ধর্ষিতাকে বিয়ে করার প্রস্তাব, গ্রেপ্তারি থেকে সরকারি কর্মীকে সুরক্ষা দিল সুপ্রিম কোর্ট
ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এক সরকারি কর্মীকে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আজব এক প্রশ্ন করে বসল। সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্তকে ধর্ষিতাকে বিয়ে করার পরামর্শ দেয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় যা নিয়ে তোলপাড় হয়ে যায়।

দেশের মুখ্য বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মহারাষ্ট্রের স্টেট ইলেকট্রিক প্রোডাকশন সংস্থার এক টেকনিশিয়ানের জামিনের আবেদনের শুনানি শুনছিলেন। মোহিত সুভাষ চবন পকসো আইনের অন্তর্গত এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত যখন পুলিশে যাবে বলে জানায় তখন চবনের মা বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আক্রান্ত কিশোরী তাতে রাজি হয়নি। যদিও সই করা ওই তথ্যে বলা হয়েছে যে ১৮ বছর বয়স হলে ওই কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্তের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিশোরীর ১৮ বছর হওয়ার পর অভিযুক্ত এই বিয়ে করতে প্রত্যাখান করে এবং এরপরই ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়।
আবেদনকারীর আইনজীবীকে বিচারপতি বোবদে জিজ্ঞাসা করেন, 'সে কি ওই মেয়েটিকে বিয়ে করবে? যদি অভিযুক্ত বিয়ে করে তবে আমরা সাহায্য করব। আর যদি না হয়, তবে অভিযুক্ত তার চাকরি খোয়াবে এবং জেলে যাবে। অভিযুক্ত আক্রান্তকে প্ররোচিত করে ধর্ষণ করেছে।’ বোবদে আরও বলেন, 'মেয়েটিকে প্ররোচিত ও ধর্ষণ করার আগে ভাবনা চিন্তার দরকার ছিল। তুমি জানতে যে তুমি একজন সরকারি কর্মী।’ বোবদে আরও বলেন, 'আমরা তোমায় জোর করছি না বিয়ের জন্য। আমাদের জানিও যদি বিয়ে করতে চাও। নয়ত আবার বলতে পারো আমরা জোর করেছি এই বিয়ের জন্য।’
অভিযুক্তের আইনজীবী জানিয়েছেন যে তিনি তাঁর মক্কেলের সঙ্গে পরামর্শ করে আদালতকে জানাবেন। চবনের হয়ে আইনজীবী বলেন, 'প্রথমে অভিযুক্ত ধর্ষিতাকে বিয়ে করতে চেয়েচিল, কিন্তু আক্রান্ত প্রত্যাখান করে। এখন আমি বিবাহিত। আমি একজন সরকারি কর্মী এবং আমি যদি গ্রেফতার হয় আমার চাকরি এমনি চলে যাবে।’ বোবদে বলেন, 'এজন্য আমরা তোমাকে এটা ভাবার জন্য বলেছি। চার সপ্তাহের গ্রেপ্তারি থেকে সুরক্ষার ওপর আমাদের স্থগিতাদেশ থাক। এরপর তুমি নিয়মিতভাবে জামিনের আবেদন করতে পারবে।’ সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারি থেকে সুরক্ষা দেয় চার সপ্তাহের জন্য।












Click it and Unblock the Notifications