AUS vs IND: আত্মত্যাগ ও পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে ক্রিকেটার তৈরি করেছেন নীতীশকে, ছেলের শতরানে চোখে জল বাবার
মেলবোর্নের মাঠে শতরান করলেন নীতীশ কুমার রেড্ডি, গ্যালারিতে আবেগে-উচ্ছাসে ভাসলেন তাঁর পিতা মুত্যালা রেড্ডি । আজ নীতীশ যে উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন তার নেপথ্যেরে সেনানী হলেন মুতিয়ালা রেড্ডি। অনেক আত্মত্যাগ পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে তিল তিল করে ছেলেকে ক্রিকেটার তৈরি করেছেন। টিভির পর্দায় নয় ছেলের অনন্য কীর্তির সাক্ষী থাকলেন বাবা গ্যালারিতে বসেই।
ছেলেকে ক্রিকেটার তৈরি করতেই হবে। নিজের চাকরিই ছেড়ে দিয়েছিলেন মুত্যালা রেড্ডি । বিশাখাপত্তনমে হিন্দুস্তান জিঙ্কের কর্মী ছিলেন নীতীশের পিতা। কিন্তু ২০১২ সালের মার্চ মাসে হঠাৎ করেই কোম্পানিটি ওই শাখা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কারখানার অনেক কর্মী চাকরি চলে যায়। মুত্যালা রেড্ডিকে বদলি করা হয় রাজস্থানের উদয়পুরে। ছেলের থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়। এক লহমায় চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় নীতীশের বাবা।

জানা গিয়েছে কৃষক পরিবারের সন্তান ছিলেন মুত্যালা রেড্ডি । তাঁর একুকেশন কেরিয়ার নিয়ে খুব বেশি জানা যায় নি। একটাই জেদ ছেলেকে ক্রিকেটার বানাবেন। তাই ছোট থেকেই নীতীশের ছায়াসঙ্গী তাঁর বাবা। পরিবারের বাকিদের কথায় কানই দেননি। চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর পুরো সময়টা দিয়েছেন ছেলের জন্য।
ক্রিকেটে রাজনীতি ভালোভাবেই জানতেন কেমন হয়। ক্রিকেট রাজনীতির নাগপাশ থেকে ছেলেকে বাঁচাতে সারাক্ষণ সঙ্গে থেকেছেন। দিনের পর দিন স্বপ্ন দেখে গিয়েছেন। অবশেষে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে বাবার স্বপ্নকে আগেই সত্যি করেছে নীতীশ। আর ঐতিহাসিক মেলবোর্নে শতরান করে পিতার আজীবনের কষ্ট-পরিশ্রমকে সার্থক করলেন বছর ২১-র নীতীশ।
শনিবার সকালে যখন থেকে নীতীশ ব্যাট করতে শুরু করেছেন তখন থেকেই গ্যালারি থেকে গলা ফাটানো শুরু করেছেন। প্রথমে অর্ধশতরান করেন নীতীশ। এর পর প্রবল চাপের মধ্যে শতরান করলেন। নাটকীয়ভাবে সেঞ্চুরি করার পর মন্দ আলোর জন্য খেলা বন্ধ হয়ে যায়। সাজঘরের দিকে ফিরে আসছিলেন নীতীশ। গ্যালারি থেকে জোরে জোরে ছেলেকে ডেকে যাচ্ছিলেন। সেই শব্দ হয়ত নীতীশের কানে পৌঁছালো না, কিন্তু নীতীশও যেন গ্যালারিতে খুঁজছিলেন তাঁর পিতাকে।
The emotions of Nitish Kumar Reddy's father at the MCG. 🥹❤️ pic.twitter.com/rDSmIJ0w3J
— Mufaddal Vohra (@mufaddal_vohra) December 28, 2024
ছেলে শতরান করতেই বাবার উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের অবসান, অঝোরে কেঁদে যাচ্ছিলেন। আবেগ যেন বাঁধ মানছিল না। ছেলে শতরান করেছেন তাও টেস্টে বাবার আনন্দ যে আজ সবথেকে বেশি। ছেলের শতরানের পর সাংবাদিকদের মুত্যালা রেড্ডি বলেন, আজ আমাদের বিশেষ দিন। প্রথম আন্তর্জাতিক শতরান করল নীতীশ। আমরা আজ খুব খুশি। ছেলের শতরানের পর চোখের কোণে জল নিয়ে নীতীশের মা বলেন, আজ আমরা যেমন খুশি তেমনই আবেগপ্রবণও হয়ে গিয়েছেষ কথা বলার ভাষা নেই।












Click it and Unblock the Notifications