বাংলার মহিলা ক্রিকেটের সাপ্লাই লাইনে জোর অভিষেকের, এনসিসির অভিনব টুর্নামেন্টের ফাইনালে চাঁদের হাট
NCC Budding Women's T20 Challenger Cup 2024: আইপিএল উত্তাপ কলকাতায়। ইডেনে যখন কলকাতা নাইট রাইডার্স ও পাঞ্জাব কিংস মহড়া সারছে, তখন হাওড়ার গুলমোহরে হয়ে গেল অভিনব ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ফাইনাল।
এনসিসি বাডিং উইমেন্স টি২০ চ্যালেঞ্জার কাপের ফাইনালে মা সারদা ৯ উকেটে রানি রাসমণিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো।

প্রবাদপ্রতিম ক্রিকেট প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়ার সহধর্মিণী চন্দ্রলেখা ডালমিয়া। মায়ের স্মৃতি রক্ষার্থে পুত্র অভিষেক ডালমিয়া অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। বাংলার মহিলা ক্রিকেটের সাপ্লাই লাইনের কথা মাথায় রেখে এনসিসির অভিনব এই ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আয়োজন। ফাইনাল হলো নৈশালোকে।
অভিষেক এখন আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য। আইপিএল চলার মধ্যে তাঁর তুমুল ব্যস্ততা। তবে শয়নে-স্বপনে-জাগরণে বাংলার ক্রিকেটের উন্নতিসাধনই তাঁর ভাবনা। ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলে বাংলার ক্রিকেটারদের উপস্থিতি যেমন বাড়ছে, তেমনই WPL-এতেও নজর কাড়ছেন বাংলার ক্রিকেটাররা।
তবে অভিষেকদের উদ্যোগে যে টুর্নামেন্টটি হলো তাতে যে ১৩০ জনের বেশি ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পেলেন, তাঁদের কারও গায়েই ওঠেনি বাংলার জার্সি। বাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিভা অন্বেষণ করে তাঁদের নিজেদের দক্ষতা মেলে ধরার মঞ্চই হলো এই টুর্নামেন্ট। আলো, আতসবাজিতে তা যেন মিনি WPL।
এই প্রতিযোগিতার লিগ পর্বের খেলাগুলি হয়েছে রাজস্থান ক্লাবে। ফাইনাল হলো গুলমোহর মাঠে। রানি রাসমণি টস জিতে ব্য়াট করতে নেমে ১৯ ওভারে ৫৭ রানে গুটিয়ে যায়। লিজা রায় করেন ১০। দেবারতি গুহ ৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। জবাবে ১১.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মা সারদা। শময়িতা অধিকারী ৩৮ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেলেন দেবারতি। টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটার শময়িতা। তাঁকে ব্যাট ও ব্যাটিং প্যাড পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টের সেরা বোলার রামনদিতা খাতুন, তাঁকে দেওয়া হলো বোলিং করার জুতো। সেরা ফিল্ডার রিয়া গোস্বামী ও সেরা উইকেটকিপারের পুরস্কার পেলেন রিয়া রায়।
মা সারদার পাওয়ারহিটার শময়িতা অধিকারী ২২৫ রান করে টুর্নামেন্টের সেরার পুরস্কারটিও পেলেন। তাঁকে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার গার্গী বন্দ্যোপাধ্যায় ৫ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার প্রদান করেছেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অভিষেক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ। লিগ পর্বের ম্যাচগুলির সেরা ক্রিকেটারদের পুরস্কার এদিন প্রদান করার পাশাপাশি তাঁদের উৎসাহিত করা হয়।
অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের পক্ষে ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম কিনে দেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিভা মেলে ধরার মঞ্চও ঠিকভাবে মেলে না। এই পরিস্থিতিতে এনসিসি যেভাবে বাংলার মহিলা ক্রিকেটের সাপ্লাই লাইন তৈরির কাজে এগিয়ে এলো, তা দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।












Click it and Unblock the Notifications