• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

ট্রাম্পের মহিলা-সম্পর্কিত কুমন্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি আশঙ্কাজনক মার্কিন রাজনীতিতে রাশিয়ার 'নাক গলানো'

  • By SHUBHAM GHOSH
  • |

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের একমাস আগে রিপাবলিকান পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক দশক আগে করা মহিলাদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য যখন সে-দেশের সমাজ-রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, ঠিক তখন আরও একটি ঘটনা নজরের আড়ালে চলে গিয়েছে অথচ সেটা ট্রাম্পের টেপ থেকে অনেক বেশি আশঙ্কাজনক। এবং তা হল: বারাক ওবামা প্রশাসনের তরফ থেকে সরাসরি রাশিয়াকে মার্কিন নির্বাচনে নাক গলানোর ব্যাপারে অভিযুক্ত করা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইমেল হ্যাকিং ইত্যাদি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে নানা সন্দেহজনক কাজকর্ম বা ট্রাম্পের প্রতি রাশিয়ার 'স্নেহ' সম্পর্কে আলোচনা চলছিল অনেকদিন ধরেই। এবার ওয়াশিংটন সরাসরি মস্কোর দিকে আঙ্গুল তুলে জানাল তার অভিযোগের কথা।

ট্রাম্পের মহিলা-সম্পর্কিত কুমন্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি আশঙ্কাজনক মার্কিন রাজনীতিতে রাশিয়ার 'নাক গলানো'

রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকানদের এই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে যদিও ওবামা প্রশাসন অনেক কিছুই উহ্য রাখছে, কিনতু ক্রেমলিনই যে মূল লক্ষ্য, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।

রাশিয়া কেন মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া বানচাল করতে চায়?

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাশিয়া যদি সত্যিই মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মাথা গলাতে চায়, তার মুখ্য উদ্দেশ্য কী?

আমরা সবাই জানি, ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া বর্তমানে এক অতিজাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে মাথা তোলার চেষ্টা করছে। ঠান্ডা যুদ্ধের পরাজয় হোক বা দুনিয়াজয়ের খোয়াবই হোক, রাশিয়া এখন মার্কিনিদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পিছপা হয় না।

এছাড়া, ইউক্রেন, সিরিয়া বা নেটো প্রশ্নে মার্কিন-রাশিয়ার বিরোধিতা তো রয়েছেই। এই পরিস্থিতে, রাশিয়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেওয়া। রাশিয়ার মাথার খুব ভালো করেই জানে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ যেমন সাধারণভাবে ক্ষিপ্ত, তেমন এবছরের নির্বাচন আদতে সার্কাসে পরিণত হয়েছে। হিলারি ক্লিন্টনকে রাশিয়া কখনওই মার্কিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায় না, তাই তাঁরা ট্রাম্পের প্রতি বেশি স্নেহশীল। আর সব মিলিয়ে তাই পুরো মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়াটিকেই ওলটপালট করে মার্কিন গণতন্ত্রের ভিতটাই দুর্বল করে দিতে চায় মস্কো।

ট্রাম্পের মতো রাজনীতিতে আনাড়ি নেতা যদি রাষ্ট্রপতি হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে চান, তবে তা পুতিনের মতো আগ্রাসী নেতার কাছে নিঃসন্দেহে সুখবর হবে কারণ তাতে বিশ্ব রাজনীতিতে মস্কোর ওজনবৃদ্ধি ঘটবে।

বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা সিরিয়া প্রশ্নে নাক না গলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে রাশিয়াকে পশ্চিম এশিয়ায় এক বড় ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছে।

পুতিন যে অতঃপর চেষ্টা চালিয়ে যাবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প শক্তি হিসেবে রাশিয়াকে প্রতিষ্ঠিত করতে, তাতে আর সন্দেহ কী। তাই ট্রাম্পের প্রতি পুতিনের আশীর্বাদ যে নেহাত অমুলক নয়, তা সহজেই বোধগম্য কারণ ট্রাম্পের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতা একাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুশো বছরেরও উপর পুরোনো গণতন্ত্রকে নিমেষে ধসিয়ে দিতে পারেন।

একথা ভুলে চলবে না যে গণতন্ত্রকে কিভাবে ক্ষমতালাভের হাতিয়ার করতে হয় তা রাশিয়ানদের থেকে আর কেউ ভালো জানে না বিশেষ। কারচুপি তো বটেই, পাশাপাশি বিরোধী নেতাদের নানা উপায় লড়াই থেকে ছিটকে দেওয়ার প্রচুর উপায় রাশিয়ানদের নখদর্পনে আর বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাশিয়া এখন সেটা চিরশত্রু আমেরিকার ক্ষেত্রেও করতে চাইছে।

ওয়াশিংটন যেমন অতীতে পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চল -- যেমন ইউক্রেন এবং জর্জিয়াতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে মদত জুগিয়েছে ক্রেমলিনকে শায়েস্তা করতে, তেমনই রাশিয়াও এখন মার্কিনিদের তাঁদের ওষুধই ফিরিয়ে দিচ্ছে তাঁদের নির্বাচনের দফারফা করার প্রয়াসের মধ্যে দিয়ে।

রাশিয়া আগে মার্কিন রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাত না, কিন্তু ইদানিংকালে ঘামাচ্ছে

তবে এই প্রবণতাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া কিন্তু অতীতে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সেভাবে মাথা ঘামাতো না। যা কথাবার্তা হতো বেশিরভাগটাই রাষ্ট্রস্তরে। কিনতু অবস্থার পরিবর্তন ঘটে ২০১১-১৩ সাল নাগাদ। সে সময়ে রাশিয়াতে যে গণতান্ত্রিক বিপ্লব শুরু হয়, তাতে পুতিনের ধারণা দৃঢ় হয় যে আমেরিকায় পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে তাঁকে গদিচ্যুত করার জন্য। তখন থেকেই ক্রেমলিন পাল্টা কৌশল সাজাতে শুরু করে।

ইন্টারনেটের গুরুত্ব বুঝে 'অনলাইন বিদেশনীতি' প্রণয়নে মনোনিবেশ করে। পশ্চিমের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি সম্পর্কে মস্কোর আগ্রহ বাড়ে। ইতিমধ্যেই, পুতিনের রাশিয়া বিশ্ব রাজনীতির নানা বিষয়ে নানা ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে।

পাশাপাশি, তারা জোরকদমে শুরু করে দেয় এই 'অনলাইন বিদেশনীতির' কাজও। আর এদিকে ওবামা প্রশাসন যতটাই ঔদাসীন্য দেখাতে শুরু করে বিশ্বরাজনীতিৰ নানা বিষয়ের প্রতি, পুতিন ততই সেই শূন্যতা ভরাটের চেষ্টায় আরও সচেষ্ট হতে থাকেন। এমনকি শোনা যায়, পুতিনের যিনি বর্তমান উপদেষ্টা, সেই ইগর দিভেকিন এখন মার্কিন নির্বাচনের উপর জড়ো করা যাবতীয় তথ্য দেখভালের দায়িত্বেও রয়েছেন। সুতরাং, বোঝাই যাচ্ছে ঘটনার গুরুত্ব।

আমেরিকার যে সমস্ত এই সমস্ত ঘটনায় ত্রস্ত, তাঁদের পক্ষে অবশ্য একটি সুখবর রয়েছে এবং তা হল ট্রাম্পের সাম্প্রতিকতম স্ক্যান্ডাল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ মনে করেন এই শেষোক্ত কেলেঙ্কারি থেকে বেরিয়ে আসার সময় ট্রাম্প আর পাবেন না এবং আগামী মাসের নির্বাচনে জিতবেন হিলারিই।

সেক্ষেত্রে রাশিয়ানদের সব পরিকল্পনাই বিফলে চলে যাবে।

More russia NewsView All

English summary
More than Donald Trump's lewd remarks tape, formal accusation of russia's intrference in US election is a bigger danger
For Daily Alerts

Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more