বিহার ভাসাচ্ছে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্রের চিন্তায় অসম
বিহার ভাসাচ্ছে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্রের চিন্তায় অসম
বেশ কিছুদিন ধরেই গঙ্গা নদীর ভাঙনের খবর প্রকাশ্যে আসছিল। দেখা যাচ্ছে, সেই পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র বদল ঘটেনি এখনও৷ কপালে ভাঁজ ফেলছে ব্রহ্মপুত্রের বন্যা পরিস্থিতিও। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে সেখানে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। যার ফলে প্লাবিত হতে পারে অসম, পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ৷

বিশেষজ্ঞদের মতে টানা বৃষ্টির জন্যই এই হাল হয়েছে গঙ্গার। কিছুদিন আগেই খবর পাওয়া গিয়েছিল, প্রয়াগরাজে বিপদসীমার অনেকটাই ওপর দিয়ে বইছে গঙ্গা, এবার রীতিমতো বিহারে বিভিন্ন জায়গাতে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে নদীটি। শেষ পাওয়া খবর থেকে জানা গিয়েছে, সপ্তাহ পেরোলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি৷ সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্য বলছে, বিহারের একটি অঞ্চলে অত্যন্ত ভয়ানক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সবমিলিয়ে বন্যার কবলে রয়েছে ৩১ টি অঞ্চল। যার মধ্যে ২১টি-ই বিহারের। বাকি ছ'টি অঞ্চল উত্তরপ্রদেশ, দু'টি অসমের। ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের একটি করে অঞ্চলও বন্যার কবলে রয়েছে। প্রায় ২৫টি অঞ্চলে বিপদসীমার ওপর দিয়ে নদীর জল বইছে৷ যার মধ্যে ১০টি অঞ্চল বিহার, ৬টি অঞ্চল উত্তরপ্রদেশ, সাতটি অসম ও একটি করে পশ্চিমবঙ্গ, অরুণাচল প্রদেশের অন্তর্গত।
দেশজুড়ে মোট ১৪টি বাঁধের ক্ষেত্রে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ যার মধ্যে পাঁচটি কর্নাটকের, ঝাড়খণ্ড-উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশের দু'টি করে এবং পশ্চিমবঙ্গের একটি বাঁধ রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বহুক্ষেত্রেই গঙ্গা অববাহিকার আশেপাশের অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিহারের পটনা পরবর্তী অঞ্চল থেকে কার্যত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে গঙ্গা৷
বাদাউন এবং ফররুখাবাদ (ইউপি) জেলায় গঙ্গার মাঝামাঝি অঞ্চলগুলিতে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বন্যার জল। বারাবাঙ্কি, অযোধ্যা ও বালিয়া (ইউপি), সিওয়ান এবং সারান (বিহার) জেলায় ঘাঘরা নদী বিপদসীমার থেকে উপর দিকে প্রবাহিত হচ্ছে এবং গত দু'দিনের বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর জলস্তরের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা রয়েছে।
বলরামপুর, সিদ্ধার্থ নগর এবং গোরখপুর জেলায় (ইউপি) রাপ্তির অবস্থা বন্যা পরিস্থিতির থেকেও খারাপের দিকে। পাটনায় ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিপদসীমার উপর বইছে সোনা এবং পুনপুন নদী।
গত সপ্তাহে যমুনার উপনদীগুলিতে যে বন্যা হয়েছিল তা গঙ্গার উপর দিয়ে যাচ্ছে এবং পুরোপুরি অতিক্রম করতে আরও তিন থেকে চারদিন সময় লাগতে পারে। এই অবস্থায়, উত্তরের উপনদীগুলির জলস্তর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে তীব্র বৃষ্টিপাতের কারণে। আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে গঙ্গা প্রবাহিত হতে পারে। বালিয়া (ইউপি), সারান, ভাগলপুর, খাগরিয়া, বৈশালী এবং কাটিহার (বিহার) জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে সিডব্লিউসি সতর্ক করেছে।












Click it and Unblock the Notifications