বাংলার মিষ্টিতে নিজের মুখ দেখে 'সম্রাট' বলেছিলেন, 'পেলে ইটিং পেলে'
বাংলার মিষ্টিতে নিজের মুখ দেখে 'সম্রাট' বলেছিলেন, 'পেলে ইটিং পেলে'
ফুটবল সম্রাট পেলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বিশ্ব। গত কয়েকদিন ধরেই ক্যান্সার সহ একাধিক সমস্যাতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। অবশেষে থমকে গেল পেলের জীবন। গোটা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের কাঁদিয়ে ৮২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন তিনি। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকে বিহ্বল তাঁর অসংখ্য অনুগামী। এমনকী শোকস্তব্ধ বাংলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বর্তমান এবং প্রাক্তন খেলোয়াড়রাও।

বলেছিলেন 'মেনি পিপল'
কলকাতার ময়দানে বেশ কয়েকবার পা রেখেছেন কিংবদন্তী এই ফুটবলার। সালটি ছিল ১৯৭৭! কলকাতায় প্রথমবার পা রেখেছিলেন ফুটবল সম্রাট পেলে। সেই সময় বাংলার মানুষের আতিথেয়তা তাঁকে খুশি করেছিল। আপ্লুত হয়ে পেলে সেই সময়ে বলেছিলেন 'মেনি পিপল'। এর ৩৮ বছর পর ফের একবার কলকাতায় পা রাখেন ফুটবল সম্রাট। সালটা ছিল ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর। আর সেই সময় পা রাখার আগে কলকাতার নাম শুনেই নাকি পেলে বলে উঠেছিলেন 'মেনি পিপল'! ফুটবল সম্রাট পেলের প্রয়াণে এমনই কিছু স্মৃতিকথা জানালেন রিষড়া বাঙ্গুর পার্কে বাসিন্দা শতদ্রু দত্ত।

আজও শিহরিত হন শতদ্রু দত্ত
ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শতদ্রুবাবু বলেন, ২০১৫ সালে ফুটবল সম্রাট পেলের বাড়ি সাও পাওলোতে গিয়েছিলাম তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতে। আর সেই সময় কলকাতার নাম শুনেই পেলে বলে উঠেছিলেন 'মেনি পিপল'! সেদিনের কথা মনে পড়লে আজও শিহরিত হন শতদ্রু দত্ত। তাঁর মনে পড়ে যায় ১৯৭৭ সালের কলকাতা বিমানবন্দরের কথাও।

হাজার হাজার পেলে ভক্ত জমা হচ্ছেন শুধু
সেদিন কলকাতা বিমানবন্দর জুড়ে ছিল কালো মাথার ভিড়! হাজার হাজার পেলে ভক্ত জমা হচ্ছেন শুধু। আর তা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কলকাতার মাটিতে পেলে'র এত ভক্ত! কিছুটা অবাক হয়েছিলেন শতদ্রুবাবু। তবে এদিন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানাচ্ছেন, ২০১৫ সালে যখন এসেছিলেন তখন কোমরের সমস্যা ছিল। ফলে কিছুটা হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল পেলের। তিনদিনের সফর ছিল! আর সেই সময় সারাদিন তিনি শতদ্রুর কাঁধে হাত দিয়ে কিছুটা হাঁটাচলা করেছিলেন। আজ সেই হাতের অভাবের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে শতদ্রুবাবুর।

আপ্লত হয়েছিলেন পেলে!
শুধু তাই নয়, বাংলার মিষ্টি চেখে দেখেও আপ্লত হয়েছিলেন পেলে! বিশেষ করে বাংলার মিষ্টিতে নিজেকে দেখে বলেছিলেন 'পেলে ইটিং পেলে'। সেই সব কথা আজও উজ্জ্বল শতদ্রুবাবুর মনে। তবে মানুষটা যে আজ নেই তা ভাবতেই পারছেন না তিনি। শতদ্রুবাবু বলেন, মানুষের সঙ্গে খুব ভালো ভাবে মিশে যেতেন পেলে। তবে তিনি চলে যাওয়া একটা যে যুগের অবসান ঘটে গেল, তা এক কথায় মেনে নিচ্ছেন এই পেলে অনুরাগী।












Click it and Unblock the Notifications