Euro 2020 : রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ইতালির কাছে পরাস্ত ইংল্যান্ড, ৫৩ বছর পর কাপ আজুরিদের
Euro 2020 : রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ইতালির কাছে পরাস্ত ইংল্যান্ড, ৫৩ বছর পর কাপ আজুরিদের
৫৩ বছরের প্রতীক্ষা শেষে ইউরো কাপ ফের ঘরে তুলল ইতালি। এক লাখি ওয়েম্বলিতে হওয়া টুর্নামেন্টের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে হোম টিম ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে দ্বিতীয় বারের জন্য খেতাব ঘরে তুলল আজুরিরা। এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও চার বারের বিশ্বজয়ীদের এই প্রত্যাবর্তনে মুগ্ধ হয়েছে ফুটবল দুনিয়া। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়া ইতালি আরও একবার নিজেদের প্রমাণ করল।

ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই দুই দলের মধ্যে কড়া সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রথমেই আক্রমণে ওঠা ইতালি নিজেদের রক্ষণভাগকে গোছাতে খানিকটা সময় নিয়ে নেয়। সেই সুযোগে ঝড়ের মতো প্রতি আক্রমণে উঠে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার লুক শ। ম্যাচের ১.৫৭ মিনিটের মাথায় গোল করে ইতিহাস রচনা করেছেন লুক। হয়ে যান ইউরো কাপ ফাইনালের দ্রুততম গোলদাতা।
উল্লেখ্য ১৯৬৮ সালে শেষবার ইউরো কাপ চ্যাম্পিয়ান হয়েছিল ইতালি। ফলে ৫৩ বছর পর দ্বিতীয় ইউরো কাপের ফাইনালে পৌঁছে আরও একবার নিজেদের প্রমাণ করার মঞ্চ পেয়ে গিয়েছিলেন আজুরিরা। অন্যদিকে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। এরপর থেকে ৫৫ বছর কোনও আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের হাতছানিতে সাড়া দিতে পারেনি ব্রিটিশরা। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু হওয়া ইউরো কাপের (একদা ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ) সেমিফাইনালে একাধিকবার ওঠার সুযোগ পেলেও ফাইনালে পৌঁছতে পারেনি ইংল্যান্ড। ট্রফি জয় তো দুরস্ত। তার ওপর গত ইউরো কাপে রাউন্ড অফ সিক্সটিন থেকে ব্রিটিশদের ছিটকে যাওয়াটা সে দেশের ফুটবল প্রেমীদের কাছে ছিল বড় ধাক্কা। ফলে এবারের ইউরো কাপ ইংল্যান্ডের প্রত্যাবর্তন নিয়ে উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন ফুটবল প্রেমীরা। একই সঙ্গে প্রথমবার ইউরো কাপের ফাইনালে পৌঁছেও ইতিহাস রচনা করেন হ্যারি কেন, রাহিম স্টারলিংরা।
🏆 𝗖𝗔𝗠𝗣𝗜𝗢𝗡𝗜 𝗗’𝗘𝗨𝗥𝗢𝗣𝗔 🏆
— UEFA EURO 2020 (@EURO2020) July 11, 2021
🇮🇹 Congratulations Italy, EURO 2020 winners 🎉🎉🎉@azzurri | #ITA | #EURO2020 pic.twitter.com/62Ve8TMEFu
এহেন পরিস্থিতিতে ঘরের মাঠে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে গোলের ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে একাধিকবার গোল শোধ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেও কোথাও যেন ইতালির সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছিল। আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণ নির্ভর হাড্ডাহাড্ডি ইউরো ফাইনালের প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকেন হ্যারি কেনরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরে আসার আরও মরিয়া চেষ্টা চালায় ইতালি। আজুরিদের আক্রমণের ঝড় সামাল দিতে নাজেহাল হয়ে যায় ইংল্যান্ড ডিফেন্স। খানিকটা ব্যাকফুটে চলে যাওয়া ইংল্যান্ড প্রতি আক্রমণে উঠে বেশ কয়েকবার গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে ফেললেও লাভের লাভ হয়নি। আরও এক পরিকল্পিত আক্রমণের ফলস্বরূপ পায়ে জটলা থেকে গোল করে ইতালিকে ম্যাচে ফেরান লেওনার্দো বোনুচ্চি।
🇮🇹 Donnarumma = national hero!#EURO2020 https://t.co/a2e0vBWkPz pic.twitter.com/gG0WJyf5qc
— UEFA EURO 2020 (@EURO2020) July 11, 2021
এরপর ম্যাচে নীল জার্সিধারী খেলোয়াড়দের দাপট ক্রমশ চওড়া হয়। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলে ইংল্যান্ডকে বিব্রত করতে থাকেন আজুরিরা। অন্যদিকে প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলে বাজিমাত করার মরিয়া চেষ্টা চালায় ব্রিটিশরা। যদিও ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে কোনও দলই আর গোল করতে পারেনি। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেই তিরিশ মিনিটেও গোল করার কাছাকাছি পৌঁছেও নীরবই থেকে যায় দুই দল। ফলে টাইব্রেকার ছাড়া ম্যাচের ফয়সলা নির্ধারণের আর কোনও উপায় অবশিষ্ট থাকে না।
পাঁচটির মধ্যে তিনটি স্পট কিক গোলে রাখতে সক্ষম হয় ইতালি। অন্যদিকে তিনটি মিস করে ইংল্যান্ড। পেনাল্টি মিস করেন অতিরিক্ত সময়ে বিশেষজ্ঞ পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা মার্কাস রাশফোর্ডও। তবে দুই দলের গোলরক্ষক ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেন। তবে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে শেষ হাসি হাসেন ইতালির জানলুইজি দন্নারুম্মা।
Time for heroes 💪#EURO2020 pic.twitter.com/X2lz6LxdLc
— UEFA EURO 2020 (@EURO2020) July 11, 2021












Click it and Unblock the Notifications