ক্রমেই করোনার অন্যতম প্রধান ভরকেন্দ্র হয়ে উঠছে ভারত! দীর্ঘ লকডাউনেও কেন মিলল না সুফল ?
ক্রমেই করোনার অন্যতম ভরকেন্দ্র হয়ে উঠছে ভারত। ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ লক্ষের গণ্ডিও পার করেছে। তারসাথে শুধুমাত্র সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃতের নিরিখে বিশ্বের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত। কিন্তু আচমকাই কি ভাবে করোনা গ্রাসে তলিয়ে গেল ভারত?

চার সপ্তাহেই আমেরিকাকে টপকে শীর্ষ স্থানে পৌঁছৈাবে ভারত
বিশেষজ্ঞরা স্পটতই বলছে ভারত যে গতিতে এগোচ্ছে তাতে খুব বেশি হলে আর চার সপ্তাহের মধ্যে সামগ্রিক আক্রান্তের বিচারেও আমেরিকাকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করে নেবে। এদিকে কয়েক সপ্তাহ আগেই ব্রাজিলকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। এদিকে শীর্ষ তিন দেশেই করোনা মোকাবিলায় বরাবরই সমালোচনার মুখে পড়েছে রাষ্ট্রপ্রধানদের ভূমিকা।

প্রশ্নের মুখে রাষ্ট্রপ্রধানদের ভূমিকা
প্রসঙ্গত উল্লেখ, করোনা সংক্রমণের নিরিখে বিশ্বের শীর্ষ তিন রাষ্ট্র আমেরিকা, ভারত ও ব্রাজিল রয়েছে ডানপন্থী সরকার। এই তিন দেশেই করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই একাধিক বিধিনিষেধ লাঘুর ক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদী ও জেইর বলসোনারোর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যদিও করোনা রুখতে শুরু থেকেই মোদী মাস্ক পড়ার উপর জোর দিলেও ট্রাম্প ও বলসনেরার এই ক্ষেত্রে বেশ কিঠুটা অনিহা দেখা যায়।

লকডাউন ও করোনা বিধি মেনে আনলক পর্বেও মেলেনি সুফল
এদিকে একটানা লকডাউনের ভারত সহ কোনও দেশেই বিশেষ সুফল মিলতে দেখা যায়নি। তবে এই ক্ষেত্রে খানিকটা হলেও ভিন্ন ফলাফল দেখা যায় নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে। এদিকে পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে ভারতে লকডাউনের শুরুতে মানুষের মধ্যে যতটা করোনা আতঙ্ক কাজ করছিল সময় যত গড়িয়েছে ততই লকডাউন উপেক্ষা করে বাইরে বেরোতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে। কোভি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে দেশব্যাপী লকডাউনের শেষ দিন অর্থাত্ মে মাসের ৩১ তারিখ দেশে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭৮৯। জুলাইয়ের ২৯ তারিখে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭ হাজারের গণ্ডিতে। এখনও করোনা বিধি মেনে আনলক পর্ব জারি থাকলেও ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রত্যহই প্রায় ১ লক্ষের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে।

ঘন জনবসতির কারণেই আরও বেশি প্রাদুর্ভাব
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা একাধিক সেরো সার্ভের তথ্য তুলে ভারতের ঘন জনবসতিকেই সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তের পিছনে অন্যতম বড় কারণ বলে দাবি করছেন। এই ক্ষেত্রে একাধিক আর্থ-সামাজিক মাপকাঠির উপরেও জোর দিচ্ছেন অনেকে। উচ্চ আয়ের পরিবারের থেকে কম মাসিক আয়ের পরিবার গুলিই করোনা ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মত তাদের। ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকা ঘর, বাথরুমের অপ্রতুলতা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব দেশের একাধিক গরিব রাজ্যে করোনাকে ঝাঁকিয়ে বসতে অনেকটাই সুবিধা করে দিয়েছে। বস্তি এলাকা গুলিতোও উত্তোরত্তোর বেড়েই চলেছে করোনার প্রাদুর্ভাব।

প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের করোনা বিরোধী কর্মসূচী
এদিকে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে ভারতের দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কঙ্কালসার চেহারাটাও বারবার সামনে চলে আসছে। যার ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে গ্রামাঞ্চলে গুলিতে। ডাক্তারের পাশাপাশি বেশিরভাগ জায়গাতেই নেই নূন্যতম চিকিত্সা পরিকাঠামো। যার জেরে ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ডের মতো তুলনামূলক ভাবে গরিব রাজ্যগুলিতে ক্রমেই বাড়ছে করোনার প্রকোপ। উল্টোদিকে সরকারের যুক্তি আগের থেকে করোনা টেস্টের পরিমাণ বাড়াতেই আক্রান্তের এই সংখ্যাধিক্য চোখে পড়ছে।


Click it and Unblock the Notifications
