আবার এক প্রাণঘাতী মোবাইল গেম! মা ও বোনকে ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে খুন কিশোরের

Subscribe to Oneindia News

কিছুদিন আগেই মড়কের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল ব্লু-হোয়েল নামে প্রাণঘাতী এক মোবাইল গেম। বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যেই এই মোবাইল গেমে কয়েক শ' মানুষ আত্মঘাতী হয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই কিশোর-কিশোরী। ভারতেও ব্লু-হোয়েলের মৃতের সংখ্যা সরকারিভাবে পাঁচ। এই গেম খেলে নিজেদেরকে জখম করেছেন এমন ছেলে-মেয়ের সংখ্যা শতাধিক। এই পরিস্থিতিতে সামনে এল আরও এক ভয়ঙ্কর তথ্য। সম্প্রতি দিল্লির কাছে গ্রেটার নয়ডায় মা ও মেয়ের খুনের পিছনেও ব্লু-হোয়েলের মতো এক প্রাণঘাতী গেম আছে বলেই মনে করছে পুলিশ।

গ্রেটার নয়ডায় জোড়া খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা চমকে দেবে

৫ ডিসেম্বর গ্রেটার নয়ডার গৌর সিটি-র একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় অঞ্জলি আগরওয়াল নামে বছর বিয়াল্লিশের এর গৃহবধূর দেহ। সেই সঙ্গে তাঁর বছর এগারোর মেয়ে মণিকর্ণিকারও দেহ উদ্ধার হয় ফ্ল্যাট থেকে। অঞ্জলি-র ষোল বছরের ছেলে গৌর সিটি-র ফ্ল্য়াট থেকে নিখোঁজ ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানায় ষোল বছরের ছেলেই খুনি। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানায়, প্রথমে ব্যাট দিয়ে অঞ্জলি ও তাঁর মেয়ে মণিকর্ণিকাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর ধারাল কাঁচি দিয়ে দু'জনকে ক্ষতবিক্ষত করে মৃত্য়ু নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার সময় বাড়ির কর্তা ব্যবসায়ী সৌম্য আগরওয়াল সুরাটে ছিলেন।

অবশেষে পুলিশ বারাণসী থেকে অঞ্জলি ও সৌম্য ছেলেকে উদ্ধার করে গ্রেটার নয়ডায় নিয়ে আসে। পুলিশের দাবি, জেরায় ১৬ বছরের ওই কিশোর মা ও বোন-কে নৃশংসভাবে খুনের কথা স্বীকার করেছে। ৫ ডিসেম্বরই অঞ্জলি ও তাঁর মেয়ে মণিকর্ণিকা দেহ উদ্ধারের সময় ফ্ল্যাটের বাথরুম থেকে ছেলের রক্ত-মাখা জামা-কাপড় উদ্ধার করেছিল পুলিশ। জেরায় সে সব দেখাতেই নাকি ভেঙে পড়ে।

পুলিশের দাবি, সৌম্য ও অঞ্জলির ছেলে 'গ্যাংস্টার ইন হাইস্কুল' নামে এক মোবাইল গেমে আসক্ত। ব্লু-হোয়েলের মতোই এই গেম প্রাণঘাতী বলে পুলিশ দাবি করেছে। অঞ্জলির ফ্ল্য়াটেও বিভিন্ন অনলাইন ইলেক্ট্রনিক্স গ্যাজেটেও এই গেম পাওয়া গিয়েছে। এই গেমের নিয়ম-ই হল নিজের গ্যাংস্টার ইমেজকে তুলে ধরতে হবে। অন্যকে মারধর করাও এই গেমের নাকি একটা অংশ। এমনকী, গেমের খেলোয়াড়কে প্রতিপক্ষকে এমনভাবে মার দিতে হবে যাতে সে আধমারা হয়ে যায়।

সৌম্য ও অঞ্জলির ছেলে সারাক্ষণই নাকি এই গ্যাংস্টার ইন হাইস্কুল-গেমে ডুবে থাকত। এই করতে গিয়ে সে দিন দিন পড়াশোনাতে অমনোযোগীও হয়ে পড়ে। এই নিয়ে সৌম্য এবং অঞ্জলি ছেলেকে বকাও দিতেন।

পুলিশের দাবি ৪ ডিসেম্বর মা ও বোনের সঙ্গে বাজার থেকে ফ্ল্য়াটে ফিরেছিল ওই কিশোর। দশম শ্রেণির ছাত্র ওই কিশোর মা অঞ্জলি ও বোন মণিকর্ণিকার সঙ্গে রাত আটটায় ফ্ল্যাটে যে ঢুকেছিল তা সিসিটিভি ফুটেজ থেকে স্পষ্ট। ওই দিনই রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ওই কিশোরকে ফ্ল্য়াট থেকে মোবাইল হাতে বের হতেও দেখা গিয়েছে। এটাও সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছিল। এর পরের দিনই ফ্ল্য়াট থেকে অঞ্জলি ও তাঁর মেয়ে মণিকর্ণিকার দেহ উদ্ধার হয়।

পুলিশের দাবি, জেরায় ওই কিশোর জানিয়েছে, সে দিন বাজার থেকে বাড়ি ফিরেই মা পড়াশোনার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু, সে নাকি মোবাইলে গেম খেলতে ব্যস্ত ছিল। ডাইনিং টেবিলে বসে পড়তে চাওয়ায় অঞ্জলি নাকি ছেলেকে বকেছিলেন। তিনি নাকি ছেলেকে ঘরে গিয়ে পড়ার টেবিলে বসে পড়াশোনা করতে বলেন। এরপরও ছেলে কথা শুনছে না দেখে নাকি রেগে গিয়েছিলেন অঞ্জলি। ছেলে মোবাইলে গেম খেলছে দেখে অঞ্জলির রাগও নাকি সপ্তমে চড়ে গিয়েছিল।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, এমনই সময় ছেলে রেগে গিয়ে ব্য়াট দিয়ে অঞ্জলিকে আঘাত করে। অঞ্জলি মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও নাকি ক্রোধে উন্মত্ত ছেলে ব্যাট দিয়ে সমানে প্রহার করে। অঞ্জলিকে বাঁচাতে ছুটে আসে এগারো বছরের মণিকর্ণিকা। কিন্তু, দাদার রাগের হাত থেকে তারও নিস্তার মেলেনি। ব্য়াট দিয়ে প্রহারের শেষে মা ও বোনকে কাঁচি দিয়ে শরীরের একাধিক অংশে আঘাত করে সে।

যদিও, পুলিশের যুক্তি মানতে রাজি নন অভিযুক্ত কিশোরের বাবা তথা অঞ্জলির স্বামী সৌম্য। তাঁর অভিযোগ ফ্ল্য়াটে ২ লক্ষ টাকা ছিল। তার কোনও খোঁজ নেই। ছেলে নিজের হাতে মা ও বোনকে নৃশংসভাবে খুন করেছেন এটা মানতে রাজি নন সৌম্য। তবে ছেলে যে মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছিল সে কথা স্বীকার করেছেন তিনি। কিন্তু, 'গ্য়াংস্টার ইন হাইস্কুল' নামে মোবাইল গেমের প্রভাবেই যে ছেলে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে তা মানতে রাজি নন সৌম্য।

পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত ওই কিশোরকে হোমে রাখা হয়েছে। জুভেনাইল কোর্টেই তার বিচার হবে। কিশোরের কাছে থাকা মোবাইল থেকেও 'গ্যাংস্টার ইন হাইস্কুল' গেমটি পেয়েছে পুলিশ।

English summary
Now, another task-based game called Gangster in High School, available both on Android and iOS platforms, is in news.

Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.