শীঘ্র চিকিৎসার জন্য বাড়াতে হবে ওষুধের যোগান, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা
শীঘ্র চিকিৎসার জন্য বাড়াতে হবে ওষুধের যোগান, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা
করোনা ভাইরাসের পাশাপাশি দেশে মাথা চাড়া দিয়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউর্কোমাইকোসিস। গুজরাত, মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি জাতীয় রাজধানী দিল্লিতেও এই সংক্রমণ বাড়তে দেখা গিয়েছে। চিকিৎসকরা সতর্কতা জারি করে এই রোগের ওষুধের যোগানের উন্নতি করার আর্জি জানিয়েছেন।

মহামারি অ্যাখা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে
একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিউর্কোমাইকোসিস সংক্রমণের ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয় অনেক রাজ্যই এই রোগকে মহামারি ব্যাধি আইনের (১৮৯৭) আওতায় একে 'মহামারি' বলে অ্যাখা দিয়েছে। দিল্লির চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে রাজধানীতে মিউর্কোমাইকোসিসের ওষুধ অ্যাম্ফোটেরিসিন ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরা এও জানান যে সুস্থ হওয়া কোভিড-১৯ রোগীদের শরীর যেহেতু দুর্বল হয়ে থাকে সেই জন্য তাঁদের অনেক আগে থেকে চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া দরকার। চিকিৎসকদের মতে, কোভিড-১৯ চিকিৎসার সময় যে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয় এবং কোমর্বিডিটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আরও বেশি করে ঝুঁকিপূর্ণ।

অভাব ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ওষুধের
চিকিৎসকরা জানান যে তাঁরা অনুমান করেছিলেন যে কোভিড-১৯-এর কারণে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঘটনা ঘটবে কিন্তু এখন ওষুধেরও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ভেঙ্কটেশ্বর হাসপাতালের শীর্ষ চিকিৎসক এবং ইএনটি সার্জেন ডাঃ বিবেক সিনহা জানিয়েছেন যে রোগীদের উপসর্গের ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। তিনি বলেন, 'প্রথম ওয়েভের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আমরা মিউর্কোমাইকোসিসের বৃদ্ধির অনুমান করেছিলাম কিন্তু ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের বাড়বাড়ন্তর জন্য আমরা আগে থেকে প্রস্তুত ছিলাম না এবং সংক্রমণের সঙ্গে মোকাবিলা করতে যে ওষুধের প্রয়োজন তারও যোগান নেই। অ্যাম্ফোটেরিসিন তিনটে ভিন্ন ভিন্নভাবে রয়েছে। লিপসোমাল অ্যাম্ফোটেরিসিন, লিপিড কমপ্লেক্স ভার্সান ও অ্যাম্ফোটেরিসিন বি ডিঅক্সিকোলেট (অ্যান্টি-ফাঙ্গাসের এটি পুরনো সংস্করণ)। তবে পুরনো সংস্করণটি উল্লেখযোগ্য অসুস্থতার কারণ হতে পারে কারণ এটি কিডনির ক্ষতি করতে পারে, কারণ বেশিরভাগ রোগীদের ডায়াবেটিস রয়েছে। যার জন্য লিপসোমাল অ্যাম্ফোটেরিসিনকেই পছন্দ করা হয় চিকিৎসার জন্য।'

অ্যাম্ফোটেরিসিন ওষুধের দাম
লিপসোমাল অ্যাম্ফোটেরিসিনের মূল্য যথেষ্ট উচ্চ এবং কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়া রোগী, যাঁদের এই ওষুধের প্রয়োজন, তাঁদের মধ্যে দ্বিগুণ হাহাকার পড়ে গিয়েছে। এই সংক্রমণের কারণে মানুষের সার্জিক্যাল সাপোর্টের প্রয়োজন রয়েছে কারণ মৃত বা সংক্রমণিত টিস্যুগুলি সরিয়ে দেওয়ার পরই এই চিকাৎসা কার্যকর হয়। ডাঃ সিনহা বলেন, 'লিপোসোমাল অ্যাম্ফোটেরিসিনের মূল্য দৈনিক গড়ে সাড়ে তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকা।'

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ওষুধের উৎপাদন
দিল্লির একাধিক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান উৎপাদকদের পাশাপাশি কেন্দ্র সরকার আরও পাঁচজন উৎপাদনকারীকে অ্যাম্ফোটেরিসিন-বি ওষুধ উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে। এ বছরের জুলাই থেকে প্রত্যেক মাসে অতিরিক্ত ১,১১,০০০ শিশি অ্যাম্ফোটেরিসিন-বি উৎপাদন করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে যে দেশে ৫,৪২৪টি মিউর্কোমাইকোসিসের কেস রয়েছে যার মধ্যে ৪,৫৫৬ জন রোগীর কোভিড-১৯ সংক্রমণের পূর্ব রিপোর্ট রয়েছে এবং ৫৫ শতাংশের ডায়াবেটিস রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications