বাইশ গজে লিঙ্গ নিরপেক্ষ শব্দ ব্যবহারে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন সংশোধনে নয়া ইতিহাস
লিঙ্গ নিরপেক্ষ শব্দ ব্যবহারে আইনে পরিবর্তন আনল ঐতিহ্যের মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব।
শব্দ নিয়ে আইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনল মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব। বুধবার ঐতিহ্যের এমসিসির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে হয়েছে লিঙ্গ নিরপেক্ষতার নিরিখে এবার থেকে ব্যাটসম্যানদের (Batsman or Batsmen) ব্যাটার (Batter or Batters) বলে সম্বোধন করা হবে। মহিলা ক্রিকেটের ক্রম-উন্নয়নের মুখে এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক বলে ক্রিকেট মহলের দাবি। এতে লিঙ্গ বৈষম্য অনেকটাই দূর করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

মেরিলেবোন ল সাব কমিটি এই বিষয়টি প্রস্তাব আকারে পেশ করেছিল। সেটি মেনে নিতে দ্বিধা করেনি এমসিসি কমিটি। বুধবার এক বিবৃতি জারি করে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের তরফে জানানো হয়েছে যে তারা বিশ্বাস করে লিঙ্গ নিরপেক্ষতার মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটের মানোন্নয়ন সম্ভব। নিরপেক্ষভাবে ভেবেই পুরনো আইন সংশোধন করে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য ইতিমধ্যেই ক্রিকেটের বিভিন্ন গভর্নিং বডি ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাটার বা ব্যাটার্স শব্দটি বহুলভাবে প্রচারিত। এমসিসি-র সিলমোহর পড়ে যাওয়ায় এই শব্দের ব্যবহার আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বজনীন হল বলা চলে।
উল্লেখ্য ২০১৭ সালে হওয়া শেষ রেডরাফ্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা বা আইসিসির সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে ব্যাটসম্যান বা ব্যাটসমেন শব্দে পরিবর্তন আনার কোনও প্রয়োজন নেই। সেভাবে আইনও বলবৎ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মহিলা ক্রিকেটের রমরমা ও মানুষের আগ্রহ লক্ষ্য করেই মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের তরফে এ সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন থেকে ব্যাটসম্যান বা ব্যাটসমেনের পরিবর্তে ব্যাটার বা ব্যাটার্স শব্দটিই সবর্জনীনভাবে ব্যবহার করা হবে।
MCC has today announced amendments to the Laws of Cricket to use the gender-neutral terms “batter” and “batters”, rather than “batsman” or “batsmen”.
— Marylebone Cricket Club (@MCCOfficial) September 22, 2021
ব্যাটসম্যান বলতে যে পুরুষ ক্রিকেটারদেরই বোঝা যায়, তা নিয়ে তর্কের প্রয়োজন নেই। তাতে বাইশ গজ ও সবুজ মাঠ দাঁপিয়ে বেড়ানো মহিলা ক্রিকেটারদের সঙ্গে কিছুটা হলেও লিঙ্গ বৈষম্যমূলক অবিচার করা হচ্ছে বলে বেশ কয়েক বছর ধরেই বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনা চলছে। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে হওয়া মহিলাদের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তাই যার মূল কারণ। ঘরের মাঠ ঐতিহ্যবাহী লর্ডসে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলতে নেমেছিল ইংল্যান্ডের মহিলা ক্রিকেট দল। ভারতকে হারিয়ে ওই বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল হোম টিম। হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচ উপলক্ষ্যে লর্ডসে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
এরপর থেকে মহিলা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার গ্রাফ কেবলই উর্ধ্বমুখে এগিয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে শব্দ চয়ণে লিঙ্গ নিরপেক্ষতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব। মহান ভাবনার প্রতিফলনও ঘটিয়ে ফেলল ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠান।












Click it and Unblock the Notifications