তিনি নাকি উত্তরাখণ্ডের 'হিরো'! কর্নেলকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য বাছলেন কেজরিওয়াল
অতীতে কোনোদিনই কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেননি কেজরিওয়া। সরকার তথা সিস্টেমের বিরুদ্ধে পথে নেমেই তাঁর উত্থান। বর্তমানে দিল্লিতে দ্বিতীয়বারের মুখ্যমন্ত্রী তিনি। তাঁর দল 'আম আদমি পার্টি'ও জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ প্রাসঙ্গিক
অতীতে কোনোদিনই কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেননি কেজরিওয়া। সরকার তথা সিস্টেমের বিরুদ্ধে পথে নেমেই তাঁর উত্থান। বর্তমানে দিল্লিতে দ্বিতীয়বারের মুখ্যমন্ত্রী তিনি। তাঁর দল 'আম আদমি পার্টি'ও জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। দিল্লির বাইরে অন্যান্য রাজ্যেও ক্রমশ বিস্তারের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে আপ।

আর এবার উত্তরাখণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনের জন্যও এক অ-রাজনৈতিক মুখ বেছে নিলেন কেজরিওয়াল। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব না হলেও, উত্তরাখণ্ডে যথেষ্ট জনপ্রিয় কর্নেল অজয় কোঠিয়াল। ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর কেদারনাম পুনর্নিমাণ করতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তাই তাঁকে এবার মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে বেছে নিল আপ। ২০২২-এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে অজয় কোঠিয়ালের নাম ঘোষণা করেছে আপ। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল আপে যোগ দেন নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেননিয়ারিং-এর প্রাক্তন প্রিন্সিপ্যাল কোঠিয়াল।
২০১৩-এ হড়পা বানে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল কেদারনাথ। সেই অঞ্চল পুনর্নির্মানে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। এর আগে গঙ্গোত্রি বিধানসভা থেকে তাঁকে ভোটের টিকিট দেওয়ার কথা ভেবেছিল আপ। উপনির্বাচনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তিরথ সিং রাওয়াত, লড়বেন এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু, পরে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন তিরথ সিং রাওয়াত, আর উপনির্বাচনও ঘোষণা হয়নি. একআপ নেতা জানিয়েছেন, এলাকায় কোঠিয়ালের জনপ্রিয়তা রয়েছে। একজন সেনা অফিসারের পাশাপাশি তিনি যেভাবে এলাকার ছেলেমেয়েদের সেনাবাহিনীর কাজে নিযুক্ত করার জন্য ট্রেনিং দিয়েছেন তা মানুষের কাছে খুবই গ্রহণযোগ্য হয়েছে।
তিনি দলের একজন সম্পদ হয়ে উঠবেন। আপে যোগ দেওয়ার আগে কোঠিয়াল ফেসবুকে জানিয়েছিলেন একদিন ক্যাফেতে এক তরুণের কথা শুনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কোঠিয়াল জানান, এক ২৩ বছরের তরুণের সঙ্গে ক্যাফেতে তাঁর দেখা হয়েছিল। ওই তরুণ ছিলেন প্রতিবন্ধী, ক্রাচে ভর দিয়ে এসেছিলেন। তিনিই কোঠিয়ালকে বলেছিলেন উত্তরাখণ্ডের মানুষ তাঁর কাছ থেকে কী চায়। এরপরই রাজনৈতিক দলে যোগ দেন তিনি।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, উত্তরাখণ্ডের মানুষের প্রতিক্রিয়া শুনেই কোঠিয়ালে মুখ্যমন্ত্র পদপ্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেজরিওয়ালের দাবি, এলাকার মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের কাজে হতাশ। তাই এমন অ-রাজনৈতিক মুখ বেছে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, 'মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের থেকে মুক্তি চায়। যারা শুধুই রাজ্যে লুঠপাট চালিয়েছে। মানুষ একজন সেনাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়, যিনি নিজের মেয়াদে মানুষের জন্য কাজ করবেন।'
২০১৩-তে একজন ট্রেনারের সাহায্য নিয়ে ৩০ জনকে ট্রেনিং দেন কোঠিয়াল। তাঁদের মধ্যে ২৮ জন সুযোগ পান ভারতীয় সেনার গাড়োয়াল রাইফেলসে। বহু মানুষের কাছে এই খবর পৌঁছে যান। অনেকেই ট্রেনিং নেওয়ার জন্য আবেদন করতে থাকেন। ২০১৫ তে একটি অলাভজনক ট্রাস্ট তৈরি করেন কোঠিয়াল। উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে মোট ৬টি ক্যাম্প চালানো হয় সেই ইউথ ফাউন্ডেশনের।












Click it and Unblock the Notifications