• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

উত্তরপ্রদেশে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে ব্যাপক প্রচারে বিজেপি, সমাজবাদী পার্টিও নিচ্ছে পাল্টা উদ্যোগ?

  • By SHUBHAM GHOSH
  • |

ক্রমেই জমে উঠছে আগামী বছরের গোড়াতে হতে চলা উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক-পরিস্থিতি। 'দ্য ওয়্যার' ওয়েবসাইটের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী অনুযায়ী, শাসকদল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজিত সিংহের রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি) এবং জনতা দল (ইউনাইটেড) বা জেডি(ইউ)এর সঙ্গে প্রাক-নির্বাচনী জোটের পক্ষে ঝুঁকেছে।

কোণঠাসা এসপি নিজের ঘরেই জোটসঙ্গী খুঁজছে

যদিও প্রতিবেশী বিহারে ক্ষমতাসীন জনতা দল (ইউনাইটেড) উত্তরপ্রদেশে সেরকম শক্তিশালী নয়, কিন্তু প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী চরণ সিংহের পুত্র অজিত সিংহের দলের পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে জাট সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। পাঁচ বছরের প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হওয়া এবং শাসকদলের মধ্যে পারিবারিক টানাপোড়েন জনসমক্ষে আসার পর মুলায়ম সিং যাদবের দল যে বিশেষ স্বস্তিতে নেই, তা এসপি-র এই প্রাক-নির্বাচনী জোট দেখলেই বোঝা যায়।

উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন: সমাজবাদী পার্টি ঝুঁকছে জোটের দিকে?

এসপি-র আসল উদ্দেশ্য বিজেপির উত্থান ঠেকাতে একটি ধর্মনিরপেক্ষ মঞ্চ তৈরি করা, তা একটি শিশুও বোঝে। এবং সেকারণে যে মুলায়ম গতবছর বিহারে নির্বাচনের সময়ে নরেন্দ্র মোদী-বিরোধী মহাজোটের সঙ্গে যোগ দিতে অস্বীকার করেন নিজে মোদী বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও (কারণ লালু-নীতীশকুমারের নেতৃত্বাধীন সেই জোট তাঁর দলকে বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি), সেই পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদের দল এবার নিজের ঘরেই জোট বেঁধে বিজেপিকে রোখার কথা ভাবছে। আরএলডি এবং জেডি(ইউ)-এর তরফ থেকে ইতিবাচক সারা পাওয়া গেলেও স্বাভাবিকভাবেই এসপি-র মানসিকতাকে অনেকেরই রক্ষণাত্মক মনে হয়েছে।

বিজেপি যখন সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ভাঙিয়ে খাচ্ছে, তখন এসপিকেও কিছু একটা করে দেখতে হয়

প্রতিবেদনটি জানাচ্ছে, গতমাসে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পরে বিজেপি উত্তরপ্রদেশে তার ব্যাপক প্রচার শুরু করাতেই এসপি বেশ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এর প্রতিকার খুঁজতে এসপি তাই এখন ঝুঁকেছে জাটদের আশীর্বাদ পেতে। গত লোকসভা নির্বাচনের সময়ে চূড়ান্ত ধর্মীয় মেরুকরণের ফলে এই জাটরাই দলবেঁধে বিজেপিকে ভোট দেয়; এমনকী, তাঁদের প্রয়াত জনপ্রিয় নেতা চরণ সিংয়ের পুত্রকেও তাঁরা পাত্তা দেয়নি।

কিনতু, মুজফফরনগর এবং তার আশেপাশে হওয়া সেই দাঙ্গার দিনগুলিকে এখন উত্তরপ্রদেশ অনেকটাই পিছনে ফেলে এসেছে। বিজেপিকে সমর্থন দেওয়া সেই জাটরা এখন আখের চাষের করুণ অবস্থার কারণে বিজেপিকেই দুষছে। আর রাজ্যের শাসকদল এখন আরএলডি-র সঙ্গে সেই অসন্তোষকেই মোদীর বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে চাইছে।

আরএলডিও -- যারা এই মেরুকরণের জেরে একটি আসনও জিততে পারেনি গত লোকসভা নির্বাচনে -- তারাও আশাবাদী যে এই জোটের মধ্যে দিয়ে বিজেপিকে আটকে দিয়ে আবার জাট ভোটারদের স্নেহ ফিরে পাওয়া যাবে।

এই জোট হলে প্রমাণ হবে যে অখিলেশ যাদব এখনও নিয়ন্ত্রণ করছেন পরিস্থিতি

ঘরোয়া কারণেও এই জোট এসপি-র কাছে গুরুত্বপূর্ণ। 'দ্য ওয়্যার' জানাচ্ছে, বিজেপিকে আটকাতে অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে জোটের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের শিবিরই সওয়াল তুলেছিল এবং তাই এই জোটের পক্ষে এসপি-র গুটিগুটি এগোনো প্রমাণ করে যে তুমুল পারিবারিক কলহের মধ্যেও অখিলেশের হাত থেকে রাশ বেরিয়ে যায়নি।

মাঝে জোট নিয়ে কথাবার্তার কাজ ব্যাহত হলেও পার্টি সুপ্রিমো মুলায়ম সিং আগামী নির্বাচনে অখিলেশকেই দলের মুখ্য নেতা ঘোষণা করাতেও এসপি শিবিরের আকাশে মেঘ অনেকটা কেটেছে। ভরসা পেয়েছেন তরুণ এই মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থকরা। এগিয়েছে অন্য দলগুলির সঙ্গে কথাবার্তাও।

এসপি-র আশা, জোটে আসবে কংগ্রেসও

এমনকি এসপি এটাও আশা করছে যে "সাম্প্রদায়িক" গেরুয়া শিবিরকে ঠেকাতে কংগ্রেসও তাদের জোটে সামিল হবে বলে জানিয়েছে প্রতিবেদনটি। যদিও দলের তরফে এ নিয়ে কোনও স্পষ্টবার্তা দেওয়া হয়নি, কিন্তু লক্ষ্যণীয় বিষয় হল অখিলেশ কিন্তু কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীর নানা বিতর্কিত মন্তব্যের কোনও বিরোধিতা এখনও করেননি (এ প্রসঙ্গে বলা চলে, উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রধান রীতা বহুগুণা জোশী সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাহুলের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক প্রসঙ্গে "রক্তের দালালি" মন্তব্যের খোলাখুলি সমালোচনা করে বিজেপিতে যোগ দেন)।

এসপি-র আশা, বিজেপিকে আটকাতে কংগ্রেস-এর ব্রাহ্মণ-মুসলমান জোট গড়ার তাগিদ থেকেই তারা হয়তো নিরপেক্ষ জোটে এসে ভিড়বে। সেক্ষেত্রে, ২০১২ সালের নির্বাচনের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে এসে দাঁড়াবে ২০১৭-র নির্বাচন। সেবার, রাহুল বনাম অখিলেশ-এর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে 'যুবনেতাদের লড়াই' আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এবার কি তবে এই দুই নেতাকে একই মঞ্চে দেখা যেতে পারে? গতবছর বিহার নির্বাচনের সময়ে কিনতু কংগ্রেস লালু-নীতীশকে মঞ্চে থেকে ভালোই ফল করেছিল।

এই জোট হলে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে

এই জোট যদি সত্যি দানা বাঁধে, তবে আসন্ন উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের গতিমুখ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। দাদরি, রামায়ণ মিউজিয়াম, গো-রক্ষণ আন্দোলন ইত্যাদি নিয়ে যত বেশি চর্চা হবে, তত রাজ্যে ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ বেশি হবে আর ততই লাভবান হবে এই 'ধর্মনিরপেক্ষ জোট'।

অটলবিহারী বাজপেয়ীর পরে বিজেপিতে সেই ব্যক্তিত্বের ব্রাহ্মণ নেতা না থাকতে কংগ্রেসের শীলা দীক্ষিতকে নিয়ে 'জুয়া'ও কাজে লেগে যেতে পারে। আর অন্যদিকে, এই ব্রাহ্মণ-মুসলমান-জাট সম্প্রদায়ের সামাজিক জোট বাস্তবায়িত হলে কপালে ভাঁজ পড়তে পারে বহুজন সমাজ পার্টির সুপ্রিমো এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীরও।

তাই, এসপি শিবিরের খেলা এখন কোনদিকে গড়ায় সেদিকে নজর থাকবে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ থেকে শুরু করে মায়াবতী, নীতীশকুমার সবারই। এসপি কি পারবে গতবছরের বিহারের ফলাফল উত্তরপ্রদেশে করে দেখাতে?

English summary
UP election: Ruling Samajwadi Party is looking for allies to stop BJP, says report
For Daily Alerts
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more