‘মোদী জমানায় সর্বত্র সম্মান খোয়াচ্ছে ভারত’, চাবাহার রেল প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ রাহুল গান্ধীর
চাবাহার রেল প্রকল্পে ভারতের নাম বাদ যাওয়ার পরেই কেন্দ্রকে নিশানা রাহুলের
ইতিমধ্যেই চিনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির পর চাবাহার রেলপ্রকল্প থেকে ভারতকে বাদ দিয়ে দিয়েছে ইরান। চার বছর আগে সই করা রেলপ্রকল্পের চুক্তির তোয়াক্কা না করেই গত সপ্তাহেই ইরান প্রশাসন লাইন পাতার কাজ শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এবার এই প্রসঙ্গেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা গেল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক নীতি নিয়েও একের পর এক তোপ দাগেন তিনি।

ভারত সর্বত্রই সমান্ন খোয়াচ্ছে, তোপ রাহুলের
এই প্রসঙ্গে এদিন টুইটারে রাহুল লেখেন, "ভারতের বৈদেশিক নীতি দিশেহারা ও ভগ্নপ্রায়। আমরা সর্বত্রই আমাদের সম্মান খোয়াচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার জানেই না আমাদের কি করা উচিত। " এদিকে চাবাহার সমুদ্রবন্দর থেকে আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া ইরানি শহর জাহেদান পর্যন্ত ৬২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে রেলপথ স্থাপনের পরিকল্পনা হয় আগেই।

২০২২ সালে শেষ হতে পারে এই প্রকল্পের কাজ
এই প্রকল্পের জন্য ২০১৬ সালে ভারত, ইরান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি ত্রিদেশীয় চুক্তিও হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের একটি বিকল্প বাণিজ্য-পথ গড়ে তুলতেই এই রেলপথ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমানে ইরান জানিয়েছে ভারতের সাহায্য ছাড়াই ২০২২ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এই খাতে প্রয়োজনীয় ৪০ কোটি ডলার দেবে ইরানের জাতীয় উন্নয়ন তহবিল।

২০১৬ সালে এই চুক্তি সাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
২০১৬ সালে ইরান সফরকালে ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি এবং আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি আশরাফ গনির সাথে চাবাহার ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই প্রকল্পে ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ কনস্ট্রাকশান লিমিটেডের ১৬০ কোটি ডলার খরচের কথা ছিলও বলেও জানা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে এই প্রকল্প থেকে ভারতের বাদ পড়ার সম্ভাব্য কারণ চিন আর আমেরিকা।

তেহরানের সঙ্গে ৪০ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর বেজিংয়ের
সূত্রের খবর, তেহরানের সঙ্গে সম্প্রতি ২৫ বছর মেয়াদের ৪০ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বেজিং। এদিকে জঙ্গিদের অর্থ ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে মদত দেওয়ার অভিযোগে আমেরিকা ইরানের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে । পরবর্তীতে এই খাতে ইরানের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দিল্লির উপর বছরদু'য়েক ধরেই চাপ বাড়াচ্ছিল ট্রাম্প প্রশাসনও। যার জেরে পরবর্তীতে ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত মোদী সরকার। আর এই টানাপোড়েনের মাঝে পড়েই ভারতের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়েছে ইরান, এমনটাই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।












Click it and Unblock the Notifications