লাদাখে চিনা আগ্রাসন প্রতিহত করতে তাইওয়ানে ঘুঁটি সাজাচ্ছে ভারত
২০২০ সালে চিনের সঙ্গে অল্প বিস্তর গোটা বিশ্বেরই সম্পর্কে চিড় ধরেছে। গণতন্ত্রপন্থী দেশগুলির অধিকাংশ চিনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়ায়। এদিকে করোনা আবহে ফায়দা তুলে বিভিন্ন ফঅরন্টে আগ্রাসন বাড়িয়েছে বিস্তারবাদী চিন। সেরকমই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে লাদাখে। এবং ভারত শক্ত হাতে চিনকে সেখানে রুখে দিয়েছে। তবে বেজিংকে ফ্রন্ট ফুটে আটকে দিতে এবার তাইওয়ানেও ঘুঁটি সাজাচ্ছে নয়াদিল্লি।

তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে আমেরিকা
করোনা আবহে ফের তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে আমেরিকা। এদিকে ভারত যেভাবে লাদাখে চিনকে প্রতিহত করেছে তা সমর্থন করেছে তাইওয়ানও। এই অবস্থায় নয়াদিল্লিও তাইওয়ানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একদম বেজিংয়ের দোড়গোড়ায় নিয়ে যেতে চলেছে সংঘাতকে।

তাইওয়ানের সঙ্গে অন্য কোনও দেশের সম্পর্ক মেনে নেয় না চিন
এদিকে তাইওয়ানের সঙ্গে যেকোনও দেশের কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ককে মেনে নিতে অস্বীকার করে বেজিং। কারণ চিনের দাবি তাইওয়ান তাদের দেশেরই অংশ। এবং এই দাবিতেই আঘাত হেনে আমেরিকার পর এবার ভারতও বন্ধুত্ব এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ় করার লক্ষ্যে তাইওয়ানের দিকে হাত বাড়িয়েছে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড় তোলার আবেদন তাইওয়ানের
বিগত কয়েক দশক ধরেই তাইওয়ান ভারতের সঙ্গে সরকারি ভাবে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড় তোলার লক্ষ্যে আবেদন জানিয়ে এসেছে। তবে বেজিং যাতে রাগ না করে, তাই এতবছরেও তাইওয়ানের সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি নয়াদিল্লি। তবে লাদাখ নিয়ে ভারত-চিন সংঘাতের আবহে এবার তাইওয়ানকে কাছে পেতে ভারত সেই আবদনে সাড়া দিয়ে কথা সুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

চিনের বিরুদ্ধে দিল্লির 'নো কেয়ার' মনোভাব
এদিকে তাইওযানের সঙ্গে ভারত সরকারি স্তরে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় চিন তা নিয়ে আপত্তি তুলতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লি এখন 'নো কেয়ার' মনোভাবে এগিয়ে চলেছে। উল্লেখ্য, তাইওয়ানও চিনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে নিজেদের দেশের সার্বভৌমত্ম রক্ষার্থে। এবং এই প্রেক্ষিতে আমেরিকার সমর্থনও আদায় করেছে তাইওয়ান।

চিনের উপর নির্ভরশীলতা কমবে ভারতের
এর আগে তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের সরাসরি সপ্রচার করা হয়েছিল ভারতে। যা নিয়েও বেজিং নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছিল নয়াদিল্লিকে। তবে ভারত চিনের সেই আপত্তিকে খুব একটা আমল দেয়নি। এদিকে তাইওয়ানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন হলে ভারত চিনের উপর নিজেদের নির্ভরতা অনেকটাই কমাতে সক্ষম হবে। যা নিয়ে চিন্তায় চিন।

বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য যুদ্ধ
এই নতুন ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধই বিশ্ব জুড়ে চলছে। মার্কিন-চিন সম্পর্কেও চিড় ধরার অন্যতম কারণ ছিল দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ। সেই একই ভাবে লাদাখে চিনা আগ্রাসনের আবহে ভারতও অলিখিত ভাবে চিনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। শতাধিক চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করা ছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্প থেকে চিনা সংস্থাকে সরানো হয়েছে।

তাইওয়ানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সমপর্ক তৈরি হলে যা হবে
এই পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সমপর্কে শিল মোহর পড়লে তা সুখবর হবে দিল্লির জন্যে। এবং এর জেরে বেজিং আরও চাপে পড়ে যাবে। কারণ উৎপাদিত পণ্যের বাজার যদি না থাকে তবে অর্থনীতি এগোবে না আর। এবং বর্তমানে যেকোনও দেশের জন্যেই ভারত হল সর্ববৃহৎ বাজার।












Click it and Unblock the Notifications