'ক্যাপ্টেন'-এর নেতৃত্বে কি তৈরি হচ্ছে নয়া রাজনৈতিক 'টিম'! অমরিন্দরের পরবর্তী স্টান্স নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
সিধুর সঙ্গে সংঘাতের পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে আসতেই অমরিন্দর সিং বলেছিলেন যে, তিনি এমন একজন প্রার্থীকে সিধুর বিরুদ্ধে দাঁড় করাবেন, যিনি সিধুর হারকে নিশ্চিত করবেন। এরপরই দিল্লিতে পা রাখেন ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। পর পর ঝোড়ো বৈঠকে দেখা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে। ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের বহু আগে অমরিন্দর জানান, পঞ্জাবের মতো সীমান্ত প্রদেশে সিধপর মতো ব্যক্তিত্ব ক্ষতিকর। এদিকে, দিল্লিতে অমরিন্দর সিংয়ের সঙ্গে বিজেপি নেতা অমিত শাহের বৈঠক ঘিরে বহু জল্পনা চলে। তবে অমরিন্দর সিং জানিয়ে দেন যে তিনি বিজেপিতেও যোগ দেবেন না, আর কংগ্রেসে থাকছেন না। একনজরে দেখা যাক তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?

কংগ্রেসের বহু নেতা যোগাযোগ রাখছেন অমরিন্দরের সঙ্গে!
উল্লেখ্য, অমরিন্দর সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কংগ্রেসের বহু নেতা। এমনই তথ্য বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টে জানা গিয়েছে। নিজের সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে অমরিন্দর সিং তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ স্থির করবেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, ২০২২ সালে পঞ্জাবে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ক্রমশ চাগাড় দিয়ে উঠছে কৃষি আই ইস্যু। যে ইস্যুটি নিয়েও অমরিন্দর সিং অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই জায়গা থেকে পঞ্জাবের রাজনীতির হাওয়া নিয়ে বহু জল্পনা উঠে আসছে।

ক্যাপ্টেনের রণনীতি
জানা গিয়েছে, দিল্লিতে তাবড় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর পঞ্জাবে গিয়ে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কৃষি আইন ইস্যুতে সরগরম পঞ্জাব। সেই জায়গা থেকে অমরিন্দর ও কৃষক নেতাদের বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে রয়েছে। এদিকে, পঞ্জাবের স্থানীয় দল শিরোমনি অকালি দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে বিজেপির। বহুকাল তারা বিজেপির সঙ্গে থাকলেও, পরবর্তীকালে বিজেপির থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কৃষি আইন ইস্যুতে। সেই জায়গা থেকে পঞ্জাবে হাত ধরার জন্য একটি শক্তি খুঁজছে বিজেপি। এদিক থেকে সেই সম্ভাব্য রাজনৈতিক শক্তি যদি অমরিন্দর পন্থী একটি গোষ্ঠী হয়, তাহলে গেরুয়া শিবির পঞ্জাবের বুকে কংগ্রেসের আঁতুর ঘরে মাত দিতে পারবে। সেই জায়গা থেকে অমরিন্দর ফ্যাক্টর বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিজেপির কাছে। আর অমরিন্দরের কাছেও এই সমর্থন গুরুত্বের জায়গায় রয়েছে।

জল্পনা কোনদিকে?
মনে করা হচ্ছে, যেভাবে বহু কংগ্রেস নেতা অমরিন্দর সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তাতে মনে করা হচ্ছে যে, পঞ্জাবে নতুন করে কোনও দল তৈরি করতে পারেন অমরিন্দর সিং। অমরিন্দর নিজেই স্পষ্ট করেছেন যে তিনি বিজেপিতে যাচ্ছেন না, আর কংগ্রেসেও থাকছেন না। ফলে তাঁর হাত ধরে পঞ্জাবের বুকে নতুন দল গড়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তখত ঘিরে তোলপাড়!
উল্লেখ্য, পঞ্জাব কংগ্রেসে বহুদিন ধরেই তখত ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়। উল্লেখ্য, নভজ্যোত সিং সিধুর সঙ্গে অমরিন্দর সিংয়ের সংঘাত পঞ্জাব কংগ্রেসে বহুদিনের। এরপর দুজবকে 'হাত' মিলিয়ে 'হাত' শিবির সমঝোতার চেষ্টা করলেও তা টেকেনি। পরে পঞ্জাবের তখত থেকে ইস্তফা দেন অমরিন্দর। আর সিধু ঘনিষ্ঠ চান্নি পান মুখ্যমন্ত্রীর পদ। এদিকে ততদিনে সিধু পঞ্জাব কংগ্রেসের প্রধান। তবে ছয় সপ্তাহ পঞ্জাবে কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিলেও সিধু পরবর্তীকালে ইস্তফা দেন পদ থেকে। সেই জায়গা থেকে সিধুকে ঘিরে কংগ্রেসের পদক্ষেপ ও বিক্ষুব্ধ অমরিন্দরের পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।












Click it and Unblock the Notifications