বিক্ষিপ্ত লকডাউনে উৎপাদন শিল্পে মন্দা, একাধিক রাজ্যে ফের ঘনীভূত হচ্ছে পরিযায়ী সঙ্কট
বিক্ষিপ্ত লকডাউনে উৎপাদন শিল্পে মন্দা, একাধিক রাজ্যে ফের ঘনীভূত হচ্ছে পরিযায়ী সঙ্কট
করোনা মহামারীর জেরে মার্চে শুরু লকডাউনের পর থেকেই ধুঁকছে দেশীয় অর্থব্যবস্থা। বর্তমানে আনলক পর্ব শুরু হলেও মন্দা কাটতে ঠিক কতদিন সময় লাগতে পারে সেই বিষয়ে সঠিক দিশা দিতে পারছেন না কেউই। এদিকে একাধিক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে দেশের উৎপাদন শিল্প সঙ্কোচনের কবলে থাকতে চলেছে প্রায় এক টানা চার মাস। কাজ হারিয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। সঙ্কট বেড়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদেরও।

ফের পরিযয়ী সঙ্কট বাড়ছে জুলাইয়ে
এমতাবস্থায় জুলাই মাসে অবস্থা আরও সঙ্গীন হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে এপ্রিল-মে মাসের তুলনায় কল-কারখানার উৎপাদন জুনে সামান্য বাড়ার আভাস মিলেছিল। ফলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল জুলাইয়ে তা আর একটু বাড়বে। কিন্তু বর্তমানে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে দেশের ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচকে। সূত্রের খবর, বর্তমানে আইএইচএস মার্কিট ইন্ডিয়ার সমীক্ষা এই খাতে আরও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।

বিক্ষিপ্ত লকডাউনে কমছে উৎপাদন, কমছে রফতানিও
সূত্রের খবর, ওই সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে জুলাইয়ে পিএমআই সূচকে জুনের তুলনায় বেশি সঙ্কোচনের ছায়া। জুনে পিএমআই-র পরিমাণ যেখানে ছিল ৪৭.২, জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়ায় ৪৬শে। যার ফলে ভারতীয় উত্পাদন ক্ষেত্রে বড়সড় আর্থিক অবনতি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যার জেরে অটোমোবাইল শিল্পের মতো একাধিক উত্পাদন ক্ষেত্রে কাজ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। একইসাথে জুন থেকে লকডাউন শিথিল হয়ে শিল্পের কর্মকাণ্ড শুরু হলেও, সংক্রমণ বাড়ায় বেশিরভাগ সংস্থাই পুরোদমে উৎপাদন শুরু করতে পারছে না। বিভিন্ন জায়গায় চলছে বিক্ষিপ্ত লকডাউন। ফলে কমছে কাঁচামালের চাহিদা। কমছে রফতানিও।

স্থানীয় লকডাউনে আরও সঙ্গীন পরিস্থিতি
করোনা সঙ্কটকে উপেক্ষা করে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে যারা গত কয়েক মাসে শহরাঞ্চল গুলিতে কাজে এসেছিলেন তাঁর কাজ হারিয়ে নিজ নিজ গ্রাম ও মফস্বর গুলিতে ফিরে গেছেন বলে জানা যাচ্ছে। যার ভলে গ্রামীন অর্থব্যবস্থাতেও ফের লকডাউনের সময়কার ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। এদিকে গত দু-মাসে এই অনিশ্চয়তার মেঘ খানিক কাটতে শুরু করলেও করোনার প্রকোপ বৃদ্ধিতে একাধিক রাজ্যে স্থানীয় লকডাউন জারি থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে।

করোনা রাজ্য গুলিতে ফের ঘনীভঊত হচ্ছে পরিযায়ী সঙ্কট ?
এদিকে করোনার ধাক্কায় বড় শহর গুলিতে অগুনতি মানুষের কাজ গেলেও তাদের একটা বড় অংশ নিজ এলকায় ফিরে গিয়ে ছোটখাটো কাজের সংস্থান করছেন। কিন্তু কাজের অনুপাতে বেতন আগের থেকে কয়েক গুন কম পাওয়ায় সঙ্কটে পড়ছে দৈনন্দিন জীবন যাপন। বর্তমানে এই চিত্র সব থেকে বেশি পরিমাণে দেখা গেছে রাজ্যের বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, ঝাড়খন্ড এবং ওড়িশায়। এই রাজ্য গুলি থেকে দেশের বিভিন্ন কাজ করতেন এই রাজ্য গুলির ১১৬টি জেলার প্রায় ৬৪ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। যাদের মধ্যে বর্তমানে এক তৃতীয়াংশ পরিযায়ী শ্রমিকই ১৭টি জেলায় ফিরে গেছেন বলে জানা যাচ্ছে।

সহজ কথায় কি ছাপ ফেলে এই পিএমআই সূচক ?
আর এই গোটা পরিস্থিতির জেরে উত্তোরত্তর কমছে মানুষের জীবন মান। কমছে ক্রময় ক্ষমতা। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন পিএমআই সূচক ৫০-এর উপরে থাকার অর্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বৃদ্ধি। ৫০-এর নীচে মানে সঙ্কোচন। সূত্রের খবর, টানা ৩২ মাস বৃদ্ধির ঘরে থেকে মার্চে ওই সূচক ছিল ৫১.৮। সেই মাসেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে আঘাত হানে করোনা। এপ্রিলে সূচক নেমে যায় ২৭.৪-এ। মে-জুন মাসে তা ধীরে ধীরে উঠতে শুরু করলেও জুলাইয়ে ফের তা নিম্নমুখী বলে জানা যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications