঘটতে পারে অ্যান্টিবডির সংখ্যায়, তা স্পষ্ট করেছেন এইচসিডাব্লিউয়ের গবেষকরা।












Click it and Unblock the Notifications