• search

সারদা আবেদন: অনিচ্ছুক আমলাতন্ত্র বনাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

  • By Oneindia Staff Writer
Subscribe to Oneindia News
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    কলকাতা, ২৩ জানুয়ারি : সারদা কাণ্ডের তদন্তে সিবিআই অযথা হাত ধুয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের পিছনে ডাইনি খোঁজার মতো পড়েছে। শীর্ষ আদালতে এহেন একটি আবেদন জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। শীর্ষ আদালত এ বিষয়ে কী বলে তা নিয়ে যেমন কৌতুহল রয়েছে, তেমনই জবর খবর হল রাজ্য সরকারের এই আবেদনে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছে রাজ্যের আমলাতন্ত্র।

    সারদা কেলেঙ্কারি সম্পর্কিত অন্যান্য খবর পড়তে ক্লিক করুন এখানে

    প্রথমত রাজ্যে অধিকাংশ সিনিয়র আধিকারিকরাই রাজ্য সরকারের এই আবেদনকে সমর্থ করছেন না। আমলারা পরামর্শ দিয়েছিলেন, যাতে এই একই আবেদন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে না করে সারদা গোষ্ঠীর কাছে প্রতারিত কোনও এক বিনিয়োগকারী করুন। এই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমলাদের ধাপে ধাপে বৈঠকও হয়। কিন্তু শেষমেষ মমতাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন যে রাজ্য সরকারই সরাসরি এই আবেদনটি শীর্ষ আদালতে দায়ের করবেন।

    সারদা আবেদন: অনিচ্ছুক আমলাতন্ত্র বনাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    আমলা বনাম মুখ্যমন্ত্রী

    আবেদেনের বিষয়বস্তু থেকে শুরু করে, কে বা কারা এই আবেদন দায়ের করবেন তা নিয়ে স্পষ্টতই মতের অমিল ছিল মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য়ের মুখ্য সচিবের মধ্যে। মুখ্যসচিব বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন এর প্রভাব রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তির উপর ভালভাবে পড়বে না।

    আমালাদের একাংশ এটাও মনে করছিল যে, আবেদনের বিষয়বস্তু অত্যন্ত কঠোর। এবং রাজ্য সরকার কিছু ধামাচাপা দিতে চাইছে এমনটাই প্রতীত হবে আবেদনটি দেখে। যদিও এবিষয়ে নিজের বক্তব্যেই প্রথম থেকে অনড় ছিলেন মমতা, তাঁর মতে এই আবেদন ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। মমতা আমলাদের জানিয়েছিলেন, সিবিআই যে সমানে আমাদের লক্ষ্য বানিয়ে যাচ্ছে তা শীর্ষ আদালতকে জানানো উচিত। আর যতটা সম্ভব কড়া ভাষার ব্যবহারেই তা জানাতে হবে বলে আমলাদের নির্দেশও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    যদিও শীর্ষ আমলা শেষপর্যন্ত এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একমত হতে পারেননি। তারা বুঝেছিলেন, এই আবেদনের জেরে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে রাজ্য সরকারকে। পুরো ঘটনার দায় নিতে হবে মুখ্যসচিবকে, এবং আসল চাপটাও তাঁকেই সহ্য করতে হবে।

    অনেক তর্ক এবং মতপার্থক্যের পর শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় স্বাক্ষর করে স্বরাষ্ট্র দফতরের যুগ্মসচিব। হলফনামায় অপেক্ষাকৃত নীচু পদের আমলার সই করাটা বেশ চমকপ্রদ এক্ষেত্রে।

    এই আবেদন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে বুঝতে পেরেছিলেন শীর্ষ আমলা

    রাজ্য সরকারের এই আবেদন দায়ের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্য সচিবের গত ২ সপ্তাহ ধরে ঘন ধন বৈঠক, আলোচনা হয়েছে। মুখ্য সচিবের যুক্তি ছিল, এই আবেদনের মূল উদ্দেশ্য সারদা কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের উপর নজরদারির নির্দেশ জারির আর্জি জানানো। শীর্ষ আদালতের তরফে এই আবেদন খারিজ করে দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীকে বোঝানো হয়, শীর্ষ আদালত তদন্তের নজরদারি ইতিমধ্যেই করছে। এই শীর্ষ আদালতউ সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। সেক্ষেত্রে যে তদন্তের নজরদারি সুপ্রিম কোর্ট করছেই তাতে ফের সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির আবেদন জানানো বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

    আবেদনের বিষয়বস্তু রাজনৈতিক দলের দ্বারা প্রভাবিত

    আবেদনের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখলে এটা স্পষ্ট বোঝা যাবে যে এটি একটি রাজনৈতিক আবেদন। এবিষয়ে মুখ্য সচিবের যুক্তি ছিল যেই আবেদনের প্রকৃতি রাজনৈতিক তাতে কী করে এক সরকারি আমলা স্বাক্ষর করতে পারে।

    একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে যেখানে অভিযোগ জানানো হচ্ছে সেখানে একজন আমলা কীভাবে সই করবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আবেদনে তৃণমূল অভিযোগ করে সিবিআই বিজেপির হাতিয়ার হিসাবে কাজ করছে। এটা সোজাসুজিভাবে একটি রাজনৈতিক অভিযোগ এবং রাজ্য সরকার এধরণের কোনও আবেদন জানাতে পারে না।

    যদিও রাজ্য সরকার তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন, তবুও তারা আগে পশ্চিমবঙ্গের সরকার, তার পরে একটি রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

    English summary
    Bengal's Saradha petition- How Mamata prevailed over a reluctant bureaucracy

    Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
    সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more