Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

হরমনপ্রীত কি পারবেন কপিল হতে? ফের এক নতুন গৌরবের দ্বারপ্রান্তে ভারতীয় ক্রিকেট

১৯৮৩ সালের ২৫ জুন ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট চিরতরে পাল্টে গিয়েছিল। লর্ডসে বিশ্বকাপ ফাইনালে কপিল দেবের নেতৃত্বে ভারতের জয় একটি খেলাকে জাতীয় আবেগে পরিণত করেছিল। ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর, হরমনপ্রীত কউরের দলের সামনে সেই একই সুযোগ রয়েছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে চিরতরে পাল্টে দেওয়ার। নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার সুযোগ এখন তাঁদের হাতে।

যখন অমনজোত কউর, জেমিমা রডরিগেস জুটি বেঁধে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ভারতকে ঐতিহাসিক জয় এনে দিলেন, তখন এটি কেবল একটি অপ্রত্যাশিত ফল ছিল না। এটি ছিল এক বিরাট অধ্যায়ের সূচনার প্রাকমুহূর্ত।

পুরুষ ক্রিকেটে আশির দশকে ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেমন অপ্রতিরোধ্য ছিল, তেমনই মহিলা ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়াও এখন অদম্য শক্তি। অন্যদিকে, ভারত মহিলা ক্রিকেটে এক উজ্জ্বল দল।

হরমনপ্রীতের মতে, "একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের জীবনে এর চেয়ে বড় কিছু নেই।" একটি নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত মহিলা ক্রিকেট।

এদিন রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ভারতের মহিলা ক্রিকেট রূপান্তরিত হচ্ছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা পুরুষ সতীর্থদের সমান ম্যাচ ফি পাচ্ছেন। মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগ আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক মহিলাকে পেশাদার হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। পাঁচ বছর আগের তুলনায় মহিলা ক্রিকেট এখন আর ততটা অপরিচিত নয়। ফলে আশা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

যারা ইতিমধ্যেই ভারতের মহিলা ক্রিকেট অনুসরণ করেন, তারা এই ফলাফলের তাৎপর্য জানতেন। কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সেই রান তাড়া করা এবং এর পরের আবেগঘন উদযাপন রাতারাতি এক নতুন বিশ্ব তৈরি করেছে। এই ভাইরাল যুগে, যারা আগে মহিলা ক্রিকেট সম্পর্কে জানতেন না, তারাও ভারতের জয়ের ক্লিপস গ্রহণ এবং শেয়ার করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ভারতের মহিলা ক্রিকেটাররা প্রান্তিক পর্যায়ে ছিলেন। কম টাকায় খেলতেন এবং স্বল্প বাজেটের হোটেলে থাকতেন। ২০০৬ সালে বিসিসিআই-এর অধীনে আসার পরও খেলোয়াড়রা ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় চুক্তি পান। ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলি তখনও মানসম্মত ছিল না এবং বেশিরভাগ খেলোয়াড় তাদের ক্রিকেটের স্বপ্ন পূরণের জন্য রেলওয়েতে কাজ করতেন।

ইংল্যান্ডে ২০১৭ সালের মহিলা বিশ্বকাপ সবকিছু পাল্টে দেয়। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হরমনপ্রীতের ১৭১ রানের ইনিংসও পরিবর্তন এনেছিল। প্রথমবারের মতো, একটি মহিলা ম্যাচ দেশজুড়ে ট্রেন্ডিং হয় এবং লর্ডসে ফাইনালটি লক্ষ লক্ষ ভারতীয় দর্শককে আকর্ষণ করে। যদিও ভারত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হেরে যায়, তবে সেই পারফরম্যান্সের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

এটি খেলায় বিনিয়োগের পথ খুলে দেয়। কেন্দ্রীয় চুক্তিগুলি উন্নত করা হয়, কোচিং এবং সাপোর্ট স্টাফদের পেশাদার করা হয়, এবং ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণের সুবিধাগুলি পুরুষ দলের সমতুল্য করা হয়। সবশেষে ২০২৩ সালে মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগ চালু হয়।

১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয় সচিন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো এক তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ২০০৭ সালে, ভারতীয় পুরুষ দল উদ্বোধনী টি২০ বিশ্বকাপ জেতে। তারপর থেকে ভারতীয় ক্রিকেট ফিরে তাকায়নি।

ফলে এদিনের বিশ্বকাপ জয় শুধু হরমনপ্রীতকে কপিলের সমকক্ষ করবে না, মহিলা ক্রিকেটকে এবং সর্বোপরি দেশের নারী সমাজকে অনেকটা সামনের দিকে ঠেলে দেবে নিঃসন্দেহে। ফলে এখন অপেক্ষা ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপ ঘরে তোলার।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+