মধ্যরাতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি, পরিণত হল আইনে
১১ ডিসেম্বর রাজ্যসভায় পাশ হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী ২০১৯ বিল। দিল্লিতে যেদিন এই বিল পাশ হয়েছে, সেদিন উত্তরপূর্বে অসম থেকে ত্রিপুরা জ্বলেছে বিল ঘিরে প্রতিবাদের আগুনে। বিল পাশের পরদিন থেকে দেশের দুটি সংগঠন বিলের বিরুদ্ধে গিয়ে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়। তবে এসবের মধ্যেই এবার রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে আইনে পরিণত হল ২০১৯ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল।

রাজ্যসভা ও লোকসভার অঙ্ক
সংসদের দুই কক্ষেই ভোট অঙ্কে পাশ হয়ে গিয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের পেশ করা এই বিল। লোকসভায় এই বিলে ৩১১ জন সাংসদের সমর্থন পেয়ে পাশ হয়। পরে রাজ্যসভায় এই ১২৫ জন সাংসদের সমর্থন পেয়ে পাশ হয়েছে। বিজেপির সমর্থনে সংসদে অকালি দল ও জেডিইউ এগিয়ে আসে। জোটের বাইরে থেকে ওয়াই এসআর কংগ্রেস, বিজেডি, টিডিপি, এআইডিএমকের মতো দল সমর্থন করে।

বিলে কী লেখা রয়েছে?
প্রসঙ্গত, বিল জানিয়ে দিয়েছে স্পষ্টভাবে যে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। তবে এই নাগরিকত্ব কেবলমাত্রা খ্রিস্টান, পারশি, শিখ, হিন্দু, জৈন,বৈদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই পাবেন। আর বিলের এমন বক্তব্য নিয়েই বাধ সেধেছে বিরোধীরা। জামিয়াত ও মুসলিম লিগের মতো সংগঠন বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

জ্বলছে উত্তরপূর্ব
বিলের প্রতিবাদে সরব অসম থেকে ত্রিপুরা। সেনা নামিয়ে সেখানের পরিসঅথিতি সামলানোর চেষ্টা করা হলেও, সেখানের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডব দেখা গিয়েছে। উল্লেখ্য, দিল্লির সংসদে যখন এই বিল নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন অসম সহ গোটা উত্তরপূর্ব জ্বলেছে বিক্ষোভের আগুনে। সেখানের মানুষের দাবি, এই বিল কার্যকরী হলে 'বহিরাগত'রা অবাধে ঢুকে যেতে পারবে উত্তরপূর্বে। যার ফলে অসমের মানুষের জীবন জীবিকায় টান পড়বে। নষ্ট হবে উত্তরপূর্বের মানুষের সংস্কৃতি।












Click it and Unblock the Notifications