করোনা গ্রাফে সামান্য স্বস্তি দিয়ে শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নামল দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা
করোনা আক্রমণে দেশে ৪০ হাজারের ঘরের থেকে অনেকটাই নেমে শেষে ৩০ হাজারের ঘরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেষ ২৪ ঘণ্টার করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল যেখানে রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমিত হয়েছেন ৪২, ৯০৯জন সেখানে এদিন সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্টে জানানো হয়েছে সারা দেশে শেষ একদিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৯৪১ জন। উল্লেখ্য, আইসিএমআর ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে করোনার জেরে সারা দেশে সম্ভবত তৃতীয় স্রোতের প্রবল প্রফাব পড়বে না। তবে কিছু রাজ্যে তার প্রাথমিক ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে পরিসংখ্যান। এদিকে, হু এর তরফে দাবি, ভারতে করোনা পরিস্থিতি সার্বিক থেকে স্থানীয় স্তর বা 'এন্ডেমিক' এর দিকে যেতে শুরু করেছে। ফলে এই পরিস্থিতির মাঝে করোনা নিয়ে বর্তমান পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে নডর কাড়ছে।

শেষ ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে , ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০,৯৪১ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩৬,২৭৫ জন। এদিকে মোট সুস্থ হয়েছেন ৩,১৯,৫৯,৬৮০ জন। মৃতের সংখ্যা ৪,৩৮,৫৬০ জন। এদিকে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৫০ জনের। গত কয়েকদিনে দেশে একদিনে ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর উঠে আসতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমানে নামতে শুরু করেছে করোনার দৈনিক গ্রাফের বিভিন্ন দিক। এদিকে, সামনেই দেশে উৎসবের আসর। সেই জায়গা থেকে বারবার সাবধনতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র। এর আগে, কেরলে হু হু করে বেড়ে যায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সেই জায়গা থেকে গতকাল কেরলে ১৯ হাজারের আশপাশে ছিল দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। অন্যদিকে, আইসিএমআর জানিয়েছে মিজোরাম ও কেরলে হু হু করে করোনা আক্রান্তের সংখ্য়া বাড়লেও, কেরল গোটা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, কেরলে রোগীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংসর্গের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে থাকে কেরলে। এমনও ঘটনার কথা জানিয়েছেন আইসিএমআর এর বিশেষজ্ঞরা। তবে আপাতত গোটা দেশ জুড়ে বড়সর তৃতীয় স্রোতের আশঙ্কা নেই বলেই ধরা হচ্ছে। তবে নিজের মতো করে রাজ্যগুলিতে সাবধানতার দিকে যেতে যেমন হচ্ছে, তেমনই শিশুদের নিয়ে আলাদা সতর্কতা অবলম্বনের কথাও বলা হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের তরফে।
এদিকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে নিজের মতো করে প্রস্তুতিপর্ব শুরু হয়েছে। বিশেষত করোনা থেকে শিশুদের আগলে রাখতে বহু ধরনের স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, সেপ্টেম্বরেই শিশুদের টিকাকরণ নিয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্র। বহু রাজ্যে সেপ্টেম্বর থেকে খুলে যাচ্ছে স্কুল। সেই জায়গা থেকে রীতিমতো উদ্বেগে একাধিক রাজ্য। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, স্কুল খোলার আগে যাতে সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকারা ভ্যাকসিনেটেড হয়ে যান ,সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। এদিকে, তবে করোনা টিকা শিশুদের দেওয়া নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধনতা অবলম্বন করে চলার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই জায়গা থেকে দেখা যাচ্ছে, করোনা ভ্যাকসিন ৬৪,০৫,২৮,৬৪৪ জন নিয়েছেন দেশে। ফলে ভ্যাকসিনের গতি বাড়িয়েই একমাত্র এই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে দাবি করছেন বহু বিশেষজ্ঞ। এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকায় খুঁজে পাওয়া এক নয়া করোনা ভাইরাস ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে গোটা বিশ্ব। এই নয়া ভ্যারিয়েন্ট থেকে যে তথ্য পাওয়া যায় তাতে দেখা যাচ্ছে, কোনও টিকার কার্যকারিতার বাধাকে এই ভ্যারিয়েন্ট মানছে না। যে ঘটনয়া কার্যত ত্রস্ত অনেকেই। এই ভ্যারিয়েন্ট আফ্রিকা থেকে ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গতাকলের করোনা রিপোর্ট বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২,৯০৯ জন। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৪,৭৬৩ জন। এদিকে, আজকে প্রকাশিত শেষ ২৪ ঘণ্টার রিপোর্টে বলা হচ্ছে, দেশের করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা শেষ একদিন ৩৫০ জন। ফলে করোনা পরিস্থিতির মাঝে মৃতের সংখ্যা একটি সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এদিকে, সদ্য করোনা বিধির আওতায় থেকে সম্পন্ন হয়েছে গোটা দেশের জন্মাষ্টমী উৎসব পালন। এরপর রয়েছে মহারাষ্ট্রের গণেশ চতুর্থী উৎসব। যা নিয়ে কড়া করোনা বিধি পালনের ডাক দিয়েছে উদ্ধব সরকার। এরপর পরিস্থিতি কোনদিকে যায়, তার দিকে তাকিয়ে গোাটা দেশ।












Click it and Unblock the Notifications