কোভিড–১৯ প্রাণ কেড়েছে বহু সিএপিএফ সেনা কর্মীর, ৪০ শতাংশের প্রাণ গিয়েছে দ্বিতীয় ওয়েভে
কোভিড–১৯ প্রাণ কেড়েছে বহু সিএপিএফ সেনা কর্মীর, ৪০ শতাংশের প্রাণ গিয়েছে দ্বিতীয় ওয়েভে
দেশকে রক্ষা করেন যাঁরা, তাঁরাই করোনা ভাইরাসের শিকার হয়েছেন। মৃত্যুও হয়েছে শতাধিক সেনা কর্মীর। মারণ করোনা ভাইরাসে এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ হাজারের বেশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) কর্মীরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী এই ভাইরাসে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩১ জন।

আক্রান্ত হয়েছে ৩৫ শতাংশের বেশি
সরকারি তথ্যে এও জানা গিয়েছে, ৩৫ শতাংশের বেশি সংক্রমণ ও ৪০ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতে, সেই সময় দেশে দ্বিতীয় ওয়েভের মহামারি শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, করোনা ভাইরাসের কোপ শুধু সাধারণ মানুষের ওপরই আসেনি, দেশের নিরাপত্তা বাহিনীও ভুক্তভোগী। সিপিএফের বৃহত্তর সিআরপিএফে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে। গত বছর মহামারির গোড়ার দিক থেকে এ বছর ৬ জুলাই পর্যন্ত ৮৪,০৪৫ জন সিএপিএফ কর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, অন্যদিকে ২৪,৮৪০ জন সিআরপিএফের কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে। সিআরপিএফের ১২৫ জন এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা গিয়েছেন।

ঝুঁকিতে কেন সেনা বাহিনী
দেশের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে সিএপিএফ সেনাদের। সত্যিটা হল, তাঁরা ব্যারাকে একসঙ্গে থাকেন এবং একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করেন, তাই তাঁরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এক কর্মকর্তা বলেন, 'প্রশিক্ষণের জায়গাটিও যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ কারণ গোটা সেনাবাহিনীর ব্যাচ সেখানে থাকে, খাবান খায় এবং সব কাজই একসঙ্গে করেন।' সশস্ত্র বাহিনীতেও ৪৫ হাজার করোনা কেস ও ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিএসএফের কর্মীরাও করোনা য় আক্রান্ত
অন্যদিকে, এই মারণ ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বিএসএফ বাহিনীও। বিএসএফের ২২,৯৭৮ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং ওই একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০ জনের। আবার সিআইএসএফের ১৯,৬৭৬ জন করোনায় আক্রান্ত ও ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য। সেনা বাহিনীর এক শীর্ষ অধিকর্তা জানিয়েছেন যে ২০২০ সালের ২৩ মার্চ যখন করোনা মহামারি ভারতে আছড়ে পড়েছিল সেই সময় ৫৩,৩৪৩ জন সিএপিএফ কর্মীর রিপোর্ট পজিটিভ আসে এবং ২০৩ জন মারা যান।

গত বছর আক্রান্তের পরিসংখ্যান
সেনা সূত্রের খবর, ওই সময়ের মধ্যে যাঁরা করোনা ভাইরাস পজিটিভ ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ১৫,৬১০ সিআরপিএফের, ১৪,৭২৮ জন বিএসএফের, ১১,৫১৩ জন সিআইএসএফের, সশস্ত্র সীমা বলের ৫,৭৪৭ জন, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুল্শের ৪,৭৩৬ জন, এনডিআরএফের ৬৬০ জন ও এনএসজির ৩৪৯ জন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সরকারিভাবে বলা হয়, 'এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিক থেকে সেনা বাহিনীর সব কর্মীদের টিকাকরণ শুরু করে দেওয়া হয় এবং এখনও পর্যন্ত ৯৯ শতাংশ প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছে এবং ৯০ শতাংশ দু'টি ডোজ নিয়েছে।' দ্বিতীয় ওয়েভ শুরু হওয়ার সময় অধিকাংশ সেনা কর্মীদের প্রথম ডোজ গ্রহণ করা হয়ে গিয়েছিল। 'এ বছরের ৬ জুলাই পর্যন্ত, ৩০,৭০২ জন সেনা কর্মী পজিটিভ এবং ১২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন'। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications