আইপিএলে ব্যবহৃত এলইডি স্টাম্পের জন্ম কোথায়? দাম অনেক তারকার বেতনের চেয়েও বেশি
আইপিএলে ব্যবহৃত হচ্ছে এলইডি স্টাম্প। উইকেটে বল লাগলেই আলো জ্বলে ওঠে। বেশ কিছু সুবিধার জন্যই এই উইকেট ও বেল ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এই এলইডি স্টাম্পের দাম চমকে দেওয়ার মতো। অনেক ক্রিকেটারের আইপিএল বেতনের চেয়েও বেশি!
এমনকী আইপিএলে প্রতিটি ম্যাচের শেষে যে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচকে পুরস্কৃত করা হয়, সেই পুরস্কারমূল্যের চেয়েও এলইডি স্টাম্পের দাম ৫০ থেকে ৭০ গুণ বেশি।

আইপিএলের ম্যাচে দুই প্রান্তে তিনটি করে উইকেট থাকে। অর্থাৎ প্রতিটি ম্যাচে দুই সেট স্টাম্প লাগে। জানা যাচ্ছে, একেকটি সেটের এলইডি স্টাম্পের দাম ২৫ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার মধ্যে। ফলে দুই দিকের ৬টি উইকেটের দামই দাঁড়াচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ লক্ষ টাকার মধ্যে।
আইপিএলে অনেক ক্রিকেটারই রয়েছেন যাঁদের বিভিন্ন আইপিএল দল নিয়েছে ৫০ লক্ষ বা তারও কম টাকায়। ২০ লক্ষ টাকাতেও অনেকেই আইপিএলের দল পেয়েছেন। অজিঙ্ক রাহানেকে ৫০ লক্ষ টাকায় নিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। ফলে দেখা যাচ্ছে, রাহানে-সহ অনেক ক্রিকেটারের আইপিএল বেতনের চেয়েও দাম বেশি এলইডি স্টাম্পের।

আগে ক্রিকেট খেলায় ব্যবহৃত হতো কাঠের উইকেট। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এখন এসেছে এলইডি স্টাম্প। প্রথমে উইকেটের বেলে এলইডি আলোর বন্দোবস্ত ছিল। পরবর্তীকালে উইকেটেও সেই ধরনের আলো লাগানো হচ্ছে। ফলে পুরো স্টাম্পেই রয়েছে এলইডি আলো।
এই ধরনের এলইডি স্টাম্পের অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এতে বল লাগলেই আলো জ্বলে ওঠে। ফলে রান আউট কিংবা স্টাম্পিংয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হতে তৃতীয় আম্পায়ারদেরও অনেকটাই সুবিধা হয়। অনেক সময় বল লাগার আগে ক্রিকেটারদের হাত উইকেটে লাগতে পারে। তৃতীয় আম্পায়ার এই আলোর সৌজন্যে বুঝতে পারেন আগে বল লাগল, নাকি হাত।
এলইডি স্টাম্পের জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়। অস্ট্রেলিয়ার ইঞ্জিনিয়ার ব্রন্টে একারম্যান জিং বেল আবিষ্কার করেন মেয়ের খেলনায় এলইডি লাইট দেখে উইকেটেও এই ধরনের লাইট লাগানোর ভাবনা তাঁর মাথায় আসে। তাঁরই সংস্থা জিং ইন্টারন্যাশনাল জিং উইকেট সিস্টেম বাজারে আনে। একারম্যান ওই সংস্থার ডিরেক্টর।

বেলগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় লো ভোল্টেজ ব্যাটারির মাধ্যমে। বেল ও স্টাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলো কিনা তা বোঝা যায় মাইক্রোপ্রসেসরের মাধ্যমে। বেলের আলো জ্বলে উঠতে সময় লাগে এক সেকেন্ডের ১০০০ ভাগের ১ ভাগ। oscillator circuit-এর মাধ্যমে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করা হয়।
স্টাম্পের উপরে ধাতব অংশ থাকে। সেখানে বেল বসানো থাকে। প্রযুক্তিগত নানা বিষয়ের মাধ্যমে উইকেট থেকে বেল বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে যাতে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। ২০১৩ সালে জিং উইকেট সিস্টেম ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিল আইসিসি।
অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশ লিগে এর সফল ব্যবহার দেখে বাংলাদেশে টি ২০ বিশ্বকাপে এই ধরনের স্টাম্প ও বেল প্রথম ব্যবহার করেছিল আইসিসি। দর্শকদের কাছ থেকে বটেই, ক্রিকেটারদের থেকেও ইতিবাচক সাড়া পায় আইসিসি। ধীরে ধীরে উইকেটের সেই প্রযুক্তি এখন আরও উন্নত হয়েছে। ক্লোজ রান আউট বা স্টাম্পিং বোঝা যাচ্ছে সহজেই।
আইপিএলের সব খবরের আপডেট, স্কোর, স্ট্যাটিসটিক্স, ছবি, ভিডিও একনজরে












Click it and Unblock the Notifications