ফের বিমান দুর্ঘটনা! ঝাড়খণ্ডে ভেঙে পড়ল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, মৃত্যু ৭ জনের
রাঁচি থেকে দিল্লিগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঝাড়খণ্ডের ছাত্রা (Chatra) জেলায় ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সাতজনেরই মৃত্যু হয়েছে। ডিজিসিএ (Directorate General of Civil Aviation) জানিয়েছে যে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ডিজিসিএ (Directorate General of Civil Aviation) সূত্রে জানা গিয়েছে যে, বিমানটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি থেকে উড়ে যায়। ৭টা ৩৪ মিনিটে কলকাতা এটিসির সাথে যোগাযোগ করে খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিকল্প রুট চায়। তারপরেই বারাণসীর দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে রাডার এবং যোগাযোগ, দু'টিই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে এসেছে কেন্দ্রের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা এএআইবি (Air Accidents Investigation Branch)। তারা আজ দিল্লিতে উড়ান সংস্থা রেড বার্ড এভিয়েশন (RedBird Aviation)-এর দফতরে গিয়ে নথি এবং সেফটি অডিট রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে। সংস্থার এমডি অক্ষয় কুমার জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি বারামতি দুর্ঘটনার পরই বিশেষ অডিট করা হয়েছিল। দুই অভিজ্ঞ পাইলটই ছিলেন এবং খারাপ আবহাওয়ার কথাও এটিসিকে জানানো হয়েছিল।
উদ্ধারকার্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। গভীর জঙ্গলের ভিতরে দুর্ঘটনাস্থলে কোনও রাস্তা নেই। এসএসবি (Sashastra Seema Bal)-এর আধিকারিক জানিয়েছেন যে, প্রায় ২ কিলোমিটার পর্যন্ত কাঁধে করে দেহ নামাতে হয়েছে। দেহ তোলার জন্য একটি মাত্র স্ট্রেচার ছিল। রাতের অন্ধকারে ঘন জঙ্গলে অভিযান চালানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় প্রশাসন রাত ১০টা নাগাদ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে যায়।
বিমানের মধ্যে ছিলেন দুই ক্রু সদস্য এবং পাঁচ যাত্রী, একজন গুরুতর দগ্ধ রোগী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মৃত সঞ্জয় নামের ব্যক্তি লাতেহার জেলার চাঁদওয়ার বাসিন্দা। হোটেলে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে তিনি দগ্ধ হয়ে পুড়ে গিয়েছিলেন। তাঁকে দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর পরিবার ধার করে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা জোগাড় করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছিল। দুর্ঘটনায় সঞ্জয়, তাঁর স্ত্রী অর্চনা-সহ পরিবারের সদস্য এবং হাসপাতালের কর্মীরাও প্রাণ হারান।












Click it and Unblock the Notifications