• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts
Oneindia App Download

অবশেষে ৩১ বছর পর কাশ্মিরী পণ্ডিত হত্যায় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হিংস্রতার নায়ক বিট্টা কারাটে

Google Oneindia Bengali News

বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্য অনুযায়ী, মানুষের কর্ম ফল কখনও না কখনও তাকে ভোগ করতেই হয়। এই কথাই হয়ত এখন বলছেন সেইসব প্রত্যেক কাশ্মিরী পণ্ডিতরা যাঁদের জীবন বদলে গিয়েছিল মাত্র একটি রাতের মধ্যেই। তারপর একটা দুটো নয়, দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ৩১টা বছর। কিন্তু তাঁদের অপেক্ষা এখনও চলছে প্রথম দিনের মতই। অপেক্ষা নিজেদের মাটিতে ফেরার, অপেক্ষা সবকিছু আবার আগের মত হয়ে যাওয়ার সবথেকে বড় বিষয় অপেক্ষা ন্যায় পাওয়ার। কিন্তু বিগত তিন দশকে কেউ তাঁদের কথা ভেবেও দেখেননি। আর এতদিন পর একটা সিনেমা সম্পূর্ণ পাল্টে দিতে চলেছে এইসব শিকড়হারাদের জীবন। নৃশংসতার দলিল 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস' আপামর ভারতীয়দের চিনিয়েছে 'কাশ্মীরের কষাই' নামে পরিচিত বিট্টা কারাটেকে। আর এবার তার কৃতকর্মের জন্য আইনের মুখোমুখি দাঁড়ালেন বিট্টা।

Recommended Video

সাংবাদিকতার আড়ালে জঙ্গি কার্যকলাপ! কাশ্মীরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিকেশ ২ লস্কর জঙ্গি
সতীশ টিক্কুর হত্যাকারী

সতীশ টিক্কুর হত্যাকারী

'বিট্টা কারাটে' এটি এমন একটি নাম যা এখনও ভারতের কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতি রাতে ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নের মত তাড়া করে। 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস' ছবির দৌলতে এখন প্রায় সকলেই জানেন যে ১৯৯০ সালে দেশের সবথেকে সুন্দর উপত্যকায় কীভাবে রক্তের হোলিখেলা চালিয়েছিলেন বিট্টা কারাটে। একরাতের মধ্যে সম্ভবত প্রায় ৪০জন কাশ্মীরি পন্ডিতকে হত্যা করার কথা নিজে মুখে স্বীকার করেছেন বিট্টা। দীর্ঘ ৩১ বছর পর, ফারুক আহমেদ দার ওরফে 'বিট্টা কারাটে' নামে বেশি পরিচিত ব্যক্তি অবশেষে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং কারাটের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সতীশ টিক্কুর হত্যার জন্য বিচারের মুখোমুখি হলেন।

আদালত ও একটি 'খুনি'

আদালত ও একটি 'খুনি'

যদিও বিচারাধীন কোনও অভিযুক্তকে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে কখনও 'আসামি' বলা চলেনা, কিন্তু সেক্ষেত্রে কাশ্মীরে যে নরহত্যার নজির রেখেছিলেন বিট্টা কারাটে, সেই কথা অবলীলায় সকলের সামনে স্বীকার করেছেন স্বয়ং বিট্টা নিজে। সতীশ টিক্কুর পরিবার বিশিষ্ট আইনজীবী উৎসব বেইন্সের মাধ্যমে শ্রীনগর দায়রা আদালতে আবেদন করেছেন বিকাশ রায়নার সমর্থনে সতীশ টিক্কুর হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিট্টা কারাটেকে। বুধবার এই মামলার শুনানি।

কে এই বিট্টা কারাটে?

কে এই বিট্টা কারাটে?

বছরের পর বছর ধরে জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট বা সংক্ষেপে জেকেএলএফ-এর নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এই বিট্টা কারাটে। 'কাশ্মীর ফাইলস' মুভিটি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পদ্ধতিগত হত্যাকাণ্ডে তার ভূমিকা তুলে ধরার পরে আবার লাইমলাইটে ফিরে এসেছেন তিনি। মূলত"রালিভ, গালিভ ইয়া চালিভ" অর্থাৎ রূপান্তর করুন, মরুন বা ছেড়ে দিন-এই শর্তের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলা বহু কাশ্মীরি পণ্ডিতকে হত্যা করা হয়েছিল এবং কয়েক হাজার কাশ্মীর উপত্যকা থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। সবকিছু ফেলে রেখে কার্যত সর্বহারার মত কাশ্মীর ছেড়ে চলে আসেন তাঁরা। আর এই চরম হত্যা অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই বিট্টা কারাটে।

 বিট্টার স্বীকারোক্তি

বিট্টার স্বীকারোক্তি

কাশ্মীরি পণ্ডিতদের লক্ষ্যকরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে। তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ সাঈদের মেয়ে রুবাইয়াকে অপহরণের পরপরই, যা ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদীদের মুক্তিপণ হিসেবে কাড়ামুক্ত করে শেষ হয়েছিল। বিট্টা কারাতে ১৯৯০ সালের জুনে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত এই গণহত্যার নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালে বন্দী অবস্থায়, তিনি একটি সাক্ষাত্কার দিয়েছিলেন যাতে তিনি বলেছিলেন যে তিনি একজন সন্ত্রাসী হয়েছিলেন কারণ স্থানীয় প্রশাসন দ্বারা তাঁর উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। তিনি ১৯৯০ সালে ৪০ জনেরও বেশি কাশ্মীরি পন্ডিতকে একরাতের মধ্যে হত্যা করেছিলেন বলে স্বীকার করে নেন। পাশাপাশি তিনি বলেন এই কাজ করেছিলেন শুধুমাত্র জেকেএলএফ শীর্ষ কমান্ডার আশফাক মজিদ ওয়ানির দেওয়া 'আদেশ' অনুসরণ করতে। ওয়ানি ছলেন সেই ব্যক্তি যিনি বিট্টা কারাতে এবং অন্যদেরকে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তানে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে তাকে এনকাউন্টারে হত্যা করা হয়। সেই ভিডিওতে কারাটে আরও স্বীকার করেছেন যে তাঁর প্রথম শিকার ছিলেন সতীশ কুমার টিক্কু। কারাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ৪২ জনকে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে। "আমি নিরাপত্তা কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি করার জন্য একে-৪৭ রাইফেলও ব্যবহার করেছি।" বলে স্বীকার করেন তিনি।

 কারাটের মুক্তি

কারাটের মুক্তি

তার গ্রেফতারের ষোল বছর পর, কারাটেকে ২০০৬ সালে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, জননিরাপত্তা আইন বা পিএসএ-এর অধীনে তার গ্রেফতারি বাতিল করা হয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর। এমনকি তাঁর মুক্তির সময় কাশ্মীর উপত্যকায় তাঁকে স্বাগত জানানো হয়, সেই সঙ্গে একটি মিছিলে তার উপর ফুলের পাপড়ি বর্ষণ করা হয়েছিল। এরপর পুলওয়ামা হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সন্ত্রাসবাদীদের টাকা যোগান দেওয়ার অভিযোগে ২০১৯ সালে এনআইএ তাকে আবার গ্রেপ্তার করেছিল। তাহলে কি এখন অবশেষে শেষ হবে কাশ্মিরী পণ্ডিতদের ন্যায় বচারের প্রতীক্ষার? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করলেন সেইসব হাজার হাজার ঘরছাড়া নিরীহ মানুষ।

English summary
bitta karate faces legal action for kashmiri pandit murder case after 31 years
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X