করোনা-যুদ্ধে ফের দাদার সৈনিকরা, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর দিলেন সৌরভ
ফের করোনাযুদ্ধে দাদার সৈনিকরা। বাংলার আটটি জেলায় রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে কোভিড কেয়ার প্রকল্প। এই মানবিক প্রকল্পের অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছেন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ফের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এগিয়ে এলেন করোনা-যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে।

মানবিক সৌরভ
গত বছর করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষজনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। দুঃস্থ, অসহায়, ভবঘুরেদের জন্য অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন। ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন, ইস্কন-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুঃস্থ ও সঙ্কটাপন্নদের মধ্যে চাল বিলি করেছিলেন মহারাজ। ইস্কনের মাধ্যমে লকডাউনে কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়দের জন্যও খাবার বিলির ব্যবস্থা করেছিলেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ফাউন্ডেশন কোভিড-যোদ্ধাদের পাশেও নানাভাবে দাঁড়িয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য পিপিই কিটের বন্দোবস্তও করেছিলেন। শুধু তাই নয়, আমফান বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে তাঁর টিমের মাধ্যমে নীরবে ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছিলেন সৌরভ। যদিও তিনি নিজে সব সময়ই প্রচারবিমুখই থেকেছেন এইসব মানবিক উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে।

মহারাজকীয় নেতৃত্ব
বাংলা তথা গোটা দেশে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এই কঠিন লড়াইয়ের মোকাবিলায় ফের এগিয়ে এলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অক্সিজেনের হাহাকার চলছে চারদিকে। এই পরিস্থিতিতে আপাতত আটটি জেলায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। রবিবার থেকেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের তরফে দেওয়া অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের মাধ্যমে প্রাণবায়ু সংগ্রহ করতে পারবেন মুমূর্ষুরা।

কোভিড কেয়ার
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে গুরু বলে অভিহিত করেন বাংলার অন্যতম নামি ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত। পেলে, দিয়েগো মারাদোনাদের বাংলার মাটিতে নিয়ে আসার অন্যতম প্রধান কারিগর। ক্রীড়া সংগঠক হলেও সমাজসেবার কাজে বরাবরই নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। শতদ্রু দত্ত জানালেন, সৌরভ গাঙ্গুলি ফাউন্ডেশন, পার্থ জিন্দালের জেএসডব্লিউ গ্রুপ এবং আমি, সম্মিলিতভাবে সীমিত সাধ্য অনুযায়ী কোভিড কেয়ারের এই প্রকল্প নিয়েছি। আপাতত ৩৫ দিন ধরে চলবে এই প্রকল্প। এই প্রকল্পকে অল্প সময়ের মধ্যে দিনের আলো দেখানোর জন্য শতদ্রু দত্তর সঙ্গে জেএসডব্লিউ গ্রুপের জোনাল হেড সূর্যয়ন মুখোপাধ্যায়ও রাত-দিন এক করে কাজ করছেন। আর কয়েক ঘণ্টা পরেই সেই প্রকল্প শুরু হয়ে যাবে। দেশ তথা বিদেশ থেকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনেক অনুগামীও সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

কীভাবে হবে
আপাতত আটটি জেলায় রবিবার থেকেই চালু হয়ে যাচ্ছে এই প্রকল্প। জেলাগুলি হলো দুই মেদিনীপুর, দুই চব্বিশ পরগনা, হুগলি, বর্ধমান, হাওড়া ও কলকাতা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শালবনীতে ৩০ শয্যার একটি সেফ হোম করা হচ্ছে। বাসে অক্সিজেন পার্লারের যে ব্যবস্থা হচ্ছে তাতে একসঙ্গে ৪০ জনকে অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়াবে বেশ কিছু অ্যাম্বুল্যান্স ও গাড়ি। এতেও যেমন অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকবে, তেমনই করোনা আক্রান্তদের বাড়িতে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হবে। আয়োজন করা হবে রক্তদান শিবিরেরও। সবমিলিয়ে দাদা-ভক্ত স্বেচ্ছাসেবকরা ময়দানে নামছেন মানবিক উদ্যোগকে সফল করার লক্ষ্যে।












Click it and Unblock the Notifications