মুম্বই টেস্টে বিরাট জয়ে অনন্য রেকর্ড কোহলির, অশ্বিন-আজাজরা গড়লেন কোন কোন নজির?
কানপুর টেস্টে ভারতীয় বোলাররা ৫২টি বলে একটি উইকেট তুলতে না পারায় ম্যাচ ড্র রাখতে সক্ষম হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। যদিও ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জেতা দূরের কথা, ৩৩ বছর ধরে এ দেশে কিউয়িদের টেস্ট জিততে না পারার রেকর্ডটি অক্ষতই রইল। ভারত যেমন বিরাট জয় আদায় করে সিরিজ জিতে বিশ্বের ১ নম্বর টেস্ট দল হলো, তেমনই আজাজ প্যাটেলের ১০ উইকেট নেওয়ার মহাকীর্তির পরেও একাধিক লজ্জার নজির রইল টেস্টের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য।

রেকর্ড ব্যবধান
মুম্বই টেস্টে ভারত জিতল ৩৭২ রানে। টেস্ট ক্রিকেটে এটি ভারতের রানের নিরিখে সর্বাধিক ব্যবধানে জয়। ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দিল্লি টেস্টে ৩৩৭ রানে হারিয়েছিল ভারত। সেই রেকর্ড এদিন ভেঙে গিয়েছে। এই প্রথম টেস্টে এত রানে হারল কিউয়িরা। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল ৩৫৮ রানে। রানের নিরিখে টেস্টে সবচেয়ে বড় জয়ের নজিরটি অবশ্য ইংল্যান্ডের দখলেই রয়েছে। ১৯২৮ সালে ব্রিসবেন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৬৭৫ রানে হারায় ইংল্যান্ড। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের তালিকায় ভারতের এই জয়টি রইল ২০ নম্বরে।
|
দেশের মাটিতে ৩০০ উইকেট!
চলতি বছরে চতুর্থবার এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে ৫০টি উইকেট পাওয়ার নজির গতকালই গড়েছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি আজ একটি উইকেট পাওয়ায় দেশের মাটিতে টেস্টে ৩০০তম টেস্ট উইকেটটি পেলেন। অশ্বিনের সামনে ভারতীয়দের মধ্যে এখন শুধু অনিল কুম্বলে। ৬৩টি টেস্টে অনিল কুম্বলে ৩৫০টি উইকেট পেয়েছেন দেশের মাটিতে। মুথাইয়া মুরলীধরন দেশের মাটিতে ৭৩টি টেস্টে ৪৯৩ উইকেট দখল করে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। ৯৫টি টেস্টে ইংল্যান্ডের জেমস অ্যান্ডারসন দেশের মাটিতে ৪০২টি উইকেট পেয়েছেন। তিনে আছেন কুম্বলে। স্টুয়ার্ট ব্রড (৮৫ টেস্টে ৩৪১ উইকেট) এবং শেন ওয়ার্ন (৬৯ টেস্টে ৩১৯ উইকেট)-এর পরেই রইলেন অশ্বিন। দেশের মাটিতে ৩০০ উইকেটপ্রাপ্তির নিরিখে দ্রুততম হিসেবে শীর্ষে রয়েছেন মুরলী, তাঁর লেগেছিল ৪৮টি টেস্ট। একটি টেস্ট বেশি লাগল অশ্বিনের। কুম্বলে, ওয়ার্ন, অ্যান্ডারসন ও ব্রডের লেগেছিল যথাক্রমে ৫২, ৬৫, ৭১ ও ৭৬টি টেস্ট।

অশ্বিনের আরও নজির
রবিচন্দ্রন অশ্বিন এই নিয়ে টেস্টে নবমবার সিরিজ-সেরা হলেন। মুথাইয়া মুরলীধরন টেস্টে সবচেয়ে বেশি ১১ বার ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়েছেন। অশ্বিনের আগে ৯ বার দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক কালিস টেস্টে সিরিজ-সেরা হয়েছেন। মুম্বই টেস্টে অশ্বিন দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪২ রানের বিনিময়ে ৮ উইকেট পেলেন। ইনিংসে পাঁচ উইকেট না পেয়েও এতগুলি উইকেটপ্রাপ্তির নিরিখেও ভারতীয় হিসেবে নজির গড়েছেন অশ্বিন। ২০০২ সালে শারজায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও ইনিংসে ৫ উইকেট না পেয়েও ৮ উইকেট পেয়েছিলেন একমাত্র শেন ওয়ার্ন, তিনি খরচ করেছিলেন ২৪ রান। ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭ সালের পর ফের অশ্বিন ক্যালেন্ডার ইয়ারে ৫০ বা তার বেশি উইকেট (৮ টেস্টে ৫২) পেলেন। শেন ওয়ার্ন ৮ বার, মুরলীধরন ৬ বার ও গ্লেন ম্যাকগ্রা ৫ বার এই নজির গড়েছেন। স্যর রিচার্ড হ্যাডলি মুম্বই টেস্টেই দুই দলের সাক্ষাতের ৬৫তম উইকেট পেয়েছিলেন। সেই রেকর্ড এদিন ভেঙে ৬৬তম উইকেট পেলেন অশ্বিন।
|
আজাজের কীর্তি
জিম লেকার ও অনিল কুম্বলে ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন, তাঁদের দল জিতেছিল। এই প্রথম কোনও ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েও সেই বোলারের দল হারল। আজাজ প্রথম ইনিংসে ১০ উইকেট পেয়েছিলেন। লেকার ও কুম্বলে পেয়েছিলেন দ্বিতীয় ইনিংসে। ম্যাচে ১৯টি উইকেট নিয়ে কোনও টেস্টে সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ড জিম লেকারের দখলেই রয়েছে। আজাজ ২২৫ রান দিয়ে ১৪ উইকেট পেলেও নিউজিল্যান্ড হারায় একটি নজিরও হলো। ১৯৯৯ সালে কলকাতা টেস্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৩২ রানে দুই ইনিংসে ১৩ উইকেট নিলেও ভারত হেরেছিল। শ্রীনাথের সেই রেকর্ডটি ভাঙলেন আজাজ। ১৯৮৩ সালে আমেদাবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৮৩ পানে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন কপিল দেব। সেই টেস্ট ভারত হেরেছিল। আজাজ প্রথম ইনিংসে ভারতের ১০ উইকেট তুলে নিলেও হারল কিউয়িরা। তবে আজাজকে এদিন স্মারক হিসেবে ভারতীয় দলের তরফে সকলের সই করা জার্সি উপহার দেওয়া হয়েছে।

আইসিসি টুর্নামেন্টে
ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজ আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্গত। মুম্বই টেস্টে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার আগে ভারত আইসিসি ইভেন্টে শেষবার কিউয়িদের হারিয়েছিল ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে সেঞ্চুরিয়নে। তারপর থেকে এই টেস্টটি ধরলে ৮টির মধ্যে ৭টি ম্যাচেই পরাজিত হয় ভারত। এমনকী এবারের টি ২০ বিশ্বকাপে কিউয়িদের কাছে ৮ উইকেটে পরাজয়ই ভারতের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications